×

বাবা ছিলেন CPIM প্রধান, ছেলের রাজনীতির হাতেখড়ি তৃণমূলে! অল্প সময়েই গুরুত্বপূর্ণ পদ পান কুন্তল 

 
কুন্তল

 কলকাতা:  নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ‘ঘনিষ্ঠ’ তাপস মণ্ডলের সূত্র ধরে শুক্রবার তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। শনিবার তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার হন কুন্তল৷ এর পরেই শুরু হয় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের খেলা৷ কুন্তলের অভিযোগ, সিবিআই-ইডির নাম করে তাঁর কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল৷ তাপসের দাবি, ঘুষ নয়, চাকরির জন্য যাঁদের টাকা নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের টাকা ফেরতের জন্য কুন্তলকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাপসের সেই দাবি খারিজ করে কুন্তল বললেন, ‘‘একদমই না।’’  এখন প্রশ্ন হল কে এই কুন্তল? 

আরও পড়ুন- ISF কর্মীদের পথে বাধা, চলল গুলি-বোমা, পুড়ল তৃণমূল পার্টি অফিস! তাণ্ডব ভাঙড়ে


কুন্তল হলেন হুগলির বলাগড়ের তৃণমূল যুবনেতা৷ বাড়ি হুগলির শ্রীপুর বলাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ধাওয়াপাড়া এলাকায়৷ বাবা স্বপন ঘোষের স্টিলের বাসনের ব্যবসা৷ তবে বাবার ব্যবসার প্রতি কোনও দিনই ঝোঁক ছিল না তাঁর৷ পড়াশোনা শেষ করার পর বাবার ব্যবসার দিকে এগোননি৷ বরং ২০১১ সালে ধনেখালিতে একটি বি এড কলেজে পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করেন৷ সেই সময়  সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না তিনি৷ ২০১৬ সালে ধীরে ধীরে রাজনীতির দুনিয়ায় পা রাখা তাঁরা৷ বাবা একসময় ছিলেন সিপিএম নেতা৷ একসময় বলাগড়ের শ্রীপুর পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রধানও ছিলেন তিনি৷ কিন্তু কুন্তল লাল ঝাণ্ডা ধরেননি৷ তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি ঘাসফুলেই। 


তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর বলাগড় বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন কুন্তল৷  জেলার নেতা হলেও হুগলির চেয়ে কলকাতাতেই বেশ যোগাযোগ ছিল তাঁর। দলের যুব সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কলকাতায় উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

মাত্র ৫-৬  বছরের মধ্যে তৃণমূলে উত্থান ঘটেছিল কুন্তলের৷ খুব কম সময়ের মধ্যেই তাঁকে তৃণমূলের যুব সংগঠনের অন্যতম রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব সঁপেছিল দল। শাসকদলের নেতা হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের ‘হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনে’র সভাপতির দায়িত্বও পেয়েছিলেন বলাগড়ের তৃণমূল নেতা।রাজনীতির পাশাপাশি কলেজের ব্যবসাও বেশ ফেঁপেফুলে উঠেছিল তাঁর৷ শুধু হুগলি নয়, অন্যান্য কিছু জেলাতেও তাঁর একাধিক বিএড ও ডিএলএড কলেজের ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও বলাগড়ে একটি ছোটদের ইংরাজি মাধ্যম স্কুলও আছে কুন্তলের নামে। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের শিশুদের সঙ্গে অনেক ছবি রয়েছে এই তৃণমূল নেতার৷ 

তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখলেই বোঝা যায়, পুজো থেকে সমাজসেবামূলক কাজ, সবেতেই সক্রিয় ছিলেন কুন্তল। এলাকায় বেশ পরিচিতি রয়েছে তাঁর৷ তবে এর আগে কোনওদিন কুন্তলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কথা শোনেননি প্রতিবেশীরা।
 

কুন্তলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম দফায় ২৬০০ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩২৫ জন চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ৩২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ও ২৬০০ জনের কাছ থেকে প্রায় ১৬ কোটি টাকা নিয়েছিলেন কুন্তল৷ এমনটাই দাবি করেছেন তাপস মণ্ডল।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ইতিমধ্যেই কুন্তলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। কারা আসতেন তাঁর কাছে? কতগুলি কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাঁর? অফলাইন রেজিস্ট্রেশন, টাকা নেওয়ার রসিদ সহ একাধিক তথ্য তলব করেছে সিবিআই। 

From around the web

Education

Headlines