কলকাতা: গেটের বাইরে রাখা ধূপ-ধুনো৷ রয়েছে মোটা রজনীগন্ধা৷ ছোট্টো টেবেলি রাখা কবিগুরুর ছবি৷ রবিঠাকুরের মাথার উপর লেখা ‘BAR OPEN’৷ রবিপুজোর দিনে শহর কলকাতার বুকে এহেন ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল৷ সমালোচনার ঝড়৷
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ বৈশাখ। প্রতিবছরের মতো এই বারও কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পানশালা চাংওয়ার সামনে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করা হয় ঘটা করে। রবীন্দ্রনাথের ছবিতে মালা দেওয়া হয়। ছবিটি ভাইরাল হতে তার পরে সময় লাগেনি। অনেকেই প্রাণের ঠাকুরকে পানশালায় নামিয়ে আনা বরদাস্ত করতে পারেননি। কিন্তু প্রশ্ন হল, একজন অনুরাগী যদি নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনে কবির জন্মদিন উদযাপন করতে চায় তাতে অসুবিধেটা কোথায়? আবার অনেকেই বলছেন, মদ্যপানের আসরেও রবিঠাকুর? রবিপুজোর নামে এটা কি ছেলে খেলা?
তবে, এই ‘মদে’র সঙ্গে বেশ কিছুটা যোগাযোগ ছিল রবিঠাকুরের৷ রবীন্দ্রনাথের জীবনীকার প্রশান্তকুমার পাল তাঁর লেখা নয় খণ্ডের রবিজীবনীতে জানান, পনেরো বছর বয়সেই বাজারফর্দতে ‘রবীবাবুর বিয়ার’ কেনেন৷ বিলেতে গিয়ে লিখেছেন, এখানে দ্বারে দ্বারে মদের দোকান, কিন্তু সেই নিয়ে কোনও ছুঁতমার্গ কোনও লেখায় প্রকাশ পায়নি। সাজাদপুর থেকে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে লেখা ১৮৮৪ সালের একটি চিঠিকেও অতিথি আগমন উপলক্ষ্যে মদের আয়োজনের। রবীন্দ্রনাথ মদকে মদই বলতেন, তাই নিয়েও আলগা শ্লীলতার আব্রু তাঁর ছিল না।রবীন্দ্রনাথ কি মদ্যপান করতেন? প্রবন্ধে তিনি লিখছেন, আমরা ভুলে যাই রবীন্দ্রনাথ মহামানব ছিলেন না, দেবতা ছিলেন না, তিনি আমাদেরই মতো মরমানুষ ছিলেন, সকলাবেলা দাঁতও মাজতেন নিশ্চয়ই৷