Aajbikel

মঙ্গলে লুকিয়ে টন টন জল! যা কিনা পৃথিবীর লোহিত সাগরকে ভরিয়ে দেবে

 | 
মঙ্গল

কলকাতা: মঙ্গলে কি হয়ে উঠতে পারে পৃথিবীর দোসর? লাল গ্রহে কোনও দিন কি বাসা বাঁধতে পারবে মানুষ? এই সব প্রশ্নের উত্তর বহু দিন ধরেই খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা৷ মঙ্গলে যে জল রয়েছে, সে বিষয়ে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ এবার তাঁরা জানালেন ‘লাল গ্রহে’র ঘরে রয়েছে জলের ভান্ডার! হ্যাঁ, এখনও মঙ্গল থেকে উবে যায়নি জল৷ বরং বিশাল এক জলের ভান্ডার রয়েছে পড়শি গ্রহে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতীতে জলের যে সঞ্চয় ছিল, তার ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ধরে রাখতে পেরেছে লাল গ্রহ। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সাম্প্রতিক গবেষণার রিপোর্ট বলছে, মঙ্গলে দুটি পেল্লায় গহ্বরে টন টন জল সঞ্চিত আছে৷ তবে তা মাটির নীচে। সেই জলের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, তা পৃথিবীর লোহিত সাগরকে কানায় কানায় পূর্ণ করতে পারে।

কোটি কোটি বছরের বিবর্তনে অনেকটাই পাতলা হয়েছে মঙ্গলের বায়ুর স্তর৷ তবে নিজের গর্ভে সঞ্চিত জলের ভাণ্ডারকে ফুরতে দেয়নি মঙ্গল৷ বরং সেটা সযত্নে রক্ষা করে চলেছে। তাও প্রায় ৩০০ কোটি বছর ধরে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি জানাচ্ছে, লাল গ্রহের পৃষ্ঠতলে  ৪০০ কোটি বছর আগে যে পরিমাণ জলের ধারা বইত, তার ৩০ থেকে ৯৯ শতাংশ জল এখনও মজুত রয়েছে। এর মধ্যে কিছুটা অবশ্য প্রবল ঠান্ডায় মঙ্গলের পিঠের নীচে বরফের আকারে জমা রয়েছে৷ বাকিটা রয়েছে মঙ্গলের পৃষ্ঠদেশে ছড়ানো বিভিন্ন খনিজের ভিতরে৷ বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মঙ্গলের লাল মাটির নীচে দেড় থেকে ২.৭ মিটার গভীর পর্যন্ত জল জমে বরফের আকারে রয়েছে৷ 


তবে ৪০০ কোটি বছর আগে তরল অবস্থাতেই প্রবাহিত হয় জল৷ জন্মের ১০০ কোটি বছর পর ধীরে ধীরে সেই জল শুকতে শুরু করে। একেবারে গোড়ার দিকে মঙ্গলকে চারপাশ থেকে ঘিরে থাকত একটি চৌম্বক ক্ষেত্র৷ ধীরে ধীরে সেটি উধাও হয়ে যায়। লাল গ্রহের অভিকর্ষ বলের টানও তেমন জোরালো নয়৷ ফলে দ্রুত নিজের বায়ুমণ্ডলকে হারাতে শুরু করে সে। উবে যেতে থাকে লাল গ্রহের জলের ভাণ্ডার। তবে তা সবটা নিঃশেষ হয়নি৷ 
 

জল দু’ধরনের হয়। সাধারণত দেখা যায়, জলের অণুতে থাকা হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন রয়েছে। এই ধরনের জলেরই আধিক্য বেশি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে জলের অণুতে থাকা হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন এবং একটি নিউট্রন থাকে। এই ধরনের জলকে বলা হয় ‘ডিউটেরিয়াম ওয়াটার’। এই ধরনের জলে হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে প্রোটনের সঙ্গে একটি নিউট্রন থাকায় তা তুলনায় ভারী হয়। মঙ্গলের অভিকর্ষজ বল খুবই দুর্বল৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেই কারণেই হাল্কা ওজনের জল বহু দিন আগেই উবে গিয়েছে৷ তবে একইভাবে থেকে গিয়েছে ভারী জল বা ‘ডিউটেরিয়াম ওয়াটার’৷ 

Around The Web

Trending News

You May like