কলকাতা: বেতনকাঠামো গঠন সহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে সল্টলেকে আমরণ অনশনে বসেছেন ওয়েস্টবেঙ্গল রেকগনাইজ আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষক শিক্ষিকারা৷ সেখানেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক শিক্ষিকা৷ অভিযোগ বিধাননগর থানায় ফোন করে গোটা বিষয়টি জানানো হলেও ঘটনাস্থলে আসতে দেরি করে পুলিশ৷ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ওই শিক্ষিকা৷
২০১১ সালে সংখ্যালঘু ভোটে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি পশ্চিমবঙ্গে ১০,০০০ সরকারি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথামতো তৈরি হয়েছে অনেক মাদ্রাসাও । তারমধ্যে সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে ২৩৫ টি মাদ্রাসা । দীর্ঘ ৮ থেকে ৯ বৎসর ধরে মাদ্রাসা গুলিতে শিক্ষকতা করছেন কয়েক হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা কিন্তু তাদের বেতন কোথায়?
সরকারি অনুমোদন পেলেও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তৈরি হয়নি৷ এর জন্য শিক্ষকরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে । তবে তাতেও মেলেনি সুরাহা৷ তাই এবার বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটাতে শুরু করে দিয়েছেন ওয়েস্টবেঙ্গল রেকগনাইজ আন-এডেড মাদ্রাসা টিচার অ্যাসোসিয়েশনের৷ ইতিমধ্যেই শিক্ষক শিক্ষিকারা কলকাতা সল্টলেকের সিটি সেন্টারের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে দিয়েছেন।
হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে সল্টলেক বিকাশ ভবনের মেট্রো কার-শেডের সম্মুখে শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকার অবস্থান। সম্পূর্ণ খোলা আকাশের নিচে পুলিশের সম্পূর্ণ অসহযোগিতায় এই আন্দোলন চলছে তাদের । প্রশাসনের অসহযোগিতার জন্য সকল রকম মানবিক সহযোগিতায় থেকে বঞ্চিত এই আন্দোলনকারীরা। ন্যূনতম পানীয় জল ও বায়োটয়লেটের কোন ব্যবস্থা নেই সেখানে। অনশনকারী কথায়, তারা সংখ্যালঘু বলেই কী প্রশাসনের চরম অমানবিকতা? রাজ্যের বিরোধী দলগুলি বারবার বর্তমান সরকারের প্রতি সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ এনেছে। কিন্তু আদতে বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে কী আদেও কোনও উন্নয়ন হয়েছে? তার উত্তর দিতে পারবেন ভুক্তভোগীরাই৷