মেলেনি প্রাপ্য সম্মান, দেশ-বিদেশে ফুটবল খেলা মেয়ে এখন জোম্যাটোর ডেলিভারি গার্ল!

মেলেনি প্রাপ্য সম্মান, দেশ-বিদেশে ফুটবল খেলা মেয়ে এখন জোম্যাটোর ডেলিভারি গার্ল!

কলকাতা: পেশায় অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোম্যাটোর ডেলিভারি গার্ল তিনি৷ মূলত তার উপার্জনেই চলে বাবা-মেয়ের সংসার৷ তবে আরও একটি দিক রয়েছে চারুচন্দ্র কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী পৌলমী অধিকারীর৷ তিনি একজন প্রফেশনাল ফুটবল প্লেয়ার৷ খেলেছেন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে৷ কিন্তু মেলেনি যোগ্য সম্মান৷ কেউ খোঁজও রাখেনি৷ প্রতিভা থেকেও তাই আঁধারেই কাটছে তাঁর জীবন৷ অভাবের সংসারে পেট বাঁচাতে বেছে নিতে হয়েছে ফুড ডেলিভারির কাজ৷ 

 

আরও পড়ুন- শহরে কিছুটা কম ঠাণ্ডা, তবে পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে নীচেই, কেমন কাটবে সপ্তাহ?

কিন্তু, ফুটবল ছেড়ে কেন ফুড ডেলিভারির কাজ বছে নিলেন বেহালার শিবরামপুরের বাসিন্দা পৌলমী? তাঁর কথায়, ‘‘আমি প্রফেশনাল ফুটবল প্লেয়ার৷ ন্যাশনাল-ইন্টারন্যাশনাল খেলেছি৷ তবে প্রাপ্য সম্মানটুকু পাইনি৷ কিন্তু, কিছু তো একটা করে খেতে হবে৷ তাই এই পেশাকেই বেছে নিতে হয়েছে৷ ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোম্যাটো, সুইগি ছাড়াও আরও অনেক জায়গায় কাজ করেছি৷’’ পৌলমী এখন তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী৷ ভারতের হয়ে মহিলা ফুটবল টিমে প্রতিনিধিত্ব করেছে৷ খেলেছেন অনুর্ধ্ব ষোলো দলে৷ এশিয়া কাপ, হোমলেস ওয়ার্লিডকাপ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনালে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর৷ ভারতের জার্সিতে জার্মানি, লন্ডল, স্কটল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশে খেলতে গিয়েছেন৷ এককথায় তিনি সত্যিই ধন্যি মেয়ে৷ যে মেয়েটা দেশ-বিদেশের সবুজ মাঠে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, সে কিনা আজ দরজায় দরজায় খাবার পৌঁছনোর কাজ করছেন! সত্যিই ভাবতেও অবাক লাগে৷ 

ছোট বেলাতেই মাকে হারিয়েছেন পৌলমী৷ একমাত্র দিদির বিয়ে হিয়ে গিয়েছ৷ বাড়িতে বাবার সঙ্গে থাকেন তিনি৷ সংসারের বোঝা বলতে গেলে তাঁর কাঁধেই৷ তেল খরচ ছাড়া দিনে ৩০০-৪০০ টাকা উপার্জন হয় তাঁর৷ তবে বরাত খারাপ থাকলে সেটুকুও জোটা না৷ কোনও কোনও দিন আবার ১০০-১৫০ টাকাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়৷ ওঠে না তেল খরচও৷ 

পৌলমীর কথায়, ‘‘দেশের হয়ে খেললেও ন্যূনতম সম্মানটুকুও পাইনি৷ না কোনও সংগঠন, না রাজ্য সরকার, কেউ খোঁজ রাখেনি৷’’ আক্ষেপের সুরেই তিনি বলেন, ‘‘মেয়েদের আর কী সম্মান আছে! ছেলেরা খেলে ফিরলে বিমানবন্দর মিডিয়ায় ছেয়ে যায়৷ মেয়েরা খেলে ফিরলে মিডিয়া তো দূর, কেউই থাকে না৷ কেউ স্বাগত জানাতে আসে না৷’’ তিনি সম্মান না পেলেও, পৌলমী চান আগামী দিনে যদি কোনও মেয়ে খেলে দেশে ফেরে, তাঁকে যেন যোগ্য সম্মানটুকু দেওয়া হয়৷ সেই সঙ্গে তাঁর পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও যেন খোঁজ রাখা হয়৷ সেই মেয়েটা খেতে পাচ্ছে কিনা, তাঁর কাছে খেলার বুটটুকু আছে কি না৷ কথা বলতে বলতেই পৌলমীর চোখের কোনটা চিকচিক করে ওঠে৷ আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন চারুচন্দ্র কলেজের এই লড়াকু মেয়েটা৷ আজ একটু সমর্থন পেলে হয়তো বদলে যেন পৌলমীর জীবন!

 পৌলমী তাঁর প্রাপ্যটুকু পাননি৷ তবে তাঁর জীবনের সফর তিনি সাজিয়ে রেখেছেন মনের মনিকোঠায়৷ ছবিতে বন্দি রয়েছে তাঁর সাফল্যের কাহিনি৷ সেগুলি বুকে আগলেই চলছে তাঁর এগিয়ে যাওয়ার লড়াই৷