কলকাতা: লাগাতার আন্দোলনের পর অবশেষে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট চালুর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল শিক্ষা দপ্তর৷ উচ্চ প্রাথমিকে ডিএলএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ইনক্রিমেন্টের আওতায় এনে নয়া নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা দপ্তর৷ সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষক যাঁরা এসএসসি দিয়ে নতুন স্কুলে যোগদান করেছেন তাঁদের পে প্রটেকশনের দাবি আদায় করেছে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি৷ ডিএলএড উত্তীর্ণ শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট চালুর দাবিতে প্রথম থেকে আন্দোলন করে আসছিল এই সংগঠন৷ আর তার পরই এল বড় জয়!

২০১২ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দ্বাদশ আরএলএসটি পরীক্ষা হয়েছিল৷ ২০১২ সালে এই পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চ প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের নিয়োগ হয় ২০১৩ সালে৷ কিন্তু শিক্ষকদের মধ্যে অনেকের বিএড ছিল না৷ ইতিমধ্যে NCTE জানিয়ে দেয় স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে ৫০ শতাংশ নম্বার না থাকলে বিএড প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে না৷ ফলে অন্য শিক্ষকরা বিএড করতে পারলেও ৫০ শতাংশের নিচে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন৷

এই পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীন সমস্ত প্রশিক্ষণহীনদের জন্য ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন বা ডিএলএডের ব্যবস্থা করা হয়৷ চলতি বছর মার্চে তাঁদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে৷ তাঁরা সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে গিয়েছেন শিক্ষকরা৷ কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষ হলেও রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের কাছ থেকে ইনক্রিমেন্টের নির্দেশ না পেয়ে বেতন বঞ্চনার মুখে পড়েন তাঁরা৷ অবশেষে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আজ ডিএলএড প্রাপ্ত সমস্ত শিক্ষকদের জন্য সেই নির্দেশ জারি করেছে৷ এই নির্দেশের ভিত্তিতে উপকৃত হবেন রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষক৷ এই সমস্ত বঞ্চিত শিক্ষকদের নিয়ে প্রথম থেকেই আন্দোলন করছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষক শিক্ষা কর্মী সমিতির সদস্যরা৷ এই নির্দেশ পেয়ে তাঁরাও খুশি৷ যদিও অনার্স, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্তরের শিক্ষকদের কোনও কথা ওই নির্দেশে উল্লেখ করা হয়নি৷

এই প্রসঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষকও শিক্ষাকর্মী সমিতি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, d.el.ed ডিগ্রিধারীদের এই সমস্যা নিয়ে বিধানসভা ও বিকাশ ভবনে একাধিক বার শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে একাধিকবার দরবার করেছি আমরা। ধারাবাহিক আন্দোলনে অবশেষে এই অর্ডার প্রকাশে আমরা খুশি। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় হয় তা আবার প্রমাণ হলো। কবে থেকে এই অর্ডার কার্যকরী হবে সেটা এবং Hons/PG দের বিষয়টাও গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন শিক্ষা দপ্তর।’’

মাধ্যমিক শিক্ষকও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মিত্র বলেন, ‘‘অবশেষে বহু আন্দোলনের পর ডিএলএড কোর্স সমাপ্ত করা শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট চালু করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য শিক্ষা দপ্তর৷ আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বারবার ডিএলএড সমস্যা উত্থাপন করে সমাধান চেয়েছিলাম৷ অবশেষে সে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেল৷ কিন্তু শিক্ষকদের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি থেকে গেল যে, এই বিজ্ঞপ্তিতে অনার্স বা পিজি ক্যাটাগরিতে যাঁরা নর্মাল সেকশন বা হায়ার সেকেন্ডারি সেকশনে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট পেয়েছিলেন তাঁদের কথা উল্লেখ করা নেই৷ যদিও যাঁরা আপার প্রাইমারি সেকশনে পাঠদান করেন তাঁরাই এই সুযোগ পাবেন বলে বলা আছে৷ পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্কুলেই অনার্স বা পিজি ক্যাটাগরি টিচাররা আপার প্রাইমারি সেকশনে পাঠদান করে থাকেন, সেই অর্থে তাঁদের ডিএলএড কোর্স করা থাকলে ইনক্রিমেন্ট পেতে আটকাবে না৷ আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দাবি করছি, অনার্স বা পিজি ক্যাটাগরি টিচার যাঁরা ডিএলএড করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদেরও যাতে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে৷’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here