নয়াদিল্লি: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতির মঞ্চে চমকের ধারা জারি রেখে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। আর ঘাসফুল হাতে নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বাজপেয়ী জমানার মন্ত্রীর মুখে শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা। শুধু প্রশংসাই নয়, ভোটের আবহে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তিনি।
কান্দাহারে ভারতীয় বিমান হাইজ্যাকের ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণের বদলে নিজেকে জামিন রাখতে চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলে যোগ দিয়ে এদিন এমনটাই দাবি করেছেন প্রাক্তন গেরুয়া নেতা যশবন্ত সিনহা। একসময় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং ৮১৪ আফগানিস্তানের কান্দাহারে হাইজ্যাক করেছিল পাকিস্তান সমর্থিত একদল দুষ্কৃতী। এদিন সেই ঘটনার সূত্র টেনেই চাঞ্চল্যকর এই দাবি করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বরাবরই একজন যোদ্ধা, তাও জানান যশবন্ত সিনহা।
বস্তুত, এই হাইজ্যাকের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী হারকাত-উল-মুজাহিদিন। ভারতীয় জেলে বন্দী কিছু দুষ্কৃতীর মুক্তির দাবিতে বিমান হাইজ্যাক করেছিল তারা। ওই দুষ্কৃতীদের তালিকায় ছিল মৌলানা মাসুদ আজহার, আহমেদ ওমর সইদ শেখ এবং মুস্তাক আহমেদ জারগার। বিমান যাত্রীদের মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য ভারত সরকার সেসময় ওই তিন সন্ত্রাসবাদীকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের পর সাংবাদিক সম্মেলনে যশবন্ত সিনহা বলেন, তিনি অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, “কান্দাহারের ঘটনায় হাইজ্যাক করা সেই বিমানের যাত্রীদের প্রাণের বিনিময়ে নিজেকে জামিন রাখতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম থেকেই উনি একজন যোদ্ধা ছিলেন এবং এখনও তা বদলায়নি। আত্মত্যাগের জন্য সবসময়েই তৈরি উনি।” যশবন্ত সিনহার যোগদানে দল উপকৃত হবে বলেই মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস।