×

প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ঠোঁট পুরুর নেশায় মত্ত তরুণী, কৃত্রিম স্তন বসাতে গিয়ে মারণরোগের হদিশ, বাঁচল জীবন

 
ঠোঁট

কলকাতা: বিচিত্র এই দুনিয়ায় কত বিচিত্র শখ৷ নিজেকে সুন্দর করে তুলতে চরম পর্যায়ে যেতে পিছপা হন না অনেকেই৷ কিন্তু তা বলে এমন কাণ্ড!    

আরও পড়ুন- অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙছে রোজ? অজান্তেই ক্ষতি হচ্ছে না তো শরীরের?

আন্দ্রেয়া ইভানোভা। পেশায় মডেল৷ বুলগেরিয়ার ওই তরুণীর দাবি, তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরু ঠোঁটের অধিকারী। তবে এই ঠোঁট তাঁর জন্মগত নয়৷ এহেন পুরু ঠোঁট বানাতে নিয়েছেন বহু ইঞ্জেকশন। নয় নয় করে বত্রিশ বার বিভিন্ন রকম অস্ত্রোপচার করিয়েছেন নিজের মুখের। এত কিছুর পরেও মন ভরেনি তাঁর৷ পুরু ঠোঁট আরও পুরু করতে ফের অস্ত্রোপচার করাতে উদ্যোগী এই বুলগেরিয়ান সুন্দরী৷ মুখের পাশাপাশি দেহের অন্যান্য অঙ্গেও বদল আনতে মরিয়া বছর ২৫-এর আন্দ্রেয়া৷ 

মুখের আবয়ব পাল্টাতে ২০১৮ সাল থেকে ইঞ্জেকশন নেওয়া শুরু করেন এই তরুণী। প্রতি ২ সপ্তাহ অন্তর হায়ালুরনিক ইঞ্জেকশন নিতে শুরু করেন৷ লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বদলে ফেলেন নিজের মুখ৷ তবে এ বিষয়ে তাঁকে বারবার সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের স্পষ্ট জানিয়েছেন,  এ ভাবে ক্রমাগত ইঞ্জেকশন নিতে থাকলে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে৷ তবে থামার পাত্রী নন আন্দ্রেয়াও৷ 


এই তো সেদিনকার কথা৷ নিজের ২৫ তম জন্মদিনেও অস্ত্রোপচার করান আন্দ্রেয়া৷ তবে এবার আর ঠোঁট নয়, চিবুক৷ কারণ পুরু ঠোঁটের পর বিশ্বের তীক্ষ্ণ চিবুকের মালকিন হওয়াই তাঁর লক্ষ্য৷ এর জন্য ভবিষ্যতেও অস্ত্রোপচার করাবেন৷ অস্ত্রোপচার করেছেন স্তনেও৷ 


আন্দ্রেয়ার এই কাণ্ড তাঁকে বিপদের দিকে ঠেলে দিলেও, কৃত্রিম স্তন বসাতে গিয়ে জীবন ফিরে পেলেন বছর ৫৩-র রেবেকা ক্রেগস৷ না, কোনও বিশ্ব রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে নয়, স্রেফ যৌবন ধরে রাখার জন্য কৃত্রিম স্তন বাসাত চেয়েছিলেন তিনি৷ অস্ত্রোপচারের আগে জানতে পারেন, শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ রোগ৷ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত তিনি৷ 


রেবেকা জানান,  স্তনে অস্ত্রপচারের পর শরীরে নতুন করে যেন যৌবন ধরা দিয়েছিল৷ খুশিতে একপ্রকার পাগল হয়ে উঠেছিলেন৷ অস্ত্রোপচারের পর নিজের দেহে হাত বোলাতে বোলাতে হঠাৎ খেয়াল করেন, স্তনের বাঁ দিকের অংশে একটি জায়গা দানার মতো ফুলে উঠেছে। সেটা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রেবেকা৷ দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকদের অনুমান ছিল সিস্ট হয়েছে৷ কিন্তু, মন মানছিল না রেবেকার৷ নিশ্চিত হতে বার্মিংহাম সিটি হাসপাতালে ম্যামোগ্রাম ও বায়োপ্সির মতো আরও কিছু পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন৷ সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে ক্যানসার। এর পর অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে ৪ মিলিমিটার দীর্ঘ ক্যানসার কোষ বাদ দেওয়া দেন চিকিৎসকরা৷ তাঁরা জানিয়েছেন, সৌভাগ্যবশত দেহের অন্য কোথাও ক্যানসার ছড়ায়নি।


 

From around the web

Education

Headlines