×

পুজো-পাঠ ২০২০: ‘অন্তহীন’ কলমে সর্বানী বড়াল

 

সর্বানী বড়াল

হঠাৎ ডোরবেলের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো রাই-এর। দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখে সামনে এক রাশ অন্ধকার, কই সঞ্জয় তো নেই। ভালো করে ঘুম চোখ কচলে দেখলো ভুল হচ্ছে তারতা সঞ্জয়কে না দেখতে পেয়ে মুখ বাড়িয়ে এদিক ওদিক দেখলো কারণ সে জানে তার ভালবাসার মানুষটি খুনসুটি না করলে পেটের ভাত হজম হয় না। কিন্তু কই এবার তো সে এদিক ওদিক থেকে বেরিয়ে এসে তার গালদুটো ধরে আদর করলো না। খানিক উদাস মনে দরজা বন্ধ করে শোফায় ফিরে এল রাইকিশোরী। খানিক অন্যমনস্ক হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে ডায়াল করলো সঞ্জয়ের নাম্বার।ঘন্টাতিনেক আগের মতোই যান্ত্রিক কণ্ঠে ভেসে এল, ‘আপনি যার নম্বর ডায়াল করছেন তাঁর সাথে এই মুহূর্তে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না’। ঘড়িতে দেখলো রাত বারোটা বাজে। সঞ্জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কখন যে সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল তা বুঝতেই পারেনি।

টেবিলে সাজিয়ে রাখা খাবারগুলো ফ্রিজে তুলে ডাইনিং-এর আলো নিভিয়ে শোয়ার ঘরে বিছানায় মাথা রাখল। এর আগে অনেক বার হয়েছে, প্লেন ল্যান্ড করার পর বৃষ্টির কারণে ওপরে উঠতে পারেনি সঞ্জয়। কিন্তু একটা ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে সে, কারণ সে জানে তার রাই দুশ্চিন্তা করলে হাইপার টেনশন হয়। নিজেকে স্বান্তনা দিতেই রাই ভাবার চেষ্টা করলো গত সাত বছরে বার চারেক এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সঞ্জয়। পরের দিন সকাল সকাল ফিরেও এসেছে, তাই খানিক নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোনোর চেষ্টা করতে লাগল রাই, ঠিক মতো ঘুম না হলে যদি মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ে তাহলে সকালে ফিরে এসে খুব রাগ করবে সঞ্জয়।

প্রায় দুমাস পরে বাড়ি ফিরছে সঞ্জয়, তাই নতুন করে আর কোনও টেনশন তাকে দিতে চায় না রাই।ঘুমের চেষ্টা করেও কেন যে ঘুম আসছে না তার শুধু মনে হচ্ছে একটা ফোন কেন করলো না সঞ্জয়, যে একবেলা তার রাই-এর সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারে না, কি করে গোটা একদিন কথা না বলে থাকল সে। বিভিন্ন চিন্তা, দুশ্চিন্তার মধ্যেই যে কখন দুচোখের পাতা এক হয়ে গেছে তা বুঝতেই পারেনি রাইসুন্দরী।

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে চা জলখাবার খেয়ে স্কুলে যায় রাই, কিন্তু আজ অজানা কোনও কারণে মনটা ভার হয়ে আছে, একেবারেই স্কুলে যেতে ইচ্ছে করছে না তার। কিন্তু উপায় নেই ছুটি নেওয়ার, সামনে পুজোর ছুটি আসছে, সিলেবাস শেষ করার চাপ আছে। অনিচ্ছা সত্বেও তৈরি হয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়লো রাই কিন্তু মন পড়ে আছে সঞ্জয়ের কাছে। স্কুলের সঙ্গে লাগোয়া কোয়ার্টারেই দুজনের সুখের সংসার। অন্যদিন পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে স্কুলে আসতে খুব বেশী হলে যে রাস্তা ৫ মিনিট লাগে আজ যেন মনে হচ্ছে পথ আর ফুরোচ্ছে না। প্রায় জোর করে শরীরটাকে টেনে টেনে অফিস পর্যন্ত এনে সব জোর যেন শেষ হয়ে গেলকোনও রকমে তিন পিরিয়ড পর্যন্ত স্কুলে থেকে প্রায় দৌড়ে বাড়ি ফিরে দেখে তার আশঙ্কাই ঠিক, বাড়ি ফেরেনি সঞ্জয়। অন্যবার যখন এরকম দেরী হয়েছে তখন দুপুর বারোটার মধ্যেই চান খাওয়া শেষ করে অন্তত ১৮ বার মেসেজ করে সে পাগল করে দেয় তার আদরের রাইকে, কিন্তু এবার যেন একটা মানুষ কর্পূরের মতো উবে গেল। কোথায় গেল, কেন গেল কিছুই মাথায় আসছেনা তার।

