×

বিকাশে ব্যর্থ কেন্দ্র! শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রমের অধিকার পূরণ ভারতের স্থান তলানিতে: সমীক্ষা

 

নয়াদিল্লি: সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, এই স্লোগান তুলে দেশের শাসনভার নিজের কাঁধে চাপিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কিন্তু, বাস্তবে সেই স্লোগান কতটা কার্যকর হয়েছে? আন্তর্জাতিক সমীক্ষা রিপোর্টে প্রশ্নের মুখে সেই স্লোগাল!

বিশ্বের দীর্ঘ সময় ধরে চলা লকডাউনের মূল্য চোকাতে হচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতিকে৷ মূল্য চোকানোর পর্ব শুরুটা হয়েছিল সেই নোটবন্দির আমল থেকে৷ এবার করোনা পরিস্থিতি অর্থনীতির গতি আরও চাঙ্গা করে তুলেছে কি না, তা খুব ভালোই জানেন কেন্দ্রীয় অর্থবিশেষজ্ঞরা৷ করোনার ক্ষতি রুখতে কেন্দ্রের বিশেষ প্যাকেজ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা আগেই জবাব দিয়েছে বাজার৷ করোনাকালে কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ৷ রয়েছে ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা৷ কমেছে বেতন৷ বাড়ছে বেকারত্ব৷ লাগমহীন করোনা সংক্রমণ৷ বর্তমান মহামারীর এই পরিস্থিতিতে কতটা সফল কেন্দ্র? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রমে বৈষম্য কি বাড়ছে?

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অক্সফ্যাম’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে৷ তাতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শিক্ষা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, শ্রমেও ক্রমেই বৈষম্য বাড়ছে গোটা ভারতে৷ প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছেন না৷ কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর জমানায় সরকারি পরিষেবা পাওয়া না পাওয়ার ফাটল চওড়া হয়েছে৷ মহামারীর কঠিন সময়ের মধ্যেও বিশেষ কয়েকজন শিল্পপতির ধনসম্পদ ফুলেফেঁপে উঠেছে৷ সাধারণ জনতার আয়, সম্পদ কমলেও গত ১৫ মাসে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে৷

আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের স্থান একেবারে তলানিতে৷ অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ভারতকে ছাপিয়ে যেতে পারে বলেও মিলেছে ইঙ্গিত৷ ‘অক্সফ্যামে’র সমীক্ষা রিপোর্ট বলা হয়েছে, দেশের গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পালন হয়নি৷ বৈষম্য দূরীকরণের চূড়ান্ত ব্যর্থতা এসেছে৷ আর তার জেরে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে ভারতের স্থান তালানিতে এসে ঠেকেছে৷

‘অক্সফ্যাম’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের দুর্দশা নিয়ে সমীক্ষা করে৷ ‘কমিটমেন্ট টু রিডিউস ইনইকোয়্যালিটি ইনডেক্স’ বা সিআরআইআই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিশ্বের ১৫৮টি দেশে এই  সমীক্ষা করা হয়৷ স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার পূরণে ভারতের স্থান ১২৯ নম্বরে রেখে ‘অক্সফ্যাম’৷ শ্রম অধিকার রক্ষায় বিশ্বে ভারতের স্থান দেওয়া হয়েছে ১৫১ নম্বরে৷ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক৷ কর্মজীবনে তাঁদের কোনও নিশ্চয়তা নেই৷ ৭১ শতাংশ শ্রমিক কোনও লিখিত চুক্তি ছাড়াই কাজ করেন৷ ৫৪ শতাংশ শ্রমিক সবেতন ছুটি পান না৷ ১৩০ কোটি নাগরিক বার্ষিক চিকিৎসা খরচের ৭০ শতাংশ নিজের টাকায় করে থাকেন৷

From around the web

Education

Headlines