×

শ্রমিকদের জন্য আরও ভালো কাজ করতে পারতাম আমরা: নীতী আয়োগ CEO

 

নয়াদিল্লি:  কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আচমকা লকডাউনে ভয়ঙ্কর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে৷ তাঁদের এই সমস্যা দূর করতে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারত কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি৷ শুক্রবার এমনটাই জানালেন নীতি আয়োগের সিইও অমিতাভ কান্ত। 

ভারতে করোনা সংক্রমণের ঠিক দু’মাস পর গত মার্চ মাসে আচমকাই সারা দেশে লকডাউন জারি করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার৷ যার জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কলকারখানা, নির্মাণ ক্ষেত্র, ইট ভাটায় কাজ করা লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য পড়েন। তাঁদের কাছে না ছিল কোনও টাকা-পয়সা, না ছিল খাবার বা মাথা গোঁজার আশ্রয়৷ গত দু’মাসে সারা দেশের মানুষ সাক্ষী থেকেছে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের এক অসম লড়াইয়ের৷ নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটে তাঁরা রওনা দেন গ্রামের পথে৷ দেশের বিভিন্ন জাতীয় সড়ক দিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে চলা অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, ক্লান্ত শিশুদের ছবি আমাদের নাড়া দিয়ে যায়৷ এরপরেই তাঁদের বাড়ি ফেরাতে বিশেষ ট্রেন ও বাস চালু করার কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। 

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমিতাভ কান্ত বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সফল হয়েছে লকডাউন৷ কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টি অদক্ষতার সঙ্গেই সামাল দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, “এটা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টি দেশের সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷ কয়েক বছর ধরে আমরা এমন আইন তৈরি করেছি, যাতে প্রচুর সংগঠিত শ্রমিক রয়েছেন।’’

নীতি আয়োগের সিইও-র কথায়, “রাজ্য সরকারগুলির দায়িত্ব ছিল, পরিযায়ী শ্রমিকদের আরও ভালোভাবে দেখভাল করা৷ ভারতের মতো এত বড় একটি দেশে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের ভূমিকা কিন্তু সীমিত৷ আমি মনে করি আরও ভালোভাবে আমরা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারতাম৷ রাজ্য, স্থানীয় প্রশাসন ও জেলাস্তরে প্রতিটি শ্রমিকের আরও ভালোভাবে খেয়াল রাখা যেত৷”

বাড়ি ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে৷ অনেকে আবার পথের ধকলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷  পরিযায়ী শ্রমিকদের এই করুণ পরিস্থিতির জন্য কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রকে৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে, তাঁদের জন্য খাবার বন্দ্যোবস্ত, বাড়ি ফেরার জন্য অর্থ বরাদ্দ করে সরকার৷ ২৫ মার্চ দেশে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার  পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১.১৮ লক্ষ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন৷ তারমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩,৫৮৩ জনের৷

From around the web

Education

Headlines