×

করোনা আবহে জৌলুসহীন চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী, কোভিড বিধি মেনে বঙ্গ জুডে় মাতৃ বন্দনা

 

চন্দননগর: আজ জগদ্ধাত্রী পুজোর মহাষ্টমী৷ আভিজাত্য, জৌলুস, চাকচিক্যে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো জগৎ বিখ্যাত৷ চন্দননগরের আলোকসজ্জার কথা জানে না এমন মানুষ নেই বললেই চলে৷ কিন্তু এই বছর চেনা আড়ম্বরে ভাটার টান৷ নিতান্তই সাদামাটা ভাবে পালিত হচ্ছে উৎসব৷ 

আরও পড়ুন- প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করাই হল কাল! প্রেমিককে বেধড়ক মারধর করল নাবালিকার ভাইরা


চন্দননগরের কিছু উল্লেখযোগ্য পুজোর কথা বলতে হলে প্রথমেই বলতে চাউলপট্টির আদি মা-এর কথা৷ ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই পুজো শুরু হয়েছিল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে৷ আভিজাত্যের নিরিখে এর পরেই রয়েছে কাপড়েপট্টি, ভদ্রেশ্বর তেঁতুলতলা, বাগবাজার, বড়বাজার, খলিসানি, ফটকগোড়া, জ্যোতি তেমাথার পুজো৷ বিগ বাজেটের পুজো হিসাবে প্রতি বছরই নজর কাড়ে হেলাপুকুর, মানকুণ্ড সার্কাস মাঠ, নতুন পাড়া, দৈবক পাড়া, অম্বিকা অ্যাথালেটিক ক্লাব, বৌবাজার, সন্তান সঙ্ঘ, পালপাড়ার পুজো৷ এছাড়াও আরও অনেক পুজো রয়েছে৷ যারা প্রতিবারই চমক নিয়ে আসে৷ কিন্তু এবার প্রতিটি মণ্ডপই ম্যাড়মেরে৷ আলোকসজ্জা নেই বললেই চলে৷ নমো নমো করেই পুজো সারছেন উদ্যোক্তারা৷ বেশ কিছু মণ্ডপেই প্রতিমার বদলে হচ্ছে ঘট পুজো৷ 


ফি বছর চতুর্থী থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে চন্দননগর শহরে৷ কিন্তু এবার অষ্টমীর সন্ধ্যাও ভিড় শূন্য৷ করোনা আবহে হবে না প্রশেসন৷ জগদ্ধাত্রী পুজোর এই প্রশেসন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে শহরে এসে পৌঁছয় লক্ষ লক্ষ মানুষ৷ সারা রাত ধরে চলে প্রশেসন৷ প্রতিমার সঙ্গে থাকে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও ছৌনাচ, বিহু, ব্যালে ডান্স, ব্যান্ড, ঢাকের বাদ্যি৷ যা এবার সম্পূর্ণই বন্ধ৷ ফলে শুধু শহরবাসীর নয়, মন খারাপ বিসর্জন দেখতে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষেরও৷ 

আরও পড়ুন-  'বাংলাকে গুজরাত বানাবই, হিম্মত থাকলে রুখে দেখাক', ফের হুঙ্কার দিলীপের


চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির অন্তর্ভুক্ত প্রায় দুই শতাধিক পুজো কমিটি রয়েছে৷ এই কমিটির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মানকুণ্ড ও ভদ্রেশ্বরের পুজোগুলিও৷ তবে এ বছর প্রায় ৫০টি বড় বড় পুজো কমিটি কোভিড পরিস্থিতির জেরে ঘট পুজোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ বাকিদের পুজো হচ্ছে জৌলুসহীন ভাবে৷ মণ্ডপের কারুকার্য নেই৷ নেই আলোর রশনাই৷ কোভিড বিধি মেনে খোলা মণ্ডপে দূর থেকে প্রতিমা দর্শন করেই এবার মন ভোলাতে হচ্ছে শহরবাসীকে৷ ভিন শহর থেকে আগুন্তুকের সংখ্যা নেই বললেই চলে৷ চাকচিক্য না থাকলেও প্রতিটি মণ্ডপে রয়েছে স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা৷ পুজো কমিটির সদস্য এবং পুলিশ প্রশাসনও সদা তৎপর রয়েছে৷ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে অনবরত৷ 


চন্দননগরের পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পুজো হয় কৃষ্ণনগর ও রিষড়াতেও ৷ এছাড়াও পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন প্রান্তে হয় মাতৃ আরাধনা৷ ‘ডোমজুড় খাঁটোরার ঘোষ বাড়িতে ৬৭  বছর ধরে জগদ্ধাত্রী পূজা হয়ে আসছে। বাড়ির কর্তা পাঁচকড়ি ঘোষের কথা অনুসারে ১৩৬০  সাল থেকে ওঁনার বাবা পঞ্চানন ঘোষের হাত ধরে এই পুজো শুরু হয়েছিল।  অষ্টমী  থেকে  বাড়িতে পুজো  শুরু হয় এবং দশমিতে মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই পুজোর বিশেষত্ব হল কুমারী পুজো ও বলি। তবে কোনও পশু বলি দেওয়া হয় না এই পুজোতে৷ 

আরও পড়ুন- অভিষেকের খাস তালুকে দাঁড়িয়ে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ সরকার গড়ার ডাক সিদ্দিকির


দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের বাজার পাড়া এলাকায় এই বছরই  এই বছরই প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করা হল৷  সঙ্গে হল কুমারী পুজো।  কোভিড বিধি  মেনেই পুজোর আয়োজন করেছে  বাজার পাড়া এলাকার বারোয়ারী জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি। এই পুজো উপলক্ষে এলাকার মানুষের উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা লক্ষ্য করার মতন৷ 
 

From around the web

Education

Headlines