কলকাতা: দীর্ঘ লড়াই-আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মিলল সাফল্য৷ একের পর এক মামলা, লাগাতার আন্দোলন, ধর্না, বিক্ষোভের পর অবশেষে সাফল্যের ইতিহাস গড়ল উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পর্ব৷

শুরুটা হয়েছিল সেই ২০১৫ সাল৷ ১৬ আগস্ট৷ গোটা রাজ্যবাপী টেট পরীক্ষা হয়েছিল শিক্ষক নিয়োগের জন্য৷ পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির বিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার আশায় কয়েক লক্ষ বেকার চাকরিপ্রার্থী এই পরীক্ষায় বসে ছিলেন৷ সেখানে প্রশিক্ষিত চাকরি প্রার্থী হিসেবে ১ লক্ষ ২০ হাজার ও অপ্রশিক্ষিত চাকরি প্রার্থী হিসেবে ২ লক্ষ ২৮ হাজার প্রার্থী, সব মিলিয়ে অন্তত ২ লক্ষ ২৮ হাজার পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন৷ সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল৷ কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না দেখে রাস্তায় নেমেছিলেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ৷

ছোট-বড় সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সংঘটিত হয়েছিল আন্দোলন৷ আপডেট ভ্যাকান্সিতে নিয়োগের দাবি তুলে রাজপথ দাপিয়ে ছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা৷ বিকাশ ভবন থেকে শুরু করে আচার্য সদন, গোটা চত্বরেজুড়ে চাকরিপ্রার্থীরা তুলেছিলেন বেকারত্ব যন্ত্রণা কাটানো আওয়াজ৷ আন্দোলন করতে গিয়ে কম হেনস্তার মুখে পড়তে হয়নি চাকরিপ্রার্থীদের৷ পুলিশের লাঠি, গ্রেপ্তারি, হেনস্থা, কোনটাই বাদ যায়নি৷ এমনকী, রাতভর ধর্না, গভীর রাতে পুলিশের তাণ্ডব, বিকাশ ভবন থেকে চাকরিপ্রার্থীদের তুলে নিয়ে গিয়ে শিয়ালদা স্টেশনে ফেলে দেওয়া, সবই ঘটেছিল চাকরিপ্রার্থীদের চোখের সামনে৷ চোখের জল মুছতে মুছতে রাজপথ থেকে ফিরে গিয়েছিলেন বাড়ি৷ চাকরির দাবিতে আন্দোলন করতে যাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিবাদের আওয়াজ, ক্ষোভ, বিক্ষোভ উঠে এসেছিল আজ বিকেল ডট কমের পাতায় পাতায়৷ গুরুত্ব দিয়ে সেই খবর সবার আগে প্রকাশ করেছিল আজ বিকেল ডট কম৷ সেই ধারা আজও অব্যাহত৷ চাকরিপ্রার্থীদের লাগাতার আন্দোলন, রাতভর ধর্না, বিক্ষোভ, পুলিশের মার, গ্রেপ্তারি শেষে সফল চাকরিপ্রার্থীদের নথি যাচাইয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন৷ দীর্ঘ আন্দোলনের পর উচ্চ প্রাথমিকে তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই ঘটে যায় বিপত্তি৷ দায়ের হয় মামলা৷

ছন্দ পতন ঘটে, প্রশিক্ষিত পরীক্ষার্থীদের না ডেকে অপ্রক্ষিতদের স্কুল সার্ভিস কমিশন ডাকে যখন৷ প্রথমে ভেরিফিকেশন পর্বের পর ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বারবার আইনি জটিলতা আসে এই টেট পরীক্ষা ঘিরে৷ কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন প্রায় ৫০০ কাছাকাছি প্রশিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী৷ যাঁদের ভেরিফিকেশনের নোটিশ আসেনি, তাঁরা মামলায় জানান, ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের এনসিটিই নিয়ম অনুসারে এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া হচ্ছে না৷ এমনকি এসএসসির নিজস্ব ৮ নম্বর এবং ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করছে না৷ চাকরি প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন করা তালিকা প্রকাশ, ইন্টারভিউ চালু করার বিষয়গুলি নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা করে স্কুল সার্ভিস কমিশন কর্তৃপক্ষ, অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যের ১৭ নম্বর এজলাসে সওয়াল-জবাব চলে৷ পরে কলকাতা হাইকোর্টের কমিশনকে চাকরিপ্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গতালিকা প্রকাশ করতে নির্দেশে দেয়৷ সেই নির্দেশের ভিত্তিতে এবার সেই মেধাতালিকা তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন৷

আজ দুপুরে কমিশনের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে৷ সেখানে সিরিয়াল নম্বার উল্লেখ করে প্রার্থীদের নাম, তাঁদের রোল নম্বার, অ্যাক্যাডেমিক কোয়ালিফিকেশন, প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন, টেট ও পার্সোনালিটি টেস্ট৷ সেখানে প্রার্থীর মোট নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে৷ কোন প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়া হয়েছে৷ (এই লিঙ্কে দেখুন মেধাতালিকা- wbcssc.co.in/meritview)

চতুর্থীর সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে সার্ভিস কমিশনের তরফে জানানো হয়, শারীর শিক্ষা ও কর্ম শিক্ষার মেধাতালিকা বাদে উচ্চ প্রাথমিকে ২০১৬ সালের টেট পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হবে৷ এছাড়াও সমস্ত ছুটির দিন আগামী ৫ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত ছুটির দিনেও মেধাতালিকা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে তা স্কুল সার্ভিস কমিশনে জানানো যাবে৷ সমস্ত সফল চাকরিপ্রার্থীদের শুভেচ্ছা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here