কলকাতা: বর্ধিত নয়, ন্যায্য বেতন! কেন্দ্রের নয়, যোগ্যতামান অনুসারে সঠিক বেতন চেয়ে টানা ১০ দিন ধরে অনশন চলিয়ে যাচ্ছেন ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা৷ টানা ১১ অনশন চালাতে গিয়ে এবার শিক্ষকদের শরীরে দানা বাঁধল মারণ ব্যাধি৷ কিন্তু, শরীরে মারণ ব্যাধি দানা বাঁধলেও নিজেদের অবস্থানে অনড় অনশনরত প্রাথমিক শিক্ষকরা৷ মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে চার ঘণ্টার প্রকীতী অনশনে বসলেন বাংলার রোকেয়া গবেষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মীরাতুন নাহার৷

শিক্ষকদের অনশন মঞ্চে বসে মীরাতুন নাহার বলেন, ‘‘চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন আমাদের রাজ্য সরকারের যিনি সর্বময় কর্তৃত্ব আছেন, তিনি বিবেকের ঘরে তালা দিয়ে রেখেন৷ আজ ১১দিন ধরে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষক রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা তাঁরা আমরণ অনশন আন্দোলনে নেমেছেন, কষ্ট পাচ্ছেন৷ নানারকম অসুবিধার মধ্যে তাঁরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন৷ লক্ষ্য করলাম, রাজ্যের প্রধান স্নেহ-মমতা পরিচয় দিচ্ছেন না৷ তাঁর বিবেক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ৷ আমার মনে হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী সম্ভবত তাঁদের সুপ্রিমো নির্দেশ পাননি বলে তিনিও কোন সুরাহারা করতে পারছেন না৷ এরা চাইছেন, আলোচনা৷ কিন্তু, সেটাই হচ্ছে৷ যে ধরনের মন্তব্য আমাদের মুখ্যমন্ত্রী করেছেন তার পরে আমার মনে হল, আমার বিবেকের ঘরে তালা দিয়ে রাখতে পারিনি৷ আমি তাদের পাশে এসে বসেছি৷ আমি এসেছিলাম ওদের অনুরোধ করেছি, তোমরা অনশন তুলে নাও৷ কারণ, অনশন আন্দোলনের একটি হাতিয়া৷ এই  হাতিয়া নিজেরই ক্ষতি করে৷ প্রাথমিক স্তর যদি শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে যত বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে তোলা হোক না কেন, সব বৃথা হয়ে যায়৷  তাই সরাকের উচিত শিক্ষকদের দাবি দাওয়া মেনে নেওয়া৷

সোমবার সন্ধ্যায় অনশনরত শিক্ষকদের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ করে চিকিৎসক পূর্ণব্রত কুণ্ডু জানান, অনশনরত ১৪ জনের শরীরে ‘হিটনবডি’ পাওয়া গিয়েছে৷ যার ফলে মাংসপেশি ক্ষয় করে দেহের শক্তি উৎপাদন হচ্ছে৷ এর জেরে শরীরে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷ একজন শিক্ষিকার কিডনিতে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে৷ ৩ জনের শরীরে এখনও তেমন কোনও ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি৷ মেডিক্যাল টিমের প্রস্তাব, অবিলম্বে ১৪ জন শিক্ষককে অনশন ভঙ্গ করা উচিত৷ এঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন আছে বলেও জানানো হয়৷

চিকিৎসকদের তরফে এই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর মেডিক্যাল টিমের পরামর্শ অনুযায়ী অসুস্থ হওয়া ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়৷ কিন্তু, সংগঠনের এই প্রস্তাব উড়িয়ে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন অনশনকারীরা৷ অসুস্থ শরীরে টানা ১১ দিনের অনশন শিক্ষকদের৷ অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ চক্রের শিক্ষক মণীষকুমার মণ্ডল অনশনরত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি৷ এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের শিক্ষক নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, মণীষের কোনও ক্ষতি হতে দায়ী থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মুর্শিদাবাদের শিক্ষক সাইদুল হক বলেন, মণীষের কোনও ক্ষতি হলে আমরা লাগাতার আন্দোলনে নামবো৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here