মিলল না স্বস্তি! ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করল হাই কোর্ট, দিল্লি যেতেই হবে অনুব্রতকে

মিলল না স্বস্তি! ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করল হাই কোর্ট, দিল্লি যেতেই হবে অনুব্রতকে

কলকাতা: কলকাতা হাই কোর্টে মিলল না স্বস্তি৷ তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)৷ শনিবার কলকাতা হাই কোর্ট তার রায়ে জানায়, অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যেতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ সেই সঙ্গে এদিন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেন বিচারপতি বিবেক চৌধুরী।  আদালতের পর্যবেক্ষণ, দিল্লি এবং কলকাতা হাই কোর্টের কাছে তথ্য লুকিয়ে আদালতকে হয়রান করা হয়েছে৷ 

 

 

আরও পড়ুন- ৮ ঘণ্টা হেফাজতের পর ব্যাঙ্কশাল কোর্টে জামিন কৌস্তভ বাগচীর

তিহাড় যাত্রা রুখতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। শনিবার আদালতে শুনানি চলাকালীন তৃণমূল নেতার আইনজীবী জানান, অনুব্রত অসুস্থ। এর প্রেক্ষিতে ইডি-র তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনে দিল্লি এমসে নিয়ে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হবে৷ অন্যদিকে, অনুব্রতের আইনজীবী জানান, দিল্লি হাই কোর্টে মৌখিক ভাবে ইডি আশ্বাস দিয়েছিল ওই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাজিরা করানো হবে।

এই মামলায় বিচারপতি বিবেক চৌধুরীর পর্যবেক্ষণ, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মামলা। নির্দেশনামাতেও কিছু উল্লেখ নেই। ৪ মাস ধরে ইডির মৌখিক আশ্বাসের পর আলাদা করে নির্দেশনামায় বিষয়টি উল্লেখ করার প্রয়োজন হল কেন? বিচারপতি জানতে চান, ‘‘এখানে বার বার দেখেছি নির্দেশনামায় মৌখিক আশ্বাস উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। তবে দিল্লি হাই কোর্টে এটা করলেন না কেন? যেখানে আপনাদের অভিযোগ  ইডি আপনাদের মিথ্যা মামলায় জড়াচ্ছে।’’ এর পরেই অনুব্রতের আইনজীবী জানান, ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর জেল কর্তৃপক্ষকে ইমেল করেছিল ইডি। জানানো হয় এখনই কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। তা ছাড়া অনুব্রত শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ নন। আসানসোলের সিবিআই আদালত পর্যাপ্ত চিকিৎসার কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, যে কোনও বিশেষজ্ঞকে দিয়ে তাঁর চিকিৎসা করানো হোক। সেখান থেকে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত হাজিরার নির্দেশ স্থগিত রাখা হোক৷ ১৭ ডিসেম্বর দিল্লি হাই কোর্টে শুনানি রয়েছে। ওই দিন পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হোক।

অন্য দিকে, অনুব্রতকে পাল্টা দিয়ে ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘এক হাই কোর্ট থেকে অন্য হাই কোর্টে আবেদন করছেন অনুব্রত। তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ছুটির দিনে আদালতের সময় নষ্ট করা হয়েছে। বড় জরিমানা করা উচিত (অনুব্রতের)। তাঁর প্রশ্ন করেন, ‘‘পছন্দের রায় পেতেই কি বার বার আদালত পরিবর্তন? এদিকে, দিল্লি হাই কোর্টে জানানো হয়েছে এখান থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর পরেও শুনানি হচ্ছে। অনুব্রত একজন নীতিহীন বিচারপ্রার্থী।’’