×

কার দখলে মেঘালয়? কতটা লড়াই দিতে পারবে তৃণমূল? ভোট কাটাকাটির ফসল তুলতে মরিয়া গেরুয়া শিবির!

 
মেঘালয়

 

শিলং: চলতি বছরে ন'টি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যে রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়। কংগ্রেসকে সরিয়ে এই রাজ্যে গত বছর প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় উঠে এসেছে তৃণমূল। তবে ভোটে জিতে নয়, ১৩ মাস আগে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী ১২ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগদান করায় তারা বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে। তাই খাতায়-কলমে মেঘালয়ে তৃণমূল বিরোধী দলের মর্যাদা পেলেও সাংগঠনিক দিক দিয়ে তাদের কতটা ক্ষমতা রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে ৬০ আসন বিশিষ্ট মেঘালয়ে তৃণমূল লড়াইয়ের জন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছে। কিছুদিন আগেই মেঘালয় সফর করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে যে সমস্ত সামাজিক প্রকল্প চালু করেছে তৃণমূল, সেই ধাঁচে একাধিক প্রকল্প মেঘালয়ে তৃণমূল চালু করবে যদি তারা ক্ষমতায় আসে। এমনটাই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন মমতা ও অভিষেকরা।


মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমার নেতৃত্বে কংগ্রেসের অধিকাংশ বিধায়ক তৃণমূলে যোগদান করেছেন। মুকুলকে সামনে রেখেই সেই রাজ্যে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে তৃণমূল। যদিও মেঘালয় কংগ্রেসের সভাপতি তথা দলের সাংসদ ভিনসেন্ট পালা দাবি করেছেন এই রাজ্যের নির্বাচনে তৃণমূল একেবারেই সুবিধা করতে পারবে না। সেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে বলে তিনি জোরের সঙ্গে দাবি করেছেন। আসলে ভিনসেন্ট পালার সঙ্গে বিরোধের কারণেই মুকুল সাংমা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। মেঘালয়ে গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একুশটি আসনে জয়লাভ করে। সেখানে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি বা এনপিপি ২০টি আসলে জয় পেয়েও বিজেপি-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট করে মেঘালয়ে ক্ষমতায় আসে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন কনরাড সাংমা। কিন্তু পরবর্তীকালে বিজেপির সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব তৈরি হয়। তাই চলতি বছরের নির্বাচনে এনপিপি একলা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই বিজেপিকেও একাই লড়তে হবে। তাই এটা স্পষ্ট মেঘালয়ে এবার চতুর্মুখী লড়াই হতে চলেছে। সেখানে প্রধান চারটি দল হিসেবে থাকবে এনপিপি, কংগ্রেস, বিজেপি এবং তৃণমূল। আর সেই কারণেই ভোট ভাগ হয়ে একার জোরে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে বিজেপি। 

তাই মেঘালয়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বলছে সেখানে জমজমাট লড়াই হতে চলেছে। কোন দল সেখানে জিতবে তা স্পষ্ট নয়। তবে তৃণমূল সেখানে মরিয়া হয়ে লড়াই চালানোর জন্য সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সেখানে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিকবার সফর করতে চলেছেন বলে খবর। শেষ পর্যন্ত মেঘের রাজ্যে কারা বাজিমাত করে এখন সেটাই দেখার।

From around the web

Education

Headlines