×

প্রতিটি নিখাদ প্রেমে বেঁচে থাকবে ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচীর ভালোবাসা, দু’জনার কেমিস্ট্রি ছিল অনন্য

 
ঐন্দ্রিলা সব্যসাচী

কলকাতা:  একটা আহত পাখির শান্তির নীড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি৷ হয়ে উঠেছিলেন ঐন্দ্রিলা শর্মার ‘জিয়ন কাঠি’৷ কতটা নিখাদ ভালোবাসলে সব্যসাচী হয়ে ওঠা যায়? কী ভাবে আমৃত্যু ভালোবাসার সঙ্গীকে আকড়ে ধরে থাকতে হয়, সেটা সব্যকে না দেখলে হয়তো বুঝতেই পারত না আজকের জেনারেশন৷ প্রযুক্তির হাত ধরে ছুটে চলা দুনিয়ায় প্রকৃত ভালোবাসার প্রকৃষ্ট উদাহরণ বুঝি ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচীই৷ 

আরও পড়ুন- ‘দু’জন, দু’জনের হাত ধরে বেঁচে ছিলাম আছি থাকব’,ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে আবেগঘন দিদি ঐশ্বর্যর

২০২১ সালে ঐন্দ্রিলার সার্জারির সময় সব্যসাচী লিখেছিলেন, ‘‘ফিনিক্সের মতো ফিরবে..’’৷ সত্যই আগুন পাখির মতো ফিরে এসেছিলেন সেই বার৷ ক্যান্সার মুক্ত হওয়ার পর ভালোবাসার মানুষটার হাত ধরে গিয়েছিলেন ঠাকুর দেখতে৷ ঘুরতে গিয়েছিলেন কালিম্পং৷ এক কঠিন লড়াইয়ের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল ঐন্দ্রিলার জীবন৷ কিন্তু শেষ রক্ষা হল কই! এবার আর ঘটল না মিরাকেল৷ রবিবার দুপুরে ২০ দিনের লড়াই শেষে পরপারে পাড়ি দিলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা৷ ছাড়লেন সব্যর হাত৷ তবে সারা জীবন ঐন্দ্রিলা অমর হয়ে থাকবেন সব্যসাচীর হৃদয়ে৷ 

ঐন্দ্রিলা
 

যদিও ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর পর অনেকে বলেছেন, ‘ভালোবাসা হেরে গেল’৷ অপর এক দল প্রতিবাদে গর্জে উঠে বলেছে, ‘‘এমন ভালোবাসার মৃত্যু হয় না৷’’ প্রতিটা মুহূর্ত যে ভাবে ঐন্দ্রিলার হাত শক্তি করে ধরে রেখেছিলেন সব্যসাচী, তা যেন এক দৃষ্টান্ত৷ তাঁর এই ভালোবাসাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন টেনিজেনরা৷ মৃত্যুর পরও ঐন্দ্রিলার পাশে ঠায় বসে থাকতে দেখা গিয়েছে সব্যকে৷ নিজের হাতে কপালে চন্দন পরিয়ে, পায়ে চুমু এঁকে, প্রণাম জানিয়ে চিরবিদায় জানিয়েছেন প্রিয়তমাকে৷ কিন্তু কী ভাবে শুরু হয়েছিল এই পথ চলা?


সালটা ২০১৭৷ ঝুমুর ধারাবাহিকের সেটে প্রথম আলাপ হয় দু’জনের৷ প্রথমেই অবশ্য প্রেম হয়নি৷ বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়তে বাড়তেই তা মোড় নেয় ভালোবাসায়৷ ঐন্দ্রিলার সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িয়ে যান সব্যসাচী৷ প্রথম দিকে নিজেদের সম্পর্ক আড়ালেই রেখেছিলেন তাঁরা৷ ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখাই পছন্দ ছিল সব্যর৷ গোপনে সযত্নে বুনছিলেন ভালোবাসার ভিত৷ তাঁদের ভালোবাসা শিরোনামে জায়গা পাক, চাননি অভিনেতা৷ তাই আড়ালেই ঐন্দ্রিলার সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করেন৷ কখনও চায়ের আড্ডায়, কখনও কখনও বিশেষ দিনে একে অপরের হাতে হাত রেখে কাটিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা৷

