কলকাতা: বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল প্রভাবিত ৭ জেলায় স্কুল ছুটি দেওয়ার ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার৷ বিজ্ঞপ্তি জারি করে শনিবার স্কুল ছুটির ঘোষণা করা হয়৷ পরে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী সোমবার পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন৷ কিন্তু বুলবুল বিদায় নিলেও সোমবার কি আদৌ ওই সাত জেলার স্কুল ছুটি থাকছে? শিক্ষক মহলে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত ধোঁয়াশা৷

শিক্ষকদের এই ধোঁয়াশা কাটিয়ে ইতিমধ্যেই ডিআইদের তরফে শিক্ষকদের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হচ্ছে৷ সেখানে সাপ উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার স্কুল ছুটি সর্বত্র কার্যকর হবে না৷ যে সমস্ত স্কুলে ঘূর্ণিঝড় কবলিত এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছেন, উদ্ধারকাজ কিংবা ত্রাণশিবির জন্য যে সমস্ত স্কুলগুলিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, অথবা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোনও স্কুল ছুটি থাকবে৷ অন্যান্য স্কুলগুলিতে ছুটি থাকবে না৷ যদি এই সংক্রান্ত পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় তা জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষকদের জানিয়ে দেওয়া হবে৷ আপাতত এইটুকুই বার্তা পেয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ৷

ডিআইদের পাঠানো বার্তার পর শিক্ষকদের একাংশের তরফে ঘূর্ণিঝড় কবলিত স্কুলগুলি কেমন আছে, স্কুলে কোন ক্ষতিগ্রস্থরা উঠেছেন কি না কিংবা সেখানে কোনও উদ্ধার বা ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে কি না, তা জানার কাজ শুরু করেছেন৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুড়ছে ডিআই বার্তা৷

শুক্রবার বুলবুল বিপদের কথা মাথায় রেখে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া ও কলকাতায় শনিবার সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়৷ শনিবার মধ্যরাতে বুলবুল আছড়ে পড়ার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সোমবারও ওই সাত জেলায় বন্ধ রাখা হবে সমস্ত স্কুল৷ কিন্তু, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মেদিনীপুরের উপকূল এলাকায় ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি হলেও রক্ষা পেয়েছে বাকি জেলাগুলি৷ ফলে, সাত জেলার মধ্যে ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা করা স্কুলগুলি সোমবার ছুটি কি না, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা৷

অন্যদিকে, বুলবুলের তাণ্ডবে জেলা শাসকরা ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পাঠিয়েছেন৷ তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের বুলবুলের প্রভাবে মোট ৯টি জেলায় ৩ লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ ৭ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত৷ ৯ হাজার গাছ উপড়ে গিয়েছে৷ ৯৫০টি মোবাইল টাওয়ার ভেঙেছে৷ ফলে, টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বহু অংশে৷ সরকারি ভাবে তিন জেলায় ৭ জনের মৃত্যু খবর স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে৷ বেসরকারি মতে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৯ জন৷ দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও লঙ্গরখানা চালু করেছে প্রশাসন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here