দেশে বাড়ছে গরিবি, অথচ উপচে পড়ছে রাজনৈতিক দলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! আয়ের বহর দেখলে চকমে উঠবেন

দেশে বাড়ছে গরিবি, অথচ উপচে পড়ছে রাজনৈতিক দলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! আয়ের বহর দেখলে চকমে উঠবেন

নয়াদিল্লি: দেশের গরিবিকে কাছ থেকে কি দেখতে পায় রাষ্ট্রব্যবস্থা? আশ্বাসের তালিকায় কটা রাইট চিহ্ন পরে? একবারও কি খতিয়ে দেখে দেশ উদ্ধারকারী রাজনৈতিক দলগুলি? প্রশ্নগুলি উঠছে কারণ দেশের গরিবির তুলনায় রাজনৈতিক দলগুলির আয় হিসেবের বাইরে, এই বৈষম্য দেশের পক্ষে আদৌ কি স্বাস্থ্যকর? রাষ্ট্রসংঘ ও বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টের সঙ্গে ADR বা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মের তথ্যের তুল্যমূল্য আলোচনা করলে স্পষ্ট হবে গরিবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কীভাবে দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক দল থেকে আঞ্চলিক দলগুলি নিজেদের পকেট ভারি করছে।

সর্বধিক গরিব ভারতে-
•    রাষ্ট্রসংঘের UNDP-র রিপোর্ট বলছে, ভারতে সবথেকে বেশি দরিদ্র মানুষের বাস
•    ভারতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় ২২৮.৯ মিলিয়ন
•    ভারতের পরই সবচেয়ে দরিদ্রের বাস নাইজেরিয়ায়
•    ভারতে সবেথেকে বেশি দরিদ্র শিশু, সংখ্যাটা ৯৭ মিলিয়ন
•    ২০১৯-২০২১ সালে ভারতের মোট জনসংখ্যার ১৬.৮ শতাংশ দরিদ্র সীমার নীচে

দৈনিক আয় ১৫০-র নীচে-
•    ভারতে গরিবদের আর্থিক দুরবস্থার মাত্রা বোঝাতে বিশ্ব ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য ভয়ানক
•    যেখানে দরিদ্র সীমার নীচে থাকা কয়েক কোটি মানুষের দৈনিক আয় মাত্র ১৪০ টাকা
•    যাঁরা শুধু দরিদ্রের তালিকায়, তাঁদের দৈনিক আয় ৪০০ টাকার থেকে কিছু বেশি

 

গরিবি বেড়ে চলবে-
•    বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য, বিশ্বজুড়ে দরিদ্র সীমার নীচে চলে যেতে পারে ১১২ কোটি মানুষ
•    ভারতের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটা ১০ কোটি

সুতরাং, একটা দেশের বড় অংশের মানুষের আয় ১৫০ টাকার নীচে। গরিবের সংখ্যায় নাইজেরিয়ার থেকেও এগিয়ে ভারত। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই কিন্তু দেশের শাসক দল থেকে জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দলগুলি ভোটের ইস্তেহার সাজিয়ে তোলে। আশ্বাসের তালিকা দীর্ঘ করেন। তারপরেও কীভাবে গরিব দেশের রাজনৈতিক নেতা থেকে দলগুলি এতটা টাকার জোর দেখাতে পারছেন?
সেই তথ্যও সামনে আসছে ADR বা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মের সমীক্ষায়।

নির্বাচনী বন্ডে আয়ের খতিয়ান (২০১৭-২০২১)-
•    বিজেপির আয়- ৪,২১৫.৮৯০ কোটি টাকা
•    তৃণমূলের আয়- ৫২৮.১৪ কোটি টাকা
•    কংগ্রেস- ৪৯.৭৫০ কোটি টাকা
•    এনসিপি- ৪৯.৭৫০ কোটি টাকা
•    টিআরএস-২৩০.৬৫৩ কোটি টাকা
•    টিডিপি-১০৯.১০০ কোটি টাকা
•    ওয়াইএসআর-সি-১৭৪.১০৯ কোটি টাকা
•    বিজেডি-২৬৪.০০০ কোটি টাকা
•    ডিএমকে-৪৫.৫০০ কোটি টাকা
•    আপ-১৭.৭৬৫ কোটি টাকা
•    জেডিইউ-১৩.০০০ কোটি টাকা
•    এসপি-১০.৮৪০ কোটি টাকা
•    জেডিএস-৪৮.৭৮০ কোটি টাকা
•    এআইএডিএমকে-৬.০৫০ কোটি টাকা
•    আরজেডি-২.৫০০ কোটি টাকা
•    জেএমএম-১.০০০ কোটি টাকা
•    এসডিএফ-০.৫০০ কোটি টাকা

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নির্বাচনী বন্ড থেকে জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দল শুধুই নয়, আঞ্চলিক অন্তত ১০টি দলের আয় নজর কাড়ার মতো। তবে এই দলে নেই বাম থেকে বিএসপি।
 

ADR-র তথ্য বলছে-

•    ২০১৯-২০ সালে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল ও এনসিপি সহ আরও ১৪টি আঞ্চলিক দল নির্বাচনী বন্ডে ৩৪৪১.৩১ কোটি আয় করেছে
•    চার জাতীয় দল বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল ও এনসিপির মোট আয়ের ৬২.৯২ শতাংশ নির্বাচনী বন্ড থেকে
•    নির্বাচনী বন্ড থেকে গত চার বছরে একটা টাকাও সংগ্রহ করেনি বাম থেকে বিএসপি

দেশের দরিদ্র ছবি যখন ক্যানভাস জুড়ে, তখন রাজনৈতিক দলগুলির কোটি কোটি টাকা আয় কতটা বিপজ্জনক, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে ২৩ এ ৯ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ফের নির্বাচনী বন্ড থেকে আয়ের পরিমান বাড়বে, টাকার গদিতে থাকা রাজনৈতির দলগুলির আয় ক্রমশ বেড়েই চলবে…আর গরিব জনে রইবে ভাঙা ঘরেই…..

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *