Cyclone Bulbul: PM Modi holds talks with CM Mamata, assures to help

কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ যখন বাংলার দিকে তেড়ে এসেছিল, তখন চলছিল লোকসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধ৷ ‘ফণি’ মোকাবিলায় ভোটের যুদ্ধের উত্তাপ বাড়িয়ে জারি ছিল সংঘাত৷ কিন্তু, এখন তা অতীত৷ ভোট পর্ব মিটে গিয়েছে৷ গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল৷ বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ খানিকট বদলে গিয়েছে বেশ খানিকটা৷ আর সেই বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কার্যত মিলিয়ে দিল মোদি-মমতাদের৷ আর তাতেই কৌতুহল বাড়ছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে৷

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, শনিবার রাতে বুলবুলের তাণ্ডবে বাংলার উপকূলে ক্ষয়ক্ষতি জানতে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে৷ বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাকে সব ধারনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ একইসঙ্গে বাংলাবাসীকে সুরক্ষিত থাকারও প্রর্থনাও জানান মোদি৷ টুইটারে মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বাস দেন মোদি৷

এর আগে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ মোকাবিলায় ওড়িশায় ডাকা প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে সরাসরি প্রশ্ন তুলছিল রাজ্য৷ লোকসভা ভোটের নির্বাচনী প্রচারে ফণিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছি কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত৷ মোদির ডাকা ‘ফণি’ মোকাবিলা বৈঠক এড়িয়ে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা হয়েছি৷ কিন্তু, এবার সেই সংঘাত কিছুটা হলেও শান্ত৷ নীরবে সহযোগিতার ইঙ্গিত দেখছেন পর্যবেক্ষত মহলের একাংশ৷ তবে প্রশ্ন উঠছে, ফোণি মোকাবিলায় সংঘাত থাকলেও বুলবুলে কেন নীরবতা? ভোট যে কত বড় বালাই রাজনীতিতে, তারই কি ইঙ্গিত? কৌতুহল বাড়ছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের৷

অন্যদিকে বুলবুল মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর৷ এমনিতেই বুলবুল মোকাবিলায় রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে কড়া পর্যপেক্ষণে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুরু করেন তদারকি৷ বুলবুলের তাণ্ডব শেষে রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে অভয় দেন মমতা৷ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি৷

এরপর আজ রবিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ঝড়ের সম্পর্কে খবর নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ কেন্দ্রের তরফে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধারনের সাহায্যের করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি৷ একথা টুইটারেও জানান মোদি৷

জানা গিয়েছে, বুলবুলের তাণ্ডবে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাগরদ্বীপ৷ শুরু হয়েছে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ৷ উপকূলবর্তী এলাকার ত্রাণ শিবির, লঙ্গরখানা খোলা হয়েছে বলেও রাতেই জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নেমেছে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম৷ সতর্ক জেলা প্রশাসন৷

রাতেউ মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানালেন, রাজ্যে ১ লাখ ৬৪ হাজারের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে৷ আজ ক্ষয়ক্ষতি বুঝতে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে৷ ড্রোনও ব্যবহার করা ক্ষতির পরিমাণ জানার কাজ চলছে৷ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সোমবার পর্যন্ত স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ ক্ষতির পরিমাণ জানতে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here