কলকাতা : নরেন্দ্র মোদি, বিজেপিকে আক্রমণ ছিলই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় সামনে এল সব্যসাচী-অস্বস্তি। রাজারহাটে তৃণমূল নেত্রীর সভার মধ্যেই গো-ব্যাক সব্যসাচী স্লোগান উঠল। যদিও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মমতা বিতর্ক বাড়তে দেননি। হাত নেড়ে সমর্থকদের শান্ত করেছেন।
কিন্তু লোকসভা ভোটের আগে সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে বিড়ম্বনা থেকেই গেল। লুচি-আলুরদমের আফটার এফেক্ট অব্যাহত। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে তৃণমূলের বৈঠক ও প্রচারে সব্যসাচীর অংশ নেওয়ার পরেও গলা থেকে কাঁটা নামেনি। এমনকী রাজারহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এবার নিজেই দেখলেন সব্যসাচী-মুকুল যোগে দলের একাংশের ক্ষোভ রয়েই গিয়েছে। বৃহস্পতিবার, ভাটপাড়া ও পলতার পরে রাজারহাটে সভা ছিল তৃণমূল নেত্রীর। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক ও বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্ত। কিন্তু সব্যসাচী মঞ্চে ওঠার পর থেকেই গো-ব্যাক স্লোগান উঠতে থাকে। একসময় দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও মাইক নিয়ে শান্ত হওয়ার আবেদন জানান। অবস্থা সামাল দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে ঘোষণা শুরু হয়।
এরপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চপারে সভাস্থলে পৌঁছন। তৃণমূল নেত্রী বলতে শুরু করলে ফের সব্যসাচী গো-ব্যাক স্লোগান ওঠে। মমতা বারবার হাত নেড়ে সমর্থকদের চুপ করতে বলেন। কিন্তু এরপরেও একইভাবে স্লোগান চলতে থাকায় কিছুটা বিরক্তও হন মমতা। আবারও একটু থেমে বলতে শুরু করেন। কয়েকবারই এরকমভাবে আবেদন জানাতে হয়েছে মমতাকে। এরই মধ্যে বাংলার উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মোদি-অমিত শাহদের আক্রমণ করেন মমতা।সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতেও দেখা যায়নি তৃণমূল নেত্রীকে। এর থেকেই অনুমান লোকসভা ভোটের আগে সব্যসাচীকে নিয়ে দলের অন্দরে অস্বস্তি রয়েই গিয়েছে। পাশাপাশি, সভামঞ্চ থেকেই আবার সুজিত বসুকে দরাজ সার্টিফিকেট দেন মুখ্যমন্ত্রী। সৌন্দর্য্যায়ন নিয়ে বলতে গিয়ে সুজিত বসুর প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সব্যসাচীর সামনেই সুজিতের কাজের প্রশংসায় নেত্রীর বার্তা রয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।