Aajbikel

মোমো দুনিয়ার রানি মৌমিতা! ঠেলা গাড়ি থেকে ১৮টা দোকানের মালকিন কীভাবে?

 | 
মোমো মৌমিতা

কলকাতা:  ঠেলাগাড়ি থেকে ব্যবসা শুরু৷ এখন মোমোর ১৮টা দোকানের মালিক বাঙালি মেয়ে মৌমিতা৷ লকডাউনের প্যাঁচে পড়েও কীভাবে যুদ্ধে জিতলেন তিনি?
অজয়নগরের এই মেয়ের গল্প শুনলে বুঝবেন মনের জোর কাকে বলে৷

বাঙালির যে ব্যবসা হয়না সেই ছক ভেঙে দিয়েছেন মৌমিতা৷ ঠেলাগাড়িতে একটা ছোট মোমোর স্টল থেকে শুরু৷ মৌমিতা মাত্র ৪ বছরে এত দূর পাড়ি দেবে অনেকেই ভাবতে পারেননি৷ বর্তমানে মোমো চিত্তের ১৮টা আউটলেটের মালিক অজয়নগরের মৌমিতা মিস্ত্রী৷ ভূগোল অনার্সের ছাত্রী মৌমিতা একটি ম‍্যাট্রিমনিয়াল সংস্থায় ৭ হাজার টাকা বেতনের চাকরি জোগাড় করেন৷ বাড়িতে বোন ছোট। তাই বাবার পাশে তাঁকেই দাঁড়াতে হত। কিন্তু লকডাউনে তার সেই চাকরিটাও চলে যায়৷ তবে চাকরি চলে গেলেও মনের জোর কম হয়নি তার৷ 

 


২০২০ সালে জমানো ২৬ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বাইপাসের ধারে এক অন্ধকার জায়গায় ঠেলাগাড়িতে মোমো বিক্রি শুরু৷ উদ্যোগ, পরিকল্পনা মৌমিতার হলেও পাশে থেকে সব সময় সাহায্য করেছিলেন তাঁর জীবনসঙ্গী বিদ্যুৎ হালদার৷ তখন অবশ্য বিদ্যুত তার বন্ধু ছিলেন৷ তাই মৌমিতা তাই জোর গলায় বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ আমার পাশে না থাকলে হয়তো এত কিছু করতে পারতাম না।’’

মৌমিতা কিন্তু ঠেলাগাড়ির মোমো থেকে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে ১৮টা দোকান খুলে ফেলতে পারেননি৷ এতটা সোজা ছিল না এই রাস্তা৷  করোনার সময়ে মৌমিতা সমাজমাধ‍্যমে দোকানের প্রচার করতেন। বাড়ি বাড়ি অর্ডার পৌঁছেও দিতেন। প্রথম বাকীদের মতোই স্টিম মোমো তারপর মাথা খাটিয়ে পিৎজ়া মোমো, মালাই মোমো বানাতেন। বুদ্ধি কাজে লেগেও গেল। কয়েক দিনেই দোকানের নাম লোকজনের মুখে মুখে ঘুরতে লাগল। কিন্তু বেশ কিছু কারণে বন্ধ হয়ে যায় তার দোকানটি৷ এরপর হাইল্যান্ড পার্কেও দোকান খোলেন তিনি সেটাও বন্ধ হয়ে যায়৷ কথায় আছে, একটা দরজা বন্ধ হলে পাশাপাশি হাজারটা দরজা খুলে যায়। উদয়াস্ত পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আর ব‍্যবসায়িক বুদ্ধি খাটিয়ে দোকানটি দাঁড়িয়ে যায়। এরপর আর কেউ আটকাতে পারেনি৷ আজ বারুইপুর, সালকিয়া, হালতু সহ বেশ কিছু এলাকা মিলিয়ে ১৮টা দোকানের মালিক মৌমিতা মিস্ত্রি৷ তবে তিনি মনে করেন, এখনও যে অনেক দূর হাঁটা বাকি।

Around The Web

Trending News

You May like