×

গ্রামের মাঠে গরু-ছাগলের সঙ্গে ঘাস খাচ্ছে হরিণ, ছুটে বেরাচ্ছে গ্রামের মেঠো পথে, ঘরের উঠানে!

 
গ্রামের মাঠে গরু-ছাগলের সঙ্গে ঘাস খাচ্ছে হরিণ, ছুটে বেরাচ্ছে গ্রামের মেঠো পথে, ঘরের উঠানে! 

পাথরপ্রতিমা:  দক্ষিণ ২৪ পরগণার পাথরপ্রতিমায় সবুজ ক্ষেতে সূর্যের আলো পড়লেই রোদে মাখা সোনালি হরিণ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গ্রামে পৌঁছয়। খেলে বেরায় গ্রামের গবাদি পশুদের সঙ্গে।ছোটাছুটি্ এদিক ওদিক, ঘরের উঠানে তার অবাধ বিরাজ। হরিণ দেখতে মাঝে মাঝে পর্যটকদের ভিড়ও চোখে পড়ে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কীভাবে গ্রামে ঢুকে পড়ল হরিণটি? তার তো জঙ্গলেই থাকার কথা?

ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত পাথরপ্রতিমার ছবি এখনও টাটকা। ঝড়ের ভয়ঙ্কর দাপটেই প্রাণে বাঁচাতে জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে এসে পরে এই হরিণটি। ২০২১ সালের ২৩ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ধেয়ে আসে। ২০২১ থেকে এখনও পর্যন্ত পাথরপ্রতিমার গ্রামে এই হরিণের যাওয়া আসায় অভ্যস্ত গ্রামবাসী। হরিণটিকে বাঁচিয়ে রাখতে দিনের পর দিন চেষ্টা চালিয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত পাথরপ্রতিমার মানুষ। নিজেদের সন্তানের পাশাপাশি হরিণটিকেও খাওয়ানো হয় দুধ। তাকে একটু একটু করে সারিয়ে তুলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় জঙ্গলে।

ভালোবাসা বোঝে অবলা প্রাণী। তাই তো সূর্যাস্তের আগেই জঙ্গলে ফিরে গেলেও সকাল হলেই ছুট্টে চলে আসে গ্রামে। সারাদিন খেলাধূলো, আদর-যত্ন পেয়ে ফের জঙ্গলে ফেরা। যেন এক মায়ার বন্ধন। হরিণকে পেয়ে খুশি গ্রামবাসী। পাথরপ্রতিমার জঙ্গলে হরিণ নতুন কথা নয়, কিন্তু গ্রামে হরিণের ছুটে বেরোনো যেন এক না বলা আনন্দ। ঘূর্ণিঝড়ে কেড়েছে ঘরবাড়ি, ধ্বংস করেছে ফসল, জমি। গরিবির মধ্যে থাকা এই গ্রামের মানুষ উঠে দাঁড়ায়, আপন করে অবলাকে। নিজেদের খাবার থেকেই তাকে খেতে দেয়। প্রাপ্তি হয়ত এই হরিণটির ফের গ্রামে ফিরে আসা।

হয়ত এই দৃশ্য বিরল। ভালোবসার টানে বন্য প্রানীর মানুষের কাছে ফিরে আসার বিষয়টি সত্যিই অবাক করায়।কথায় আছে, ভালোবাসা ভোলায় অভাব, ভালোবাসা মানুষকে মানবিক করে। তাই হয়ত এই চঞ্চল হরিণ ছুটে বেরায় বসতিপূর্ণ এই গ্রামে।জীবে প্রেম হয়ত একেই বলে...

From around the web

Education

Headlines