বিশ্বের সবচেয়ে বড় IPO আনতে চলেছে SpaceX! ₹১,৮৪,০০,০০০ কোটি টাকা…

স্পেসএক্সের শেয়ার কি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ? নাকি এটি কেবল ধনকুবেরদের জন্য এক বিশাল খেলা?

Published On:

আজ বিকেল:  বাজার থেকে ৭৫ বিলিয়ন ডলার তুলতে পারে ইলন মাস্কের সংস্থা৷ এর মূল্যায়ন হতে পারে ২ ট্রিলিয়ন ডলার৷ ভাতীয় টাকায় যা ₹১,৮৪,০০,০০০ কোটি টাকা… মানে ₹184 লাখ কোটি টাকা৷ ভাবা যায়…

ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স আইপিও আনার আবেদন করেছে৷ এই কোম্পানি ২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের লক্ষ্য রেখেছে৷ তারা বাজার থেকে ৭৫ বিলিয়ন ডলার তুলতে পারে৷ এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইপিও হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা৷

কবে আসবে এই আইপিও?

স্পেসএক্স ১ এপ্রিল এসইসি-র কাছে গোপন আবেদন করেছে৷ সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনে তারা শেয়ার বাজারে আসতে পারে৷ এটি অ্যাপল বা গুগলের মতো বড় কোম্পানির সমকক্ষ হবে৷ মেটা বা টেসলার চেয়েও এটি বড় হতে পারে এই আইপিও৷

আয়ের মূল উৎস কী?

স্পেসএক্সের আয়ের প্রধান উৎস হল, স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট৷ মোট আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ আসে এই স্টারলিঙ্ক থেকেই৷ স্পেসএক্স সম্প্রতি ইকোস্টারের সাথে ১৯.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে৷ এর মাধ্যমে তারা সেলুলার নেটওয়ার্ক বাড়াবে৷

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও ঝুঁকি

ভবিষ্যতের বৃদ্ধি নির্ভর করছে স্টারশিপ রকেটের সাফল্যের উপর৷ এটি মঙ্গল গ্রহের অভিযানের জন্য তৈরি করা হচ্ছে৷ এছাড়া এক্সএআই (xAI)-এর সাথে যুক্ত হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজও করছে তারা৷ তবে স্টারশিপের কাজে দেরি হলে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে৷ শেয়ার বাজারে অস্থিরতাও একটি বড় বাধা হতে পারে৷

এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরামকো বড় রেকর্ড করেছিল৷ তারা বাজার থেকে ২৯.৪ বিলিয়ন ডলার তুলেছিল৷ তখন তাদের মূল্যায়ন ছিল ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার৷ স্পেসএক্স এবার সেই বিশাল রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে৷

ইলন মাস্ক এই বিষয়ে নিজের মত জানিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন,

‘পশ্চিমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে গুগল জিতবে৷ পৃথিবীতে জিতবে চিন৷  আর মহাকাশে স্পেসএক্স জিতবে৷’

 

তথ্য:

কোম্পানির মূল্যায়নের লক্ষ্য: প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার৷

বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ: ৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত৷

২০২৫ সালের আনুমানিক আয়: ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার৷

ইবিআইটিডিএ (EBITDA): প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার৷

ইকোস্টারের সাথে মেগা চুক্তি: ১৯.৬ বিলিয়ন ডলার৷

 

স্পেসএক্সের এই আইপিও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে পারে৷ মহাকাশ ও প্রযুক্তির বাজারে এর বড় প্রভাব পড়বে৷ সংস্থাটি সফল হলে বিনিয়োগকারীরা প্রচুর লাভ করতে পারেন৷ তবে এখানে বেশ কিছু আর্থিক ঝুঁকিও লুকিয়ে আছে৷

স্পেসএক্সের শেয়ার কি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ? নাকি এটি কেবল ধনকুবেরদের জন্য এক বিশাল খেলা? এই বিষয়ে আপনার কী মনে হয়? স্পেসএক্সের শেয়ার বাজারে এলে আপনি কি বিনিয়োগ করবেন? আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান৷

 

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন: স্পেসএক্স কত টাকার আইপিও আনছে?
উত্তর: স্পেসএক্স বাজার থেকে ৭৫ বিলিয়ন ডলার তুলতে পারে৷

প্রশ্ন: কোম্পানিটির মোট মূল্যায়ন কত হতে পারে?
উত্তর: কোম্পানিটির মূল্যায়ন প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে৷

প্রশ্ন: স্পেসএক্সের আয়ের মূল উৎস কী?
উত্তর: আয়ের মূল উৎস হল, স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা৷

প্রশ্ন: এর আগে সবচেয়ে বড় আইপিও কোন কোম্পানির ছিল?
উত্তর: ২০১৯ সালে সৌদি আরামকো সবচেয়ে বড় আইপিও এনেছিল৷

প্রশ্ন: স্পেসএক্সের শেয়ার কবে বাজারে আসতে পারে?
উত্তর: নিয়ন্ত্রকদের ছাড়পত্র পেলে আগামী জুন মাসে এই শেয়ার বাজারে আসতে পারে৷

Leave a Comment