×

‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’-এ ডেটা হরণ! লুকানো তথ্য হাতিয়ে অ্যাকাউন্টে হানা, ডিজিটাল দুনিয়ায় সাবধান

 
মোবাইল

কলকাতা: নতুন বছরের শুরুতেই একের পর এক অফার নিয়ে হাজির হেয়েছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি৷ যা বেশ লোভনীয়৷ পুরনো স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব বদলে জেন-নেক্টট প্রোডাক্ট ঘরে আনার পরিকল্পনা করছেন নাকি? তাহলে সতর্ক হয়ে যান এখনই৷ 

আরও পড়ুন- সস্তার ফোনে প্রচুর ডিসকাউন্ট! ক'দিন অপেক্ষা করলেই মিলবে হাফ দামে কেনার সুযোগ


সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভার্চুয়াল জগতে ‘ডিলিট’ বলে কোনও শব্দ নেই৷ আমরা মোবাইলে একবার যা টাইপ করি তা কোথাও না কোথাও থেকেই যায়৷ চিরতরে মুছে যায় না৷ আর পুরনো গ্যাজেটের সেই ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’-কে হাতিয়ার করেই আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হানা দিতে পারে সাইবার প্রতারকরা৷ আমাদের রাজ্যে ইতিমধ্যেই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টকে হাতিয়ার করে সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে৷ কোচবিহার থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি, মেদিনীপুর, বীরভূম এবং হাওড়ায় সাইবার প্রতারক চক্রের হদিশ মিলেছে৷ যাদের মূল টার্গেটে থেকেছে বাড়ির মহিলারা৷ সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা৷ সাইবার ক্রাইমের ক্ষেত্রে তাই অতি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এখন ‘ডিজিটাল ফুট প্রিন্ট’৷ এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে একেবারে সিঁদ কাটছে সাইবার সিঁধেলরা৷ 


কী ভাবে এই জাল বিছানো হচ্ছে? 


ধরুন আপনি যে স্মার্ট ফোনটি ব্যবহার করছেন, সেটির কার্যকাল এক থেকে দুই বছর৷ বড়জোড় ৩ বছর৷ তার পরই সেটি অকেজো হতে শুরু করে৷ ফোন অকেজো হয়ে গেলেও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের দৌলতে তাতে বহু তথ্যই থেকে যায়৷ থেকে যায় পাসওয়ার্ড সহ নেট ব্যঙ্কিংয়ের যাবতীয় তথ্য৷ গ্যালারিতে রাখা ব্যক্তিগত তথ্য থেকে ভোটার কার্ড, প্যান কার্ডের মতো সচিত্র পরিচয়পত্রের ছবিও থেকে যায় ফোনে৷ অদ্ভূত লাগলেও, মোবাইল আনলক করার জন্য যে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়া হয়, থেকে যায় সেটিও৷ ইউজাররা যে ইমেল ব্যবহার করেন, তাও স্টোর থেকে যায় সেটে৷ 


এই সকল গ্যাজেট পুরোপুরি নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সবটাই থাকে গা ঢাকা দিয়ে৷ সেই লুকনো তথ্যই হাতিয়ে নিয়েই অপরাধীরা থাবা বসাচ্ছে মানুষের সঞ্চয়ে৷ পুলিশের কাছে খবর রয়েছে, গত এক মাসে বিভিন্ন জেলায় পুরনো গ্যাজেট বিশেষত ব্যবহার না করা মোবাইল বা ল্যাপটপ কেনার জন্য একদল ফেরিওয়ালাকে নিয়োগ করেছে সাইবার চক্রীরা৷ দুপুরবেলা এই সব ফেরওয়ালাদের হাকডাক শোনা যাচ্ছে৷ পড়ে থাকা মোবাইল, ল্যাপটপের বিনিময়ে সামান্য কিছু অর্থ বা বাসনের টোপ দিচ্ছে তারা৷ এরা শুধু স্মার্ট ফোন কেনার ক্ষেত্রেই আগ্রহ দেখাচ্ছে৷ আর তাদের পাতা ফাঁদে সহজেই পা দিয়ে ফেলছেন বাড়ির মহিলারা৷ যাঁরা স্বামী কিংবা ছেলের পড়ে থাকা মোবাইল দিয়ে দিচ্ছেন এই সব ফরিওয়ালাদের হাতে৷ আর সেখান থেকেই তথ্য হাতিয়ে কাজ সারছে দুষ্টের দল৷ ফাঁকা হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট৷  


সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও সেট বাতিল করার আগে সেটি অন্তত  সাতবার ফরম্যাটিং করা প্রয়োজন৷ এতে কিছুটা নিরাপদে থাকা যায়৷ এছাড়া ওভাররাইটিং পদ্ধতিতে অর্থাৎ পুরনো তথ্যের উপর নতুন তথ্য দিয়ে, পুরনো তথ্য মুছে ফেলা হলে কিছুটা সমস্যার সমাধান হতে পারে৷ তবে সব থেকে ভালো হয় পড়ে থাকা সেটগুলি বিক্রি না করে তা ভেঙে ফেলা বা নষ্ট করে ফেলা৷ তাতে বিপদের কোনও ঝুঁকি থাকে না৷ 

From around the web

Education

Headlines