মুম্বই: রোজ মদ্যপ অবস্থায় অত্যাচার করত বেকার স্বামী। সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মাথায় হাতুড়ি মেরে স্বামীকে হত্যা করল স্ত্রী। এরপর ছ’ ঘণ্টা মৃতদেহের সামনে বসে থেকে শেষে পুলিশে ফোন করে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ের চেম্বুর এলাকায়। আপাতত পুলিশ হেফাজতে আছেন স্ত্রী।
৩৮ বছরের বৈশালী ভকরে দাদর এলাকার এক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর স্বামী ৩৯ বছরের অশোক প্রায় রোজই মদ্যপান করে স্ত্রীর ওপরে অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ। তাদের সন্তানরা কয়েকদিনের জন্য মামাবাড়ি গিয়েছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত বলছে অশোক রোজই মদ্যপ অবস্থায় মারধর করতেন বৈশালীকে। এমনকী সন্তানদের গায়েও হাত তুলতেন অশোক বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, সোমবার রাত দেড়টা নাগাদ মদ্যপ অবস্থায় বৈশালীর সামনে আসেন অশোক। প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পর মারধর করা শুরু করেন তিনি বলে অভিযোগ। এই গণ্ডগোলের মধ্যেই জ্ঞান হারান মদ্যপ অশোক। রাত আড়াইটে নাগাদ হাতুড়ি নিয়ে অশোককে আক্রমণ করেন বৈশালী। আরসিএফ থানার সিনিয়র ইনস্পেক্টর সোপান নিঘোত জানান, হাতুড়ি দিয়ে অশোকের মাথায় পাঁচ-ছ’বার আঘাত করেন বৈশালী। এই আঘাতে প্রবল রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে। এরপরেও সকালের দিকে নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন অশোক। তাই দেখে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত করেন বৈশালী।
এরপরে ছ’ ঘণ্টা মৃতদেহের সামনে বসেছিলেন বৈশালী। শেষ পর্যন্ত সকাল ১১টা নাগাদ স্থানীয় থানায় ফোন করে সব কিছু জানিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় গ্রেফতার করে দু’ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বৈশালীকে। সোপান নিঘোত বলছেন, প্রত্যহ স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন ওই মহিলা। খুন হয়ে যেতে পারেন, এই ভয় থেকেই স্বামীকে হত্যা করেছেন তিনি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
