×

ফের সভাপতি হয়েও পূর্ণ সময়ের দায়িত্ব পেলেন না নাড্ডা, নামেই নাড্ডা সভাপতি, সবটাই করবেন মোদি-শাহ জুটি?

 
নাড্ডা

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেপি নাড্ডাকে ফের একবার সভাপতি পদে বেছে নিল বিজেপি। কিন্তু তা পূর্ণ সময়ের জন্য নয়। বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আরও তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল নাড্ডার। পরিবর্তে তাঁকে আগামী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লোকসভার ফল দেখার পর এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপি। গত তিন বছর নাড্ডা দলের সভাপতি থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি   নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাই বিজেপি গত তিন বছরে বেশ কিছু রাজ্যে ভাল ফল করলেও তার কৃতিত্ব সেভাবে নাড্ডাকে দেওয়া হয়নি।

নাড্ডা বিজেপি সভাপতি হওয়ার পর দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল বিজেপির। এরপর পশ্চিমবঙ্গে বহুবার সফর করেছেন বিজেপি সভাপতি নাড্ডা। কিন্তু সেখানেও দল প্রত্যাশার ধারে কাছে পৌঁছতে পারেনি। এছাড়া বিহারে বিজেপি কান ঘেঁষে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে জেডি ইউ, আরজেডি ও কংগ্রেসের জোট বিজেপিকে মসনদ থেকে ছিটকে দেয়।  নাড্ডার সময় কালে অসমে বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। তবে সেখানে জয়ের মূল কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার রাজ্যভিত্তিক নেতৃত্বকে। একই ভাবে উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটে ল্যান্ডস্লাইড জয় পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু সেই কৃতিত্ব নাড্ডাকে দেওয়া হয়নি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং গুজরাটের বিজেপি সভাপতি সি আর প্যাটেল এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব পেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নাড্ডার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল হিমাচল প্রদেশে ক্ষমতা ধরে রাখা। কারণ প্রথা অনুযায়ী হিমাচলে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। সেখানে বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় স্বাভাবিকভাবেই এবার কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে, এমন একটা প্রেক্ষাপট আগে থেকেই তৈরি ছিল। তাই নিজের রাজ্য হিমাচল প্রদেশে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলে তখন সভাপতি হিসেবে নাড্ডাকে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দেওয়া হতো।

এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সবচেয়ে বড় কথা নাড্ডা নিজে হিমাচল প্রদেশের ভূমিপুত্র, কিন্তু সেখানে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ চরমে পৌঁছে যায়। সেই গোষ্ঠীকোন্দল নাড্ডা সামলাতে পারেননি। বিজেপি সূত্রে খবর, হিমাচলে কারা কারা টিকিট পাবেন তার সবটাই ঠিক করেছিলেন নাড্ডা নিজেই। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। কংগ্রেস ম্যাজিক সংখ্যার থেকে বেশ কয়েকটি আসন বেশি পেয়ে হিমাচলে ক্ষমতা দখল করেছে। আর তখন থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সু-নজর থেকে সরে যান নাড্ডা। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যাতে নাড্ডাকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এক বছর পরেই লোকসভা নির্বাচন। সেখানে নতুন সভাপতি এসে তাঁর নিজস্ব টিম তৈরি করতে গেলে সময় লাগবে। কারণ চলতি বছরে জম্মু-কাশ্মীর-সহ দেশে দশটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হবে। যা লোকসভা নির্বাচনের আগে সেমিফাইনাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই বিজেপি নতুন কাউকে সভাপতি করে ঝুঁকি নিতে চায়নি। লোকসভা পর্যন্ত নাড্ডার উপরেই ভরসা রেখেছে তারা। তবে নাড্ডা এক বছর সভাপতি থাকলেও সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি যে মোদি-শাহ জুটি নেবেন, সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। তাই বিজেপি সভাপতির মতো এত বড়  ওজনদার ও গ্ল্যামারাস পদ নাড্ডা এক বছর কতটা উপভোগ করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল।
 

From around the web

Education

Headlines