Aajbikel

ডায়েট চার্টে রয়েছে এই পাঁচ খাবার? জলে না ভিজিয়ে খেলে কিন্তু মিলবে না পুষ্টিগুণ

 | 
কাঠবাদাম

কলকাতা: শরীর চাঙ্গা রাখতে কেবল শরীর চর্চাই জরুরি নয়, প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবারও৷ কিন্তু জানেন কি, এমন কিছু খাবার আছে যাদের সঠিক পুষ্টিগুণ পাওয়ার জন্য জলে ভিজিয়ে রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। কোনও কোনও খাবার আবার সারা রাত জলে ভিজিয়ে খাওয়া অত্যন্ত ভাল। 

পুষ্টিবিদরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের তালিকায় বেশ কিছু খাবার আছে, যেগুলির সঠিক পুষ্টিগুণ মেলে জলে ভিজিয়ে রাখা হলে। এই অভ্যাস মেনে চললে শুধু পুষ্টিই হবে না, পেটের নানা রকম সমস্যা এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব হবে৷ এ বার প্রশ্ন হল, কোন কোন খাবার সারা জলে ভিজিয়ে খাওয়া উচিত?

আম: গরম আসছে৷ তাই প্রথমেই আসা যাক ফলের রাজা আমের কথায়৷ আম খেলে অনেকের শরীরেই র‌্যাশ বেরিয়ে যায়৷ সেই সমস্যার সমাধান হল জল৷ হ্যাঁ, আম খান জলে ভিজিয়ে। আমে থাকা প্রচুর পরিমাণে ফাইটোকেমিক্যাল শরীরে ফ্যাটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। আম খাওয়ার আগে তা কিছু ক্ষণ ভিজিয়ে রাখা হলে ফাইটোকেমিক্যালের ঘনত্ব তুলনায় অনেকটাই কমে যায়। এতে শরীরে ফ্যাট জমার আশঙ্কাও অনেকখানি কমে যায়। 


বলে রাখি ফাইটিক অ্যাসিড কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই উপকারী নয়। অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্ট হিসাবে পরিচিত এই অ্যাসিড সঞ্চিত থাকে আমের খোসায়৷ যা শরীরে আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালশিয়ামের মতো কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান শোষণে বাধা দেয়। এর হাত থেকে বাঁচতে সারা রাতের প্রয়োজন নেই, খাওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে জলে ভিজিয়ে রাখলেই হবে৷ ফাইটিক অ্যাসিড হবে ধুয়ে মুছে সাফ৷ 

ডাল জাতীয় খাবার: ডাল অনেকেরই সহ্য হয় না৷ বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়৷ ছোলার ডাল, মটর ডাল, কাবলি ছেলা কিংবা মুগ ডালের মতো খাবারে থাকে লেকটিনস ও ফাইটিক অ্যাসিড৷ এই দুই উপাদান একেবারেই সহজ পাচ্য নয়৷ তাই গ্যাস-অম্বলের সম্ভাবনাও মাথাচাড়া দেয়। ডাল রান্নার আগের দিন রাতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ভাল করে ধুয়ে রান্না করা হলে এই সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব।


মেথি: মেথির হাজারো গুণ৷ ডায়াবিটিস, রক্তচাপ, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে  চুল পড়া রোধ, কিংবা রক্তাল্পতার সমস্যা— একেবারে সহজলভ্য ঘরোয়া দাওয়াই হল মেথি। অনেকেই রান্নায় মেথি ব্যবহার করে থাকেন৷ তবে রান্নার চেয়ে মেথি ভেজানো জল খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। মেথি জলে ভিজিয়ে খেলে ফাইবারের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। আর জলে ভিজিয়ে মেথি খেলে তা হজম করতেও সুবিধে৷

কিশমিশ: আগের দিন রাতে ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ খেতে পারলে, তা খুবই উপকারী৷ কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং আয়রন। নিয়মিত ভেজানো কিশমিশ খেলে ক্যানসারের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। রক্তাল্পতার সমস্যা এড়াতেও ভেজানো কিশমিশ অত্যন্ত উপকারী। সারা রাত ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ খেলে গ্যাস-অম্বল, পেট ফাঁপার মতো সমস্যা থেকেই রেহাই পাওয়া যায়৷ 

কাঠবাদাম: পুষ্টিকর ডায়েটের তালিকায়  কাঠবাদাম মাস্ট৷ পুষ্টিবিদদের কথায়, বাদামের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের উৎসেচকগুলি সক্রিয় করতেই, তা ভিজিয়ে রাখা জরুরি। বাদামের খোসায় থাকা ফাইটিক অ্যাসিড ভাঙতে সাহায্য করে ওই উৎসেচকগুলি। এছাড়াও আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালশিয়ামের মতো খনিজগুলি শোষণে সাহায্য করে। এছাড়াও যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও বাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টিবিদরা৷ 
 

Around The Web

Trending News

You May like