Aajbikel

যখন তখন অ্যান্টি বায়োটিক নয়, চিকিৎসকদের গাইডলাইন ছকে দিল স্বাস্থ্যদফতর

 | 
ওষুধ

 কলকাতা: যখন তখন মুঠো মুঠো অ্যান্টি বায়োটিক খাচ্ছেন? ডাক্তার না দেখিয়ে সামান্য জ্বর-জালা কিংবা সর্দি-কাশি হলেই হাত বাড়াচ্ছেন অ্যান্টিবায়োটিকের দিকে? এর ফল কী হতে পারে জানেন? একটা সময় পর হয়তো আপনার শরীরে কোনও অ্যান্টিবায়োটিক কাজই করবে না৷ 

অ্যান্ট বায়োটিক কখন খাবেন? খেলে ডোজই বা কত হবে? দশ বছরের বেশি শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যান্টি বায়োটিক প্রেসক্রিপশন লিখতে গেলে কোন ধরনের ওষুধই বা ডাক্তারবাবু লিখবেন, সে সব বিষয়ে নির্দিষ্ট গাইডলাইন ছকে দিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর৷ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা বয়স্ক অথবা গুরুতর অসুস্থদের প্রাথমিক স্তরে সংক্রমণ ঠেকাতেই বা কী ধরনের অ্যান্টি বায়োটিক দেওয়া হবে সে বিষয়েও গাইডলাইনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে৷ 

৯২ পাতার এই গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সামান্য জ্বর, শ্বাসকষ্ট, প্রদাহ, ত্বকের রোগ, পেটের সংক্রমণ, মাথার যন্ত্রণার মতো অসুখের ক্ষেত্রে অ্যান্টি বায়োটিক না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রতিটি জায়গাতেই এই গাইডলাইন ফলো করে প্রেসক্রিপশন করতে হবে৷ গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে মাঝেমধ্যেই হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন বিশেষজ্ঞরা৷ রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেখবেন। প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেই জানানো হয়েছে৷ 

কিন্তু কেন এই উদ্যোগ? চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ অ্যান্টি বায়োটিক এখন আর সে ভাবে কাজ করছে না। মামুলি অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দিচ্ছে না রোগী৷ যক্ষ্মা রোগীদের ক্ষেত্রে ড্রাগ রেসিস্ট্যান্ট তৈরি হচ্ছে। চোখের সংক্রমণের ক্ষেত্রেও মামুলি আই ড্রপ কাজ করছে না৷ সংক্রমণ রুখতে দিতে হচ্ছে আরও কড়া ডোজের ওষুধ৷ যাকে বলে সেকেন্ড লাইন অ্যান্টি বায়োটিক। যার ফলও হচ্ছে মারাত্মক৷ শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগ অথবা সেরিব্রাল স্ট্রোকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার ফলে অনেকসময় রোগীর শরীরে ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ দেখা যায়৷  এই ধরনের সংক্রমণ সাধারণত হ্যান্ড ওয়াশ, মাস্ক, গ্লাভস দিয়েই প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু, এর বদলে রোগীকে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি বায়োটিক প্রেসক্রাইব করা হয়৷  যা প্রাণঘাতীও হতে পারে৷ গাইডলাইনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, গত ১৫-২০ বছরে দেখা গিয়েছে, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের সুস্থ করার ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ চলতি অ্যান্টি বায়োটিক আর কাজ করছে না। যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। এই অবস্থার বদল ঘটাতেই নয়া গাইডলাইন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যদফতর৷ 


 

Around The Web

Trending News

You May like