কলকাতা: বাংলার নির্বাচনের আবহে ফের একবার রাজ্যে সফরে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে শহর এবং রাজ্যকে নিয়ে একের পর এক প্রতিশ্রুতি যেমন দিলেন তিনি, তেমনই প্রথম তিন দফায় ভারতীয় জনতা পার্টি কটা আসন পাবে তার ব্যাখ্যাও করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অমিত শাহ দাবি করলেন, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম তিন দফায় বিজেপি ৬৩-৬৮ টি আসন পেতে চলেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাংলায় যে পরিমাণ সমর্থন পাচ্ছে বিজেপি তাতে পরিষ্কার আগামী দিনে এই রাজ্যে পদ্ম বাহিনী সরকার গড়বে। যদিও এর পাল্টা কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে অমিত শাহ স্পষ্ট দাবি করেছেন, প্রথম তিন দফায় অপ্রত্যাশিত সমর্থন পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি শিবির। তাই এই তিন দফাতে বিজেপি কমপক্ষে ৬৩-৬৮ টি আসন পাবে বলে অনুমান তাঁর। একই সঙ্গে বাংলায় যে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে তা একপ্রকার নিশ্চিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই দাবি করে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে বিজেপির যা ভাবনা রয়েছে তার ব্যাখ্যা দেন তিনি। কলকাতা শহরকে ‘সিটি অফ ফিউচার’ করার কথা ঘোষণা করেন অমিত শাহ। যদিও এর পাল্টা কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জনসভা থেকে বলেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি হারবে বলে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তারা কোনদিন বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে একদিন নরেন্দ্র মোদী পালিয়ে যাবে, এখনই ব্যাংক থেকে শুরু করে রেল সব বেছে দিচ্ছে। এরপর বাংলা দখল করে সবাইকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে তারা। তাই রাজ্যের সকল বাসিন্দাকে অবশ্য ভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। না হলে মমতার আশঙ্কা, যারা ভোট দেবেন না তাদের নাম আধার কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দেবে।
আরও পড়ুন- তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চেতলা, রাতভর চলল ইট-বৃষ্টি, আহত রুদ্রনীল
এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আরও দাবি করে বলেছেন, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন এবং প্রত্যেক দিন মানুষের সমর্থন যেভাবে দেখা যাচ্ছে তাতে পরিষ্কার যে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কলকাতা শহরকে নিয়ে আলাদা ভাবনা রয়েছে বলে এদিন জানান তিনি। শাহের কথায়, বিজেপি আসার পর নোবেল প্রাইজের মত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরস্কার এবং অস্কারের মত সত্যজিৎ রায় পুরস্কার চালু করা হবে। এর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের তোলাবাজি সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতি একেবারে শেষ করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করছেন, এখন কলকাতার বাঙালিরাও চিন্তায় রয়েছেন যে তাদের কী পরিস্থিতি হবে। কারণ অবাদ অনুপ্রবেশের জায়গা করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।