একবার এক সংবাদমাধ্যম ঐন্দ্রিলা-সব্যসাচীকে প্রশ্ন করেছিল, "আপনাদের ডেট কেমন হয়?"  তাঁদের জবাব ছিল, "আমাদের ডেট বলে কিছু হয় না। আমরা খেতে যাই। ওটাই মোদ্দা কথা।" তাঁরা দু'জনেই যে স্ট্রিট ফুড খেতে ভালোবাসেন, সে কথাও জানিয়েছিলেন অভিনেতা৷ ভালোবাসার তালিকায় ছিল ফুচকা, পাপড়ি চাট কিংবা মোমো৷ ফুচকা সামনে পেলে ডায়েট চাট ভুলতেন ঐন্দ্রিলা৷ কোনও আড়ম্বর নয়৷ তাঁদের মধ্যে ছিল নিখাদ প্রেম৷ ওই সাক্ষাৎকারেই সব্যসাচী বলেছিলেন, ঐন্দ্রিলা নামটা শুনলেই যে কথাটা মাথায় আসে, সেটা হল ‘আমার’৷ সব্যর এই উত্তরে কিছুটা থতমত খেয়েছিলেন ঐন্দ্রিলাও৷  

সব্যসাচী ঐন্দ্রিলা
 

বেশ ভালোই কাটছিল সব কিছু৷ কিন্তু ২০২১ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ফের এক চরম বাস্তবেব মুখোমুখি দাঁড়ালেন ঐন্দ্রিলা৷ সেবার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে তাঁর৷ সব্যসাচী জানিয়েছিলেন, ঐন্দ্রিলা ভ্যালেন্টাইন ডে সেলিব্রেট করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু আগের দিন রাত থেকে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন অভিনেত্রী৷ কারণ সন্ধানে নেমে ফের এক ধাক্কা৷ জানতে পারেন, হৃদযন্ত্রের গা ঘেঁষে ফুসফুসের ভিতরে বেড়ে উঠেছে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। একবার ক্যান্সার জয়ের পর দ্বিতীয়বার সেই একই ঝড়, ভেঙে দিয়েছিল ঐন্দ্রিলাকে৷ মনে পড়ে গিয়েছিল একাদশ শ্রেণির সেই দুর্বিসহ যন্ত্রণার কথা৷ সেই সময় শক্ত করে তাঁর হাত ধরেছিলেন সব্যসাচী৷ প্রতিটা মুহূর্ত তাঁকে আগলে রেখেছিলেন৷ ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘‘একটা মেয়ে অনন্ত নিশি থেকে ধূমকেতুর মতন ছুটে এসে ফের নিকষ অন্ধকারে হারিয়ে যাবে, সেটা আমিও ঠিক মেনে নিতে পারিনি।"  


এক সাক্ষাৎকারে ঐন্দ্রিলা জানিয়েছিলেন, কেমোথেরাপি চলাকালীন হাসপাতালে তাঁর পাশে ছিলেন সব্যসাচী। তিনি বলেছিলেন, "একদিন আমি হাসপাতালের বেডে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। চোখ খুলেই ওর মুখটা দেখলাম। কী যে শান্তি পেলাম বুঝিয়ে বলতে পারব না। ও আমার পাশে না থাকলে এতটা মনের জোর হয়ত পেতাম না।" এবারও যখন ব্রেন স্ট্রোকে আত্রান্ত হলেন, তখন নিজের হাতে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন সব্য৷ বলেছিলেন, নিজের হাতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাব৷ কিন্তু তা আর হল না৷ মাত্র ২৪-এই ফুরলো  ঐন্দ্রিলার জীবনের পাতা৷  


 

From around the web

Education

Headlines