এবার বেশ ভয় পেয়ে স্কুলের কলিগদের জানালো রাই। শোনামাত্রই বেশ কয়েকজন এসে সব শুনে রাইকে বুদ্ধি দিল পুলিশকে জানাতে। কিংকর্তব্য রাই তখন কলিগদের বুদ্ধি নিয়ে এক মুহূর্ত দেরী না করে থানায় ফোন করলো। হেডদিদিমণি হিসেবে স্থানীয় মানুষ রাইকে বেশ সম্মান করতো। শোনা মাত্রই অফিসার এসে রাই-এর মুখ থেকে সব কথা শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেন।দুপুর গড়িয়ে বিকেল,বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হলো, শেষে রাত। এরমধ্যে এক এক করে জানা গেল সঞ্জয় ঠিক সময়ে নিউজার্সি থেকে রওনা হয়ে কলকাতায় পৌঁছয়, সেখান থেকে সে রাইকে ফোন করে জানায় কিছুক্ষণের মধ্যেই বাগডোগরার প্লেন ধরার কথা। তার পর থেকেই তার ফোন সুইচ অফ, আর অজ্ঞাত কারণে বাগডোগরার ফ্লাইট ধরেনি সে। পুলিশের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়ে যেন নিজে কানে বিশ্বাস করতে পারছিল না রাই।

এক রাশ চিন্তা যেন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল তাকে। হঠাৎ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া ক্যানভাসে পরিষ্কার ছবির মতো ফুটে উঠছিল স্মৃতিমাখা এক একটি চিত্র।সদ্য কেমিষ্ট্রিতে ডক্টরেট করে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় পাশ করে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়েছে ডক্টর দম্পতির এক মাত্র আদুরে কন্যা রাইকিশোরী। হঠাৎই এক অনুষ্ঠানে দেখা সঞ্জয়ের সঙ্গে। সুপুরুষ, সল্পভাষী সঞ্জয় প্রথম দর্শনেই জয় করে নেয় বুদ্ধিদৃপ্ত, স্বল্পভাষী অপরূপ সুন্দরী রাইকিশোরীর মন। চার হাত এক হতেও বেশী সময় লাগলো না, ১০ বছর রাই আর সঞ্জয়ের দুনিয়ায় এসেছে কতো সুখ দুঃখ, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলেছে ওরা। বিয়ের ৩ বছরের মাথায় সেদিন ছিল ওদের বিবাহবার্ষিকী, আনন্দ করে সকলে বেরিয়েছিল লং ড্রাইভে, হঠাৎ এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ওরা হারিয়েছে নিজেদের বাবা মা কে, হারিয়েছে ৬ মাসের সন্তান, সঞ্জয়ের ডান পা আর রাই-এর চিরকালের জন্য মা হওয়ার স্বপ্ন। জীবনের এত বড় আঘাতও তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারেনি জীবনী শক্তিকে। পরস্পরের হাত ধরেই সুখেই কাটছিল ওদের দিন। এর মাঝেই শহর থেকে অনেক দূরে পাহাড়ে এক নামী স্কুলে প্রধান শিক্ষিকার চাকরী নিয়ে চলে আসে রাই। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয়ও চলে আসে রাই এর সাথে। কাজের প্রয়োজনে বিদেশ সফর ছাড়া আর কোনও সময়ই সে চোখের আড়াল হতে দিত না তার রাইসুন্দরীকে। প্রতিবারের মতো এবারও তাড়াতাড়ি ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে সে, বিবাহবার্ষিকীতে এক সাথে ডিনার করবে। গত ১০ বছর এটাই ছিল তাদের অভ্যেস বা পরস্পরের প্রতি কমিটমেন্ট। অভ্যাসবশত এ বছরও রাই সযত্নে টেবিলসাজিয়ে অপেক্ষা করছিল তার প্রিয়তমর।

