Aajbikel

মহাকাশে ভূরিভোজ! চমক ২০২৫-এই, জানেন খরচ কত?

 | 
মহাকাশে রেস্তোরাঁ

কলকাতা: এবার মহাকাশে হবে ভূরিভোজ! না কোনও স্বপ্ন বা কল্পনা নয়৷ একেবারেই চরম বাস্তব৷ যেখানে আপানার চারপাশ জুড়ে থাকবে ঘুটঘুটে অন্ধকার আকাশ৷ কখনও বা হুশ করে ছুটে যাবে উল্কা৷ মাথার উপর ঝলমল করতে উজ্জ্বল তারা৷ সেই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করতে করতেই সামনের টেবিলে রাখা গরম গরম খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন আপনি৷ যার সাক্ষী থাকহে খসে পড়ে তারা৷ তখন হয়ত আপনিও গলা ছেড়ে গেয়ে উঠবেন ‘আজ ম্যায় উপর, আসমাঁ নীচে...

বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে তৈরি হতে চলেছে ভূরিভোজের নতুন ঠিকানা। এই অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে পকেট ভারী থাকাটা কিন্তু জরুরি৷ এই রোস্তোরাঁয় বসে যখন খাবার মুখে তুলবেন, তখন আপনার পায়ের নীচে থাকবে আকাশ, তারও অনেক নীচে নাল-সাদা রঙের পৃথিবী৷ শূন্যে ভাসমান রেস্তরাঁর রিক্লাইনিং চেয়ারে হেলান দিয়ে খাবার খেতে কিংবা সুখের পানীয়তে চুমুক দিতে কেমন লাগবে বলুন তো! এমনই এক অনবদ্য সুখের সলুকসন্ধান মিলবে মার্কিন মুলুকে৷  পৃথিবীর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ভাসমান রেস্তরাঁ খুলছে নিউ ইয়র্কের ‘স্পেসভিআইপি’ নামে একটি পর্যটন সংস্থা। সেই রেস্তোরাঁয় আসা মানুষের রসনাতৃপ্তির জন্য বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা এক ড্যানিশ শেফকে ইতিমধ্যে নিয়োগও করে ফেলেছে তারা। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এক বছরের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে এই ভাসমান রেস্তোরাঁ৷ 


‘স্পেসভিআইপি’ তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই রেস্তরাঁর বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রেস্তরাঁটি আকারে খানিকটা বেলুনের মতো। ভিতরে থাকবে ওয়াই-ফাই ব্যবস্থা৷ ফলে চাইলেই আপনি ভিডিয়ো কল করতে পারবেন৷ এই হাইটেক স্পেস-বেলুনে চাপিয়েই মহাকাশ-সফরে নিয়ে যাওয়া হবে অতিথিদের। তবে এই সফর মাত্র  ছ’ঘণ্টার৷ মাথাপিছু খরচ প্রায় ৫ লক্ষ ডলার। ভারতী মুদ্রায় প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা৷ যা শুনে অনেকেরই চক্ষুচড়কগাছ৷ তবে ‘স্পেসভিআইপি’ জানাচ্ছে, এই রেস্তোরায় বসে খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে লাইন পড়েছে উৎসাহী মানুষের৷ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বুকিং সংক্রান্ত অসংখ্য প্রশ্ন আসতে শুরু করেছে। এই সফরের অংশীদার হতে, কী ভাবে ও কোথায় সাইন আপ করতে হবে, তা জানতে চেয়েছে অসংখ্য মানুষ। 


মহাকাশে ভাসমান বেলুন-রেস্তরাঁয় যাওয়ার জন্য অতিথিদের কোনও বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে না। রকেট নয়, একটি স্পেস বেলুনের সাহায্যে এক ধরনের ক্যাপসুলে বসিয়ে এই রেস্তোরাঁয় নিয়ে যাওয়া হবে যাত্রীদের। 


আপাতত ছ’জন অতিথি বসার জন্যে টেবিল থাকছে রেস্তরাঁয়। মাটি থেকে ১ লক্ষ ফুট উঁচুতে বসে সূর্যোদয় দেখার আনন্দও উপভোগ করতে পারবেন অতিথিরা। মহাকাশে বসে লাইভস্ট্রিমও করতে পারবেন, কথা বলতে পারবেন বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিবারের সঙ্গেও৷ এই ভোজনালয়ে ঠিক কী কী খাবার থাকবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়৷ তবে ৩২ বছর বয়সি শেফ রাসমুস মাঙ্ক জানিয়েছেন, বিস্ময়ে ভরা রেস্তোরাঁর মেনুতেও থাকবে চমক৷ স্বাদে-গন্ধে যা চমক দেবে। মাঙ্কের কথায়, ‘‘এই সফরের খরচ অনেকটাই বেশি৷ তবু মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা রয়েছে। এই সফরের বিপুল খরচ সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল। তবে এটা প্রথম যাত্রা তো, তাই এতটা দামি।’’ 


 

Around The Web

Trending News

You May like