আকাশে শয়ে শয়ে উড়ন্ত চাকতি! ‘ইউএফও’? ভিনগ্রহীদের আনাগোনা নিয়ে বাড়ছে বিস্ময়

আকাশে শয়ে শয়ে উড়ন্ত চাকতি! ‘ইউএফও’? ভিনগ্রহীদের আনাগোনা নিয়ে বাড়ছে বিস্ময়

নিউ ইয়র্ক: সত্যিই কি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোনও এক ঠিকানায় লুকিয়ে রয়েছে ভিনগ্রহীরা? ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের নিয়ে মর্ত্যবাসীর কৌতুহল অন্তহীন৷ হালফিলে আমেরিকার আকাশে নাকি প্রচুর ‘ইউএফও’ বা ভিন্‌গ্রহীদের মহাকাশযানের দেখা মিলেছে। অন্তত তেমনটাই দাবি সে দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের।

আরও পড়ুন- চলছে শৈত্যপ্রবাহ, পড়শি দেশে কনকনে ঠান্ডায় মৃত্যু একাধিক শিশুর

আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের হেডকোয়ার্টার পেন্টাগনে সম্প্রতি নতুন একটি অফিস খোলা হয়েছে। সেই অফিসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অল-ডোমেন অ্যানোমালি রেজ়োলিউশন অফিস’ বা এএআরও। এই দফতরের কর্মীদের কাজ হল আকাশে ‘ইউএফও’ বা অচেনা বস্তুর হদিশ মিললেই তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখা। গত এক বছরে এএআরও যে  পরিসংখ্যান দিয়েছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো।

পেন্টাগনের ডিরেক্টর অফ ন্যাশানাল ইনটেলিজেন্স অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার আকাশে মোট ১৪৪টি ‘ইউএফও’ দেখা গিয়েছে৷ এগুলি সত্যিই কি ভিনগ্রহীদের মহাকাশযান? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা৷ পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বে সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না,  থাকলে তাঁদের কাছে পৃথিবীর অস্তিত্ব স্পষ্ট কিনা, বা কোনও কৌতূহল আছে কি না, সে সব খুঁটিনাটি জানতেই গড়ে উঠেছে এএআরও৷  

যদিও ইউএফও বা আকাশে অজানা উড়ন্ত চাকতির আনাগোনা আমেরিকায় আকাশে নতুন নয়। প্রায়ই কোনও না কোনও অজানা উড়ন্ত বস্তু চোখে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আর সেইসব উড়ন্ত চাকতির সঙ্গে নতুন করে উস্কে ওঠে ভিন্‌গ্রহীদের অস্তিত্বের জল্পনা। তবে ২০২১ সালের পর থেকে হঠাৎ করেই আমেরিকার আকাশে যেন ইউএফও-র  আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ। তবে কি পৃথিবী নিয়ে ভিনগ্রহীদের আগ্রহও বাড়ছে? 

ইউএফও

এএআরও-র পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কয়েকশো ‘ইউএফও’ –র সন্ধান মিলেছে আমেরিকায়৷ মাঝেমধ্যেই নানা প্রান্ত থেকে আজানা উড়ন্ত বস্তু চোখে পড়ার খবর মিলেছে। এবং তা এতটাই ঘন ঘন যে ভেঙে গিয়েছে আগের যাবতীয় রেকর্ড৷ এখন প্রশ্ন হল এই উড়ন্ত বস্তুগুলি কি সত্যিই ভিন্‌গ্রহীদের ‘ইউএফও’? সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই আজানা আলোর পিছনে আরও একটি রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে৷ চিন, রাশিয়া বা অন্য কোনও দেশ থেকে অজানা কোনও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমেরিকার উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন এএআরও-র আধিকারিকরা।

তবে আকাশে ঘন ঘন ‘ইউএফও’-র আনাগোনা আমেরিকার সামরিক বাহিনীর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। এতে দেশের নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে৷ সে কারণেই ‘ইউএফও’ চিহ্নিত করার প্রযুক্তি আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে পেন্টাগনের এএআরও। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভবিষ্যতে আমেরিকা বা চিনে তৈরি বেশ কিছু উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইলকে ‘ইউএফও’ বলে ভুল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিহ্নিতকরণের জন্য উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন।