gst

নয়াদিল্লি: জিডিপিতে জোর ধাক্কা খেলেও জিএসটির হাত ধরে ফের একবার মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশের অর্থনীতি৷ বিগত দু’মাসের বৈপরীত্য কাটিয়ে নভেম্বরের শেষে পণ্য ও পরিষেবা কর আদায়ের পরিমাণ ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৩ হাজার কোটি৷ যা বিগত সাত মাসে সর্বোচ্চ৷ উৎসবের মরশুমে পণ্যের চাহিদা ও কর ফাঁকি রোধে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ফলেই এই বৃদ্ধি বলেই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক৷

অর্থমন্ত্রকের প্রত্যাশিত তথ্য অনুসারে গত বছরে একই সময়ে ১ লক্ষ ৩ হাজার কোটির পরিবর্তে অক্টোবরে দেশে জিএসটি আদায়ের হার ছিল ৯৭ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা৷ যেখানে চলতি বছরের অক্টোবরে তা কমে হয়েছিল ৯৫ হাজার ৩৮০ কোটি৷ গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আর্থিক বৃদ্ধি নিম্নমুখী থাকার পর নভেম্বরে বেড়েছে জিএসটি আদায়ের পরিমাণ৷ ২০১৭ সালের জুলাই মাসে চালু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে আট মাস এক লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল জিএসটি আদায়৷

যদিও এই বৃদ্ধি ২০১৯-২০ প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তুলনায় কম বলেই মনে করছে অর্থমন্ত্রক৷ সরকারের মাসিক জিএসটি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার কোটি৷ উৎসবের মরশুমে আভ্যন্তরীণ লেনদেনের ক্ষেত্রে জিএসপি আদায়ের পরিমাণ ১২ শতাংশ বেড়েছে যা এই বছরে সর্বোচ্চ৷ তবে আমদানির ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি (-) ১৩ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছে অক্টোবরে (-)২০ শতাংশের তুলনায়৷

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমতে থাকার পর অক্টোবরে কিছুটা বাড়ে জিএসটি আদায়ের পরিমাণ৷ নভেম্বরে আদায় হওয়া মোট জিএসটির মধ্যে কেন্দ্রীয় জিএসটি ১৯ হাজার ৫৯২ কোটি, রাজ্য জিএসটি ২৭ হাজার ১৪৪ কোটি, আইজিএসটি ৪৯ হাজার ০২৮ কোটি (যার মধ্যে আমদানি থেকে এসেছে ২০ হাজার ৯৪৮ কোটি) টাকা৷ পাশাপাশি, আমদানি থেকে ৮৬৯ কোটি সহ মোট সেস আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা৷ গত বছর নভেম্বরে তৃতীয় বার সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছিল জিএসপি আদায়ের হার৷

জিএসটি চালু হওয়ার পর থেকে নভেম্বরের এই জিএসটি আদায়ই হল অষ্টম সর্বোচ্চ কর আদায়৷ যা ১ লক্ষ কোটি ছাড়াল৷ এখনও পর্যন্ত সবথেকে বেশি জিএসটি আদায় হয়েছে এ বছরের এপ্রিল মাসে — ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি৷ আর মার্চে হয়েছিল ১ লক্ষ ৬ হাজার কোটি৷ যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ৷ আর নভেম্বরে ১ লক্ষ ৩ হাজার ৪৯২ কোটি হয়ে তা তৃতীয় স্থানে৷

পিডব্লুসি ইন্ডিয়ার অংশীদার প্রতীক জৈনের কথায় এই বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক হলেও অক্টবরে উৎসবের এই একমাসে জিএসপি বৃদ্ধির হার দেখে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়৷ তবে আগামী দিনে এই ধারা বজায় থাকবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন৷ তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে প্রযুক্তি বা ডেটা অ্যানালিটিকের উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে কর ফাঁকি রুখে এবং অতিরিক্ত ট্যাক্সের লোভ সংবরণ করে সরকার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে৷ পাশাপাশি আগামী বছর থেকে ই-চালানের ব্যবস্থাও শুরু হয়ে যাবে৷ এভাবে জিএসটির হার ধীর ধীরে বৃদ্ধি পাওয়া উচিত৷ যদিও তা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উপর নির্ভর করছে৷

এদিকে রাজস্বে ঘাটতির ফলে রাজ্যগুলির তরফ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ চলতি মাসে ক্ষতিপূরণ সেস আদায় হয়েছে ৭৭২৭কোটি টাকা যা মাসিক ভিত্তিতে রাজ্যগুলিকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৩,০০০ কোটি টাকার তুলনায় যথেষ্টই কম৷ অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় এমনিতেই রাজ্যগুলির ক্ষোভ বাড়ছে৷ অথচ পাওনা পরিশোধের পদ্ধতি মেনে এই অক্টোবরে মধ্যেই রাজ্যগুলির পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রের৷ কর ফাঁকি রুখতে সামনের বছর থেকেই বড় বড় সিনেমা হলে ডেটা বিশ্লেষণ, নতুন রিটার্ন ফর্ম্যাট, ই-ওয়ে বিল, ই-ইনভয়েসিং, এবং ই-টিকিট বাধ্যতামূলক করতে পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here