রাই অনুভব করছিল চোখের জলে জীবনের চিত্রপটগুলো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, একটু একটু করে ভাবনার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে সে। প্রাণপণে সঞ্জয়ের হাতটা শক্ত করে ধরার চেষ্টা করছে কিন্তু বার বার স্লিপ করে আরও গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে সে। প্রচন্ড ঠান্ডার অনভূতিতে নিশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছে তার। চোখ মেলে রাই দেখলো অভিরূপ বসে আছে গম্ভীর মুখে। চোখ মেলতেই উদ্গ্রীব গলায় প্রায় ধমকের সুরেই অভিরূপ তাকে জানায় টানা দেড়দিন এই ভাবে অচৈতন্য হয়ে আছে সে। ডাক্তার বলেছে অতিরিক্ত স্ট্রেস থেকেই তার এই অবস্থা।ধীরে ধীরে বালিশে হেলান দিয়ে উঠে বসলো রাই, অভিরূপকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লো, সঞ্জয়ের হারিয়ে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে দুশ্চিন্তা আর অভিমানে গলা বন্ধ হয়ে এল, একটা দলা পাকানো কষ্ট যেন তার সমস্ত বাকশক্তি রোধ করে দিয়েছে।

যেদিন থেকে বোধবুদ্ধি হয়েছে সেদিন থেকেই অভিরূপ আর রাইসুন্দরীর বন্ধুত্ব। জীবনের নানা ওঠাপড়াতেও এতটুকু চিড় ধরেনি তাতে। যেদিন রাই সঞ্জয়ের হাত ধরে নতুন সংসার জীবনে প্রবেশ করেছিল, সেই দিন চোখের জল চেপে হাসিমুখে সব দায়িত্ব পালন করতে যে কি কষ্ট হয়েছিল তা শুধু অভিরূপই জানে, ভেতর ভেতর ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া মনের খবর আজও সে বুঝতে দেয়নি তার প্রিয়তমাকে, জীবনের প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা তার রাইসুন্দরীকে। রাই যখন উঠে বসে তার বুকে মাথা রেখে অঝোরে কেঁদে চলেছে তখন দাপুটে চিকিৎসক অভিরূপের ভিতরটাও ভেঙে খান খান হচ্ছিল। ধীরে ধীরে রাইকে শান্ত করে ওর মনোবল ফেরানোর চেষ্টা করতে থাকে সে, কিন্তু রাই শিশুর মতো তাকে আঁকড়ে ধরে যেন কি যেন একটা খুজঁছিল, হয়তো আশ্রয়, হয়তো ভালোবাসা।

