usti7765

কলকাতা: রাতে আটক৷ সকালে শিক্ষক নেতাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি৷ পুলিশের ভূমিকায় নতুন করে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে শিক্ষক মহলে৷ কেন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি? প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ৷

শিক্ষক সংগঠন উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, আলোচনার নাম করে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্ব সন্দীপ ঘোষ, পৃথা বিশ্বাস-সহ ৭ জনকে যাদবপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয় আজ সকালে৷ সেখানে তাঁদের জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ আজ বেলা ১ টা নাগাদ আলিপুর জজ কোর্টে তাঁদের তুলতে পারে পুলিশ৷ অবিলম্বে পুলিশের হেফাজতে থাকা শিক্ষকদের নিঃশর্তে মুক্তির দাবিতে যাদবপুর থানা চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক শিক্ষক সংগঠনের৷

অন্যদিকে, রাত বাড়তেই শিক্ষকদের ধর্না মঞ্চ ভেঙে দেয় পুলিশ৷ আটক করা হয় বহু শিক্ষককে৷ তিনটি প্রিজন ভ্যানে শিক্ষকদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়৷ মহিলা পুলিশকর্মী আনিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ রাজপথ ছেড়ে পার্কে বসে ধর্না দেওয়ার দায়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে হেনস্থার শিকার শিক্ষকদের একাংশ৷ হাত ধরে টানাটানি, কটূক্তি করার অভিযোগ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে৷ পরে, ঘটনাস্থলে সুজন চক্রবর্তীকে দেখে মারমুখী হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা৷ সুজনকে ঘিরে চলে বিক্ষোভ৷ স্থানীয়দের তাণ্ডবের সুযোগ নিয়ে পরে একের পর এক শিক্ষককে আটক করে থানায় তুলে যায় পুলিশ৷ গোটা ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ সহকর্মীদের নিঃশর্তে মুক্তির দাবিতে রাতেই যাদবপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখেন শিক্ষকরা৷ পরে আজ সকালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে৷ জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে ১২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ লালবাজার থেকে ১২৪ জনকে মুক্তি দেওয়া হলেও ১২ জনকে যাদবপুর থানায় আটকে রাখা হয়৷ ওই ১২ জন শিক্ষককে মুক্তি দেওয়ার শর্তে নেতৃত্বকে ডেকা পাঠানো হয়৷ কিন্তু, থানায় নেতৃত্ব উপস্থিত হতেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে খবর৷

স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার কথা ভেবে রাতেই বাঘাযতীন মোড় থেকে অবস্থান বিক্ষোভ পাশের এক মাঠে চলে যান আন্দোলনরত শিক্ষকরা৷ সেখানে ঘণ্টা তিনেক চলে বিক্ষোভ৷ স্থানীয় পার্কে শিক্ষকদের ধর্না দেখে মারমুখী হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা৷ শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়ে করা হয় হেনস্থা৷ বিপত্তি তীব্র আকার নেয় সুজন চক্রবর্তীর উপস্থিতি৷ শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা চেষ্টা করেন সুজন৷

usti765

কিন্তু, এলাকায় সুজনকে দেখতেই স্থানীয়দের তাণ্ডব আরও তীব্র আকার নেয়৷ পরিস্থিতি হাতাহাতিয়ে গড়িয়ে যায়৷ পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতেই শিক্ষকদের আটক করে পুলিশ৷ গোটা ঘটনার পিছনে তৃণমূলের চক্রান্ত দেখছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা৷ তাঁদের দাবি, শিক্ষকদের ধর্না তুলতে পুলিশের সঙ্গে চক্রান্ত করে স্থানীয়দের তাঁতিয়ে তোলে তৃণমূল৷ আর তাতেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়৷ সুযোগ বুঝে শিক্ষকদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়৷ গোটা ঘটনায় চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুজনবাবু৷ শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন দমনে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকাকে তীব্র ধিক্কার জানাই৷ গ্রেফতার হওয়া সমস্ত শিক্ষকে নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে৷’’ কেন শিক্ষক নেতাদের নামে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি? প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ৷ যদিও এই গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি পুলিশের তরফে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here