Aajbikel

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রক্ত চুষে মুনাফা লুটছে গুগল-ফেসবুক, কবে পদক্ষেপ নেবে সরকার?

 | 
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রক্ত চুষে মুনাফা লুটছে গুগল-ফেসবুক, কবে পদক্ষেপ নেবে সরকার?

নয়াদিল্লি: এবিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করার অবকাশ সম্ভবত কেন্দ্র সরকারের হয়ে ওঠেনি যে বিদেশি দুই সংস্থা গুগল এবং ফেসবুক এদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলির দৌলতে কি হারে নিজেদের আয় বাড়িয়ে চলেছে অথচ তুলনায় সংবাদমাধ্যমগুলিকে সেই বিশাল আয়ের অঙ্ক থেকে  সাম্মানিক হিসেবে ছিঁটেফোঁটাও পাচ্ছেনা সংবাদমাধ্যমগুলি। 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া'র সম্পাদকের কলমে এমনই বঞ্চনার অভিযোগ উঠে এসেছে। এবিষয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রচেষ্টাও করা হয়েছে।

শুরুতেই ১৮৭৬ সালের মার্ক টোয়েন-এর একটি উপন্যাস 'দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অফ টম সয়ার'-এর একটি অংশ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে মার্ক সয়ার এক ঘর্মাক্ত গ্রীষ্মে নিজের বন্ধুদের সহায়তায় একটি বেড়ায় রং করিয়ে নিয়েছিলেন এবং তাদের কাছ থেকেই পারিশ্রমিক আদায় করেছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে গুগল,ফেসবুকের অবস্থা একইরকম। খবরের বিষয়সমূহ বিস্তৃত আকারে সরবরাহ করার জন্য এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির কৃতজ্ঞতা দাবি করে এবং যথেষ্ট খরচে তৈরি হওয়া কনটেন্টটগুলি থেকে আয় ভাগ করে নেওয়ার কথা উঠলেই তারা আর কানে শুনতে পায় না। খবর সংগ্রহের জন্য গুগল ও ফেসবুককে কোনও বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না কিন্তু এর মাধ্যমে পাওয়া বিজ্ঞাপন থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করে যাচ্ছে। অথচ যৎসামান্য সংবাদ সরবরাহকারীদের দিচ্ছে। এই রাহাজানির বিষয়ে কেন্দ্রের অবশ্যই নজর দেওয়া উচিত, যেভাবে অস্ট্রেলিয়া, অনলাইনে বিজ্ঞাপনের রাজস্ব স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য বাধ্য করেছে গুগল ও ফেসবুককে।

কোভিড-১৯-এর জন্য বিজ্ঞাপনের রাজস্ব যেহেতু তলানিতে এসে ঠেকেছে, এই অবস্থায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও খবরের আউটলেটগুলির মধ্যে বিরাট এই বৈষম্য মেটাতে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কর্তৃপক্ষের। সংবাদমাধ্যমগুলি বিরাট মানবসম্পদ ও অর্থ খরচের মাধ্যমে খবর সংগ্রহ, তা যথাযথভাবে এডিট করা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে প্রকাশ বা পেশ করে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় সাম্প্রদায়িক হিংসার সময় বা COVID-19-এর মতো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা এলে, ব্যক্তিগত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকরাই নাগরিকদের সঠিক তথ্য পেশ করে চলেন।

কোভিড -১৯ বিজ্ঞাপনের রাজস্ব ক্রাশ প্রেরণের সাথে সাথে কর্তৃপক্ষকে জরুরীভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সংবাদমাধ্যমগুলির মধ্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্যতার সমাধান করতে হবে। সংবাদ মাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি গুলির সঙ্গে বহু মানুষ এবং অর্থনৈতিক সংস্থার বিনিয়োগ রয়েছে। উচ্চ মানের খবর প্রকাশের জন্য তার সত্যতা এবং প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করে সংক্ষিপ্ত ও সুন্দর ভাবে খবর প্রকাশের জন্য  নিখুঁতভাবে সম্পাদনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা কোভিড -১৯ এর মতো স্বাস্থ্যক্ষেত্রে জরুরী পরিস্থিতিতে, নাগরিকদের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকরা ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও খবর সরবরাহ করে।

গুগল ও ফেসবুক যদি সংবাদ শিল্পকে এভাবে ধ্বংস করে, তাহলে তাহলে তা গণতন্ত্র, পক্ষে ভালো খবর নয়।  গুগল এবং ফেসবুক যদি সংবাদপত্রের শিল্পকে ধ্বংস করতে সফল হয়, তবে এটি গণতন্ত্র, গণ-শৃঙ্খলা বা জীবিকার জন্য সুসংবাদ হবে না। সাংবাদিকতা জনস্বার্থে তথ্যের জন্য স্বাধীনভাবে খবর সরবরাহ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভুল তথ্যের কারণে যে আতঙ্ক তৈরি হয় দেশ এবং নাগরিকদের তার থেকে সুরক্ষিত রাখে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি দুটি ক্ষেত্রকেই উপভোগ করে থাকে, ভাইরাল ভুলতথ্য এবং ভুয়ো খবর প্রমানিত হলে সেই খবরের ওপর নজরদারি।

এই খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বহুজাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পেতে কঠোরভাবে আলোচনার প্রয়োজন হয়। রাজস্ব ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর চাপ দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে স্পেন ও ফ্রান্সের সরকার। স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে খবর পরিবেশনের জন্য সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে পারিশ্রমিকের বিষয়ে সমঝোতা করার নির্দেশ দিতে পারে। করোনা পরিস্থিতিতে এবিষয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এগিয়ে আসার পর অস্ট্রেলিয়া জরুরী ভিত্তিতে আইন অনুসারে এই সমঝোতার ব্যবস্থা করেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে, সেখানে সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে তাদের একটা সমতা আনার চেষ্টা করা উচিত। ফেসবুক ও গুগল ২০১৮-১৯ সালে ভারত থেকে অন্তত ৭০% (১১,৫০০ কোটি টাকা) বিজ্ঞাপন রাজস্ব আদায় করেছে। ২০২২ সালে সেই বাজারই ২৮,০০০ কোটি টাকার হতে চলেছে। ভারতে যেখানে ভারতীয়দের ঘাম ও রক্ত নর্দমায় মিশে যাচ্ছে, স্থানীয়  সম্প্রদায় এবং ব্যবসা ধ্বংসের মুখে তখন এই ডিজিটাল ঔপনিবেশিকতা রোধ করা উচিত কেন্দ্রীয় সরকারের।

Around The Web

Trending News

You May like