×

শীর্ষ থেকে যুব, কেন দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে যুব নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে? কীভাবে হবে শুদ্ধিকরণ?

 
তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিরোধীদের কথায় দুর্নীতির সুনামি! তৃণমূলের একাংশ কী দুর্নীতির পাঁকে ডুবে গিয়েছে? এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে ঘুরছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কয়েকটা বছর তৃণমূল সব দিক দিয়ে ঠিক ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তৃণমূল নেতাদের একাংশ দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছেন। সেই সূত্রেই একের পর এক ঘটনা সামনে চলে আসছে। যে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ। শিক্ষকের চাকরি করিয়ে দেওয়ার নামে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কুন্তলকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল, মানিক ভট্টাচার্যরা গ্রেফতার হয়েছেন আগেই। তারও আগে সারদা-নারদা কাণ্ডে যোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের একঝাঁক নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে। বিরোধীদের অভিযোগ, এভাবেই উপর তলা থেকে নীচুতলার একাংশ দুর্নীতির পাঁকে ডুবে গিয়েছে। আর যুব সংগঠনের নেতাদের একাংশ যেভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন, তার সূত্রপাত কিন্তু আরও আগে। কয়লা পাচার ও গরু পাচারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে যুব তৃণমূলের তৎকালীন সম্পাদক বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ বিনয় মিশ্র এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাঁর নাম কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে আসার পরই তিনি প্রথমে গা-ঢাকা দেন। পরে দেশ ছেড়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু'তে আত্মগোপন করে রয়েছেন। একই ভাবে হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের উত্থান ২০১৬ সাল থেকে।

২০১৫ সালে তৃণমূল যুব সভাপতির পদে এসেছিলেন দলের বর্তমান সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের অভিযোগ, দলের একাংশের প্রশ্রয়ে যুব তৃণমূল বা আরও নীচুতলার কিছু নেতাকর্মীরা ব্যাপক দুর্নীতি করে গিয়েছেন। তাই প্রশ্ন, শীর্ষ নেতৃত্ব কি এর দায় এড়াতে পারেন? ইতিমধ্যেই কুন্তলের ফেসবুক পেজে দেখা গিয়েছে, একাধিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে ছবি। এতে কি দলের সম্মান বাড়ছে? এই প্রশ্ন তুলছেন বাংলার মানুষ। সব থেকে বড় কথা ২০১৬ সাল থেকে তৃণমূল রাজনীতিতে কুন্তলের আস্তে আস্তে বাড়বাড়ন্ত হতে শুরু করে। এরপরই রকেটের গতিতে তাঁর উত্থান হয়। হুগলি জেলার  পাশাপাশি কলকাতা তথা রাজ্যজুড়ে যুব তৃণমূলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁকে দেখা যেতে থাকে। আর সেই সঙ্গে তাঁর সম্পত্তির বহর বেড়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। ইডি নিশ্চিত, কুন্তল নিজের প্রভাবশালী ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কুন্তল। তবে মজার কথা হচ্ছে বিনয় মিশ্র সম্পর্কে একটি শব্দও উচ্চারণ করতে দেখা যায় না তৃণমূলকে। একই ভাবে কুন্তলের কীর্তির দায়ও নিশ্চিত ভাবে তৃণমূল নেবে না। কিন্তু এটাও ঠিক যে, যদি তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে না আসত তাহলে তো এই দুর্নীতি চলতেই থাকত। তাই এই দায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে এড়াতে পারেন? এই প্রশ্ন অবধারিত ভাবে উঠছে। সবমিলিয়ে এটা স্পষ্ট যে, পার্থ থেকে কুন্তল, যুব তথা থেকে শীর্ষ তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে দুর্নীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই সমস্ত ঘটনায় শাসকদলের অস্বস্তি যে বেড়েই চলেছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এই দুর্নীতির কাঁটা দূর করতে তৃণমূল নতুন করে শুদ্ধিকরণের রাস্তায় হাঁটে কিনা এখন সেটাই দেখার।

From around the web

Education

Headlines