×

রাজসিক সমাধি সৌধে শায়িত হবেন পেলে, ১৪ তলার সমাধিস্থলে থাকবেন সম্রাট

 
পেলে

কলকাতা: রাজাহীন ফুটবল বিশ্ব৷ সকলকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন ফুটবল সম্রাট পেলে৷ ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তী৷ এবার তাঁর অন্তিম বিদায়ের পালা৷ নিজের জন্মভূমি সাওপাওলোতেই সামহিত করা হবে ফুটবল সম্রাটকে৷ 

আরও পড়ুন-জোড়া ক্যানসারে আক্রান্ত প্রাক্তন টেনিস কিংবদন্তী, ‘লড়াই করে ফিরব’, বিশ্বাসী নাভ্রাতিলোভা

সমাধিস্ত করার আগে শেষবারের মতো স্যান্টোসে নিয়ে আসা হয় ব্রাজিলীয় কিংবদন্তীর নিথর দেহ। এই ক্লাবে খেলেই ছেলেবেলা ও যৌবন কেটেছিল পেলের৷ চারাগাছ থেকে হয়ে উঠেছিলেন মহীরুহ পেলে৷ সোমবার প্রয়াত সম্রাটকে শেষবারের মতো এখানে শায়িত রাখা হয়৷ খুলে দেওয়া হয় স্যান্টোস স্টেডিয়ামের মূল দরজা৷ সকাল থেকে পেলের অনুরাগীরা সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান ফুটবল সম্রাটকে৷


কিংবদন্তী ফুটবলারের মৃত্যুতে ব্রাজিলে ইতিমধ্যেই তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সাও পাওলোর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে আসা হয় স্যান্টোস ক্লাবে। ওই ক্লাবের বেলমিরো স্টেডিয়ামে শায়িত রাখা হয়েছিল ফুটবল সম্রাটের  নশ্বর দেহ।  এই স্টেডিয়ামের ইতিউঁতি জড়িয়ে রয়েছে তাঁর স্মৃতি৷ এই মাঠ সাক্ষী থেকেছে তাঁর পায়ে আঁকা শিল্পের৷


হাসপাতাল থেকে বার করে যে রাস্তা দিয়ে পেলের কফিন নিয়ে যাওয়া হয়, সেই রাস্তা সেজে উঠেছিল আতস বাজিতে৷ ব্রাজিলের প্রাক্তন মিডফিল্ডার জে রবার্তো এবং পেলে-পুত্র এডিনহোকে কফিন বইতে দেখা যায়৷ তাঁর জন্য পুষ্পস্তবক পাঠান ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার, ভিনিসিয়াস জুনিয়র৷ পুষ্পস্তবক আসে রিয়াল মাদ্রিদের তরফেও৷ এদিন তাঁর কফিন  নিয়ে যাওয়া হয় ক্যানাল ৬ সড়ক দিয়ে, যেখানে থাকেন পেলের শতায়ু মা৷ তবে তিনি এখন শয্যাশায়ী।


পেলের শেষ গন্তব্য মেমোরিয়াল নেক্রোপোল একুমেনিকার ভার্টিকাল সেমেটারি। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য বলছে, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সমাধিস্থল। ১৪ তলা ভবনের এই সমাধিস্থলে রয়েছে হাজার হাজার ভল্ট। রয়েছে একটি জলপ্রপাত এবং গাড়ির মিউজিয়াম৷ এদিন ফুটবল সম্রাটের শেষ যাত্রায় উপচে পড়েছিল মানিষের ভিড়৷ শেষবারের জন্য রাজাকে আলবিদা জানাতে এসেছিলেন তাঁরা৷ তবে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরা। সর্বসাধারণকে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি৷


পেলের ক্যারিশমায় বিহ্বল আজকের তরুণ প্রজন্মও৷ তাঁকে শেষবার দেখার জন্য অনেকেই সারা রাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কারও হাতে পাউরুটি কিংবা কেকের প্যাকেট, ওই খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন গোটা রাত৷ শোনা যাচ্ছে, পেলেকে সম্মান জানিয়ে চিরদিনের মতো তাঁর ১০ নম্বর জার্সিটা তুলে রাখতে পারে স্যান্টোস৷ ক্লাবের সভাপতি আন্দ্রেস রুয়েদার কথায়, ‘‘পেলের পরিবারের তরফে ১০ নম্বর জার্সিটা আজীবন তুলে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরাও এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। তবে এর জন্য ক্লাবের কর্মসমিতির বাকিদের সম্মতি প্রয়োজন। এমনকি ব্রাজিল ফুটবল সংস্থা ও ফিফাকেও এই বিষয়ে জানানো হবে।’’

From around the web

Education

Headlines