West Bengal doctors' strike

কলকাতা: NRS-জট কাটাতে নবান্নে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আজ, রাতে বৈঠকের প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ার পর বরফ গলাতে শনিবার বিকালে বৈঠকে বসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়৷ কিন্তু, পরপর জোড়া প্রস্তাব উড়িয়ে জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা নবান্নে যাবেন না৷ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে করবেন না বৈঠক৷ মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএসে আসতে হবে৷ চাইতে হবে ক্ষমা৷

আজ, সন্ধ্যার পর এনআরএস কাণ্ডের জট কাটার কিছুটা লক্ষণ দেখা গেলেও মেডিক্যাল পড়ুয়াদের অনড় মনোভাবের কাছে পরাস্থ হল সরকারি প্রস্তাব৷ আর তার জেরেই নতুন করে তৈরি হল অচালবস্থা৷ এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে কে নত করবেন মাথা? মুখ্যমন্ত্রী, নাকি জুনিয়র চিকিৎসকরা? এই নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা৷

এদিন সন্ধ্যায় আলোচনার বার্তা নিয়ে এনআরএসে পৌঁছান স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র৷ তাঁকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন চিকিৎসকরা৷ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে৷ চিকিৎসকদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএসে আসতে হবে৷ বৈঠক যাওয়া নিয়ে বৈঠকে বসেন জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, