×

পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাল ফলের লক্ষ্যে মুসলিম ভোট টার্গেট বিজেপির? এতে কি আদৌ চিঁড়ে ভিজবে?

 
বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি: পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই রাজ্য জুড়ে প্রচারে নেমে পড়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য রাজ্য নেতানেত্রীরা প্রচারে নেমে পড়েছেন। বিজেপির হয়ে প্রচারে নেমেছেন দলের তারকা মুখ 'মহাগুরু' মিঠুন চক্রবর্তী। প্রচারে তৃণমূলকে আক্রমণের পাশাপাশি বিজেপি নেতারা সুকৌশলে মুসলিম সমাজকে বিশেষ বার্তা দিতে শুরু করেছেন। সদ্য ধর্মতলায় বিশৃঙ্খল ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন আইএসএফের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী-সহ নেতাকর্মীরা। ঘটনায় তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রত্যেকেই এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে নওশাদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন। যেভাবে আইএসএফ বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সমালোচনা করেছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে এভাবেই সংখ্যালঘু সমাজকে বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছেন বিরোধী দলনেতা। সুরটা আগেই বেঁধে দিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দলের নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এবার থেকে নিয়মিত সংখ্যালঘু সমাজের পাশে থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য কি কি প্রকল্প করেছে সেগুলির উপকারিতা তাঁদের সামনে তুলে ধরতে হবে। সংখ্যালঘুরা বরাবরই বিজেপির থেকে দূরে থাকেন। তাঁরা বিজেপির তীব্র বিরোধী বলেই পরিচিত। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন বিজেপিকে সংখ্যালঘু সমাজ দূরে সরিয়ে রাখলেও তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। এরপরই দেখা যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের পাশে পেতে চাইছেন।

রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট ৩০ শতাংশের বেশি। এই ভোটের সামান্য অংশও বিজেপি পায় না। তাই শুধুমাত্র ৭০ শতাংশকে টার্গেট করে পঞ্চায়েত বা আগামী লোকসভা নির্বাচনে যে ভাল ফল করা যাবে না সেটা বিলক্ষণ জানেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। তাই এখন থেকেই সংখ্যালঘুদের একাংশের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে ময়দানে নেমে পড়েছেন তাঁরা। অটল বিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী বা বিজেপি সভাপতি ছিলেন তখন কিন্তু গেরুয়া শিবির সম্পর্কে সংখ্যালঘুদের মনোভাব এতটা কঠোর ছিল না।‌ অতীতের ভোট পরিসংখ্যান বলছে বাজপেয়ী লখনউ লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার যখন বিজয়ী হয়েছিলেন তখন সংখ্যালঘুদের একাংশের সমর্থন তিনি পেয়েছিলেন। সংখ্যালঘুদের সেই অংশ বাজপেয়ীকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে দেখতেন না।

মূলত অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে ২০১৪ সাল থেকে। গত ৯ বছর ধরে বিজেপিকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রেখেছে সংখ্যালঘু সমাজ। যদিও বিজেপির দাবি গত উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে তারা সংখ্যালঘু সমাজের একাংশের সমর্থন পেয়েছে। তবে বিজেপি যাই দাবি করুক না কেন দু'চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে দেশের‌ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিজেপিকে একটি ভোটও যে দেন না সেটা নিশ্চিত। তাই লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের পাশে পাওয়ার জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। একইভাবে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব সংখ্যালঘুদের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে ময়দানে নেমে পড়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন তাতে কি আদৌ চিঁড়ে ভিজবে? বিজেপি সম্পর্কে যে ধারণা তাঁদের মধ্যে রয়েছে তা কি রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব? নামেই রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু সেল রয়েছে। সংখ্যালঘু সমাজের উপর সামান্যতম নিয়ন্ত্রণ তাদের আদৌ আছে কি? এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে। সব মিলিয়ে পঞ্চায়েত বা লোকসভা  নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সমাজের ভোটের একাংশ যেভাবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব তা কতটা  সফল হবে সেটা সময়ই বলবে।

From around the web

Education

Headlines