Aajbikel

সতর্ক থাকতেই হবে, 'ডিপফেক' থেকে বাঁচার পথ আরও আছে

 | 
সাইবার ক্রাইম

নয়াদিল্লি: অভিনেত্রী রশ্মিকা মান্দানার সেই ভিডিওর কথা তো মনেই আছে। শুধু তিন কেন, সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়েছে অভিনেত্রী কাজল, ক্যাটরিনা কাইফেরও ভুয়ো ভিডিও। তা নিয়ে বিরাট মাপের চর্চা তো হয়েছেই, জল গড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘরে। তারাও চুপ করে না বসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে ফেসবুকের পরিচালক সংস্থা মেটা, গুগল এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে। 'ডিপফেক' ইস্যুতে এখন কার্যত সরগরম দেশ। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, কড়া পদক্ষেপের আগেই যদি কেউ এই প্রযুক্তির শিকার হয় তাহলে কী হবে? কেমন করে 'ডিপফেক' থেকে বাঁচা যাবে? অবশ্যই তার উপায় আছে। 

কয়েকদিন আগেই গুগল, ফেসবুকের পরিচালক সংস্থা মেটা-সহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় তথ্য এবং প্রযুক্তি মন্ত্রকের কর্তারা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খোদ মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বৈঠকের শেষে মন্ত্রী জানান, ডিপফেক প্রযুক্তির মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়ে খসড়া আইন তৈরি করা হবে বলেই জানান মন্ত্রী। প্রস্তাবিত আইনে কড়া শাস্তির বিধান রাখা হবে বলেও মন্ত্রক সূত্রে খবর৷ তবে আপাতত তাদের পরামর্শ, সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত আপত্তিকর ভিডিয়োর বিরুদ্ধে এফআইআর করার। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমগুলিকেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

তবে নিজে না সতর্ক হলে বিপদ আটকানো যাবে না। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক অ্যাপ বা লিঙ্ক আসে যেখান থেকে আপনি নিজের 'ভবিষ্যৎ' জানতে পারেন। ৫০ বছর পর আপনাকে কেমন দেখতে হবে, পরের জন্মে আপনি কী হবেন, কোন সালে আপনার বিয়ে হবে, বিদেশ ভ্রমণ হবে, এমনকি আপনি কবে মারা যাবেন... এইসব অ্যাপ সেগুলি বলে! কিন্তু আপনি কি জানেন, সবকটি অ্যাপ মূলত এআই বা আরটিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স নির্ভর? আর এগুলোতেই পাতা থাকে বড় ফাঁদ? একাধিক সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এইসব অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য তা ডাউনলোড করে তাতে প্রচুর মানুষ ছবি আপলোড করে দেন। এটাই বিপদের শুরু। 

বিচিত্র এই ধরনের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট কে বা কারা বানিয়েছে কেউ জানে না। আর আপনি সেখানে নিজের ছবি শুধু আপলোড করছেন না, ওই অ্যাপকে আপনার ফোনের লোকেশন, গ্যালারি, নম্বরের অ্যাকশেস অজান্তে দিয়ে ফেলছেন। এই অ্যাপগুলি ডিপফেকের মতোই ভয়ঙ্কর। তারা আপনার ছবি নিয়ে বা তথ্য নিয়ে কোথায়, কী ভাবে ব্যবহার করছে তা আপনার জ্ঞানের বাইরে। তবে এর থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানাচ্ছেন, সোশ্যাল মাধ্যমে পাবলিকলি ছবি, ভিডিও শেয়ার না করাই ভালো। পারলে প্রোফাইল 'লক' করে দিন আর কিছু শেয়ার করলে তা নিজের ফ্রেন্ডলিস্টের মধ্যেই করুন। তাছাড়া এইসব অ্যাপ ব্যবহার করারই দরকার নেই। কোনও অজানা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না বা অজানা ওয়েবসাইটে ঢুকবেন না। 

কিন্তু অজান্তেও এই ফাঁদে পড়লে বুঝবেন কী ভাবে? তার উত্তরও আছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিও বা ছবিতে চেহারার রঙ এবং মুখের রঙের তারতম্য খেয়াল করতে হবে। কারণ যেহেতু এডিট করে বসানো তাই অতটাও নিখুঁত কাজ হবে না। এছাড়া ওই ভিডিওর লিপ সিঙ্ক, চারপাশের অডিওর তারতম্যও খেয়াল করতে হবে। প্রসঙ্গত, ডিপফেক ভিডিয়ো সংক্রান্ত পরবর্তী বৈঠক হবে ১ ডিসেম্বর। ওই দিন এই খসড়া আইন নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে।   

Around The Web

Trending News

You May like