নয়াদিল্লি: পোষ্য কুকুরকে নিয়ে শান্ত ভ্রমণ করবেন বলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিদিন ফাঁকা করাতেন স্টেডিয়াম। তাঁদের এই সান্ধ্যভ্রমণে যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে তার জন্য ক্রীড়াবিদদেরও সেই সময় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হত না। মাসের-পর-মাস এই ঘটনা চলার পর অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে দিল্লির এক আইএএস দম্পতির কুকীর্তি। আর তারপরেই রাতারাতি শাস্তিস্বরূপ ওই আইএএস দম্পতির একজনকে পাঠানো হলো লাদাখে, আর অপরজন পোস্টিং পেলেন অরুণাচল প্রদেশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে শুক্রবার সকালেই ওই দুই আইএএস অফিসারের পোস্টিংয়ের কথা প্রকাশ্যে আনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রিড়াবিদরা। অন্যদিকে এমন অভাবনীয় ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় কার্যত আলোড়ন পড়েছে দেশজুড়ে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের হাত ধরে জনসমক্ষে এসেছিল দিল্লির প্রধান রাজস্ব সচিব ও তাঁর স্ত্রীর এই কুকীর্তির কথা। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দিল্লির প্রধান সচিব এবং তাঁর স্ত্রী প্রতিদিন তাঁদের পোষ্যকে নিয়ে দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামে আসতেন। যে সময় তারা ওই স্টেডিয়ামের সান্ধ্য ভ্রমণ করতেন সেই সময় যাতে তাদের এই ‘ব্যক্তিগত’ সময়ে কোনও ভাবে ব্যাঘাত না ঘটে তার জন্য ক্রীড়াবিদদের স্টেডিয়ামের বাইরে বের করে দরজা বন্ধ করে দিতেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁদের অনুশীলনও মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হত এবং পুরো স্টেডিয়াম খালি করে দেওয়া হত। বেশ কিছুদিন ধরে মুখ বুজে সমস্ত কিছু সহ্য করার পর ক্রিড়াবিদরা অবশেষে পুরো বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জানান।
বিষয়টি জানতে পেরেই কার্যত নড়েচড়ে বসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির মুখ্য সচিবের কাছে এই বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে রিপোর্ট তলব করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্যসচিব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট জমা দিয়ে জানান যে দিল্লির প্রধান সচিব এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা আসলে সত্যি। এরপরেই ওই আইআইএস দম্পতি তথা সঞ্জীব খিরওয়ারকে লাদাখে এবং তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু দুগ্গাকে অরুণাচল প্রদেশে রাতারাতি বদলি করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে।