×

মাছ-ভাত খেয়ে কৈলাসে রওনা দেন শ্রীরামপুরের 'বুড়ি দুর্গা'

কলকাতা: মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু। বনেদি বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপে সেজে ওঠেন মহিষাসুরমর্দিনী। অনেক বাড়ির অনেক নিয়ম। বনেদি বাড়ির এই সব নিয়ম শুনলে তাক লেগে যায়। তেমনই একটি হল শ্রীরামপুরের গোস্বামী বাড়ি। গোস্বামী পরিবারের এই দুর্গা শ্রীরামপুরের মানুষের কাছে ‘বুড়ি দুর্গা’ নামে বিখ্যাত।  
 

কলকাতা: মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু। বনেদি বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপে সেজে ওঠেন মহিষাসুরমর্দিনী। অনেক বাড়ির অনেক নিয়ম। বনেদি বাড়ির এই সব নিয়ম শুনলে তাক লেগে যায়। তেমনই একটি হল শ্রীরামপুরের গোস্বামী বাড়ি। গোস্বামী পরিবারের এই দুর্গা শ্রীরামপুরের মানুষের কাছে ‘বুড়ি দুর্গা’ নামে বিখ্যাত।  

চারশো বছরেরও পুরনো এই পুজো। ইংরেজির ১৫৯৫ সালে পুজো শুরু হয়। শুরু করেন রাম গোবিন্দ গোস্বামী। এই পরিবারের আসল পদবী চক্রবর্তী। পরে অদ্বৈত মহাপ্রভুর সংস্পর্শে এসে তিনি বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন। এরপর তাঁর পদবী হয় গোস্বামী। এই বাড়িতে বহু আগে শামিয়ানা খাটিয়ে দুর্গার আরাধনা করা হত। কিন্তু পরে তৈরি হয় বড় ঠাকুরদালান। ১৮০০ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ হয়। তারপর থেকে ঠাকুরদালানের প্রতিবছর দুর্গাপুজো করা হয়। রথের দিন এই বাড়িতে কাঠামো পুজো করা হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় মূর্তি তৈরি। ঋগ্বেদীয় দেবী পুরাণ মতে এখানে পুজো করা হয়। মহালয়া থেকেই এখানে শুরু হয় পুজো। বৈষ্ণব মতে এখানে মাতৃ আরাধনা করা হয়। 

এই বাড়িতে একচালা মূর্তি পুজো হয়। এটি বসানো থাকে একটি কুলো আকারের তৈরি মাটির ছাঁচে। চালায় থাকে পাখিদের ছবি। ব্রহ্মাণ্ডের সকল প্রাণীই যে মা দুর্গার কাছে সমান, তা বোঝাতেই এমন চালচ্চিত্র নির্মাণ। ষষ্ঠীতে হয় দেবীর বোধন। নিয়ম মেনে সপ্তমীতে কলা বৌ স্নান, অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধিপুজো, কুমারী পুজো, নবমীতে ধুনো পোড়ানো- সবই হয় এখানে। তবে দশমীতে বদলে যায় নিয়ম। এই পরিবারের এয়ো স্ত্রীরা সকলে আমিষ খেয়ে তবেই দেবীকে বরণ করতে যান। আসলে উমাকেও যেন মাছ-ভাত খাইয়ে স্বামী গৃহে পাঠানোর কথা এর মাধ্যমে বোঝানো হয়।

From around the web

Education

Headlines