×

‘সন্তানের মৃত্যুর যন্ত্রণা বোঝেন?’ খড়্গপুর IIT-র ডিরেক্টরকে ভর্ৎসনা বিচারপতি মান্থার

 
মান্থা

কলকাতা: খড়্গপুর আইআইটি-তে ছাত্রের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় আইআইটির ডিরেক্টরকে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। এই ঘটনায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, এক জন ছাত্রের মৃত্যুকে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। 

আরও পড়ুন- ব্যঙ্গচিত্র মামলায় ১১ বছর পর ‘মুক্তি’, ‘গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকের জয়’ বললেন অম্বিকেশ


আদালতের নির্দেশ মতো আগামী ২৪ জানুয়ারি আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল খড়্গপুর আইআইটির ডিরেক্টরের। কিন্তু ওই দিন তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না বলে জানান। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে বৃহস্পতিবার তাঁর হাজিরার দিন নির্ধারিত করা হয়। শুক্রবার হাই কোর্টে হাজিরা দেন খড়্গপুর আইআইটির ডিরেক্টর ভি কে তিওয়ারি। এই মামলায় বিচারপতি মান্থার পর্যবেক্ষণ, ‘‘আদালতের নির্দেশের পরও তারা (আইআইটি কর্তৃপক্ষ) উদাসীন। এই উদাসীনতা উচিত নয়।’’ এর পরই বিচারপতির প্রশ্ন, ‘‘খড়্গপুর আইআইটি-র ডিরেক্টর কি আদালতের ভাষা বোঝেন না? তাঁর সন্তানের সঙ্গে এমনটা হলেও কি একই রকম আচরণ করতেন?’’

এদিন বিচারপতি মান্থা এদিন প্রশ্ন করেন, ‘‘ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় আদৌ কোনও অনুভূতি আছে? নিজের সন্তান হলে কেমন অনুভূতি হত?’’ একইসঙ্গে বিচারপতি জানান, ভবিষ্যতে এহেন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে তার দায়বদ্ধতা ডিরেক্টরের উপরেই বর্তাবে। এদিন আদালতকক্ষে উপস্থিত  আইআইটির ডিরেক্টর বীরেন্দ্রকুমার তিওয়ারির উদ্দেশে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার প্রশ্ন, ‘ডিরেক্টর হিসাবে ছাত্রের মৃত্যুর পর কি পদক্ষেপ করেছিলেন?’ আইআইটির আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র জানান, এই ঘটনার অনুসন্ধানে কমিটি গড়া (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি) হয়েছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়া হয়েছে।

বিচারপতি মান্থা বলেন, ‘একজন ছাত্রের ব়্যাগিংয়ে মৃত্যু হলে আপনার মনে কি কোন আঘাত লাগে? আপনার কি কোনও অনুভূতি আছে? আপনার ছেলে আছে? বোঝেন সন্তানের মৃত্যুতে কেমন লাগে?’ একইসঙ্গে বিচারপতি বলেন, ‘‘যাঁরা সন্তান হারিয়েছেন, তাঁদের কথা ভেবে দেখুন। বুঝবেন, ওই বাবা-মায়ের কষ্ট। যাঁরা পয়সার অভাবে গুয়াহাটি থেকে এখানে আসতে পারছেন না। আর আপনি কোর্টের তলব এড়িয়ে টোকিয়ো যেতে চাইছেন! ওই বাবা-মায়ের কাছে কোনটা জরুরি?’’

বিচারপতি মান্থা আরও বলেন, ‘‘র‌্যাগিংয়ের ঘটনা কেন এত হালকা ভাবে নেওয়া হচ্ছে? এই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছেন। এমন ঘটনা পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে৷ শুধু একটি ছাত্রের ঘটনায় নয়, আদালত চায় সব ছাত্রের জন্য ডিরেক্টর যেন অতি সক্রিয় পদক্ষেপ করেন৷’’
 

From around the web

Education

Headlines