অনেক অনুনয় বিনয় সত্বেও অভির সাথে ফেরেনি রাই। বচ্চাদের সঙ্গেসময় কাটিয়ে আর সবার অলক্ষ্যে সঞ্জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতেই জীবনের ২০ টা বছর পার হয়ে গেল তার। না বাড়ি থেকে বেরিয়ে অন্য কোথাও গেছে সে, না কারুর সঙ্গে গ্লপগুজব করেছে এই এতোগুলো বছরে। শুধুমাত্র স্কুল আর বাড়ি, কেবল এক যন্ত্র চালিত রোবটের মতো শুধু কাজ, কাজ আর কাজ। শুধুমাত্র অভি এলেই যা একটু হাসি গল্প করতো সে, সময়ের সাথে সে অনুভব করছিল কাজ আর অভির জন্য অপেক্ষা কোথায় যেন সঞ্জয়ের চলে যাওয়ার কষ্টকে অনেকটাই লাঘব করেছে। আজ ২০ বছর পর রাইসুন্দরী বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে, অভিরূপের ডাককে আজ আর সে অস্বীকার করতে পারেনি। হালকা ক্রিম রঙের শাড়ি, ছোট্টো একটা কালো টিপ আর অগোছালো হাত খোঁপায় আজ যেন সবপ্নসুন্দরীর চেহারা নিয়েছে রাই। বহু বছর কোনও জনসমাগমে না যাওয়াতে একটা অস্বস্তি তো ছিলই মনে, কিন্তু অভির উষ্ঞ আমন্ত্রণকেও উপেক্ষা করতে পারেনি সে। অভির বাড়িতে এসে খানিক অবাক না হয়ে পারলো না রাই। বুঝতে একটুও অসুবিধা হলো না নিমন্ত্রিতের সংখ্যা খুবই কম। বেশ বিস্ময় নিয়ে বাড়িতে ঢুকে শিরদাঁড়া দিয়ে যেন একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল রাইয়ের।

সামনে এ কাকে দেখছে সে, এ তো ৩০ বছর আগের সঞ্জয় দাঁড়িয়ে তার সামনে। কি বলবে, কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না রাই, খালি অনুভব করছিল চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। রাইকে কোনও রকমে শান্ত করে একটা সোফাতে বসালো অভিরূপ। এর পর সে রাইকে শান্ত গলায় তার সব কথা শোনার জন্য অনুরোধ করলো, রাইয়ের সামনে এ আজ এক অন্য অভি। প্রথমে সে আলাপ করালো রোহনের সঙ্গে। রোহন রায়চৌধুরি, প্রয়াত সঞ্জয় রায়চৌধুরির এক মাত্র সন্তান। যে রোহন ২৭ বছর আগে সেই ভয়ঙ্কর সর্বগ্রাসী দুর্ঘটনায় চিরকালের মতো রাই কে ছেড়ে চলে গেছিল সেই রোহন ফিরে এসেছে, তা কি হয়। একরাশ জিজ্ঞাসা নিয়ে সে যখন অভির দিকে তাকালো তখন অভি সম্মতি সূচক ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে জানালো রোহন সঞ্জয় আর অনন্যার সন্তান। ২৫ বছর আগে অনন্যার সঙ্গে কর্মসূত্রে আলাপ হয় সঞ্জয়ের, কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই সম্পর্ক ভালোবাসায় পরিণত হয়। ভালোবাসার স্বীকৃ্তি হিসেবে মন্দিরে বিয়ে করে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর বাগডোগরার প্লেন মিস করে ওরা, রাইকে দেওয়া কথা রাখার জন্য ওই দিন রাত্তিরে একটা গাড়ি ভাড়া করে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা হয় তারা, সঙ্গে এক মাসের রোহন। ফেরার তাড়ার জন্য গাড়ির গতি ছিল নিয়ন্ত্রণহীন, তারউপর অসময়ে বৃষ্টি বর্ধমানের কাছে একটা ট্রাক এসে মুখোমুখি ধাক্কা মারে তাদের গাড়িতে। ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়িটি, গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে যখন এক এক করে সকলকে বার করে আনা হচ্ছিল তখনই বের হল অনন্যার নিথর দেহ, গাড়ির ডানদিকটা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ড্রাইভারকেও বাঁচানো যায় নি, সঞ্জয়কে যখন উদ্ধার করা হয় তখন রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার শরীর। এত ধবংসের মাঝে ছোট্ট রোহন হাত পা ছুঁড়ে খেলছিলো। কোনও রকমে সঞ্জয় অভিরূপকে খবর দিতে বলে জ্ঞান হারায়। মধ্য রাতেই অভি একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে দৌড়োয় বর্ধনমানের উদ্দ্যেশ্যে, পৌছে দেখে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সঞ্জয়, অভির দুচোখ তখন রাইকে খুঁজেবেড়াচ্ছে, কিন্তু সঞ্জয়ের মৃত স্ত্রী-এর জায়গায় অনন্যাকে দেখে সব গুলিয়ে গেল তার।তখন তার কোলে ছোট্ট রোহন। জ্ঞান আসতে অনেক কষ্ট করে সঞ্জয় জানালো তার দ্বিতীয় বিবাহের কথা, পাশাপাশি সে বললো রাইকে সে খুব ভালোবাসে কিন্তু অনন্যার আকর্ষণও সে অস্বীকার করতে পারেনি। তার বড় ভুল হয়ে গেছে, রাইয়ের কাছে সে ক্ষমাপ্রার্থী। বারবার অনুরোধ করতে লাগলো তার এই ভুলের খবর যেন রাই না জানতে পারে, তাহলে সে তার ভালোবাসাকে ভুল বুঝবে। আর নিরপরাধ, অসহায় রোহনের জীবন ভিক্ষা চাইলো তার কাছে। এর অল্প সময়ের মধ্যেই সকলকে ছেড়ে চিরকালের মতো চলে গেল সঞ্জয়। মৃত্যুর সময় বন্ধুকে দেওয়া কথা আর রোহনের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে অভি রাইকে একটা কথাও জানতে পারেনি। আর এক বার সত্যি না বলতে পারার যন্ত্রণায় কষ্ট পেয়েছে। আজ অভি বৃদ্ধ হয়েছে, রোহনকে রাই-এর স্বপ্ন মতো ডাক্তার করেছে, আজ মা ছেলেকে মিলিয়ে দিতে পারলেই তার ছুটি।

এতক্ষণ পথরের মতো বসে সব কথা শুনে ধীরে ধীরে অভির দিকে এগিয়ে গেল রাই ওর বুকে মাথা রেখে চোখের জলে ভাসিয়ে দিল জমানো সব অভিমান। অভি বুঝতে পারলো না এই এত অভিমানী কান্নার কারণ, সব হারিয়ে ফেলার কষ্ট না নতুন করে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। খুব ধীরে দৃঢ় গলায় রাই বললো, আর তো তুমি ছুটি পাবে না, এতদিন শুধু দিয়ে গেছ এবার তোমার পাওয়ার পালা। সংসার পরিবার নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করো অভি। ভুল যেমন সঞ্জয় করেছিল তার চরম শাস্তি তো সে পেয়েছে, ভগবান একবার সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু ও পারেনি সেই সুযোগকে সততার সঙ্গে গ্রহণ করতে, ভালোবাসাতে তো কোনও অন্যায় নেই, কিন্তু মিথ্যার আশ্রয়ে ভিত গড়ে তৈ্রি ভালোবাসার শাস্তি সে পেয়েছে। ওদের শাস্তির দায় আমার সন্তানের নয়, তাই ও কেন বাবা মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে, ওর প্রাপ্য ভালোবাসা ওকে ফিরিয়ে দাও। এরপর রোহনকে বুকে জড়িয়ে আদরে আদরে ভরিয়ে দিল রাই। মনে মনে সঞ্জয়কে ধন্যবাদ দিয়ে বললো তুমি যদি আমাকে ধোঁকা না দিতে তাহলে এই জীবনে আমার আর মা হয়ে ওঠা হতো না, তাই আমি তোমায় ক্ষমা করলাম, আজ তুমি রাইসুন্দরীর কাছ থেকে মুক্তি পেলে। আজও ৯ ই সেপ্টেম্বর, নতুন করে শুরু হল এক অন্তহীন অপেক্ষায় থাকা পরিবারের নতুন করে পথ চলা। আজ সত্যি ভালোবাসা পেল তার দিশা, আর সন্তান পেল তার মা। 

From around the web

Education

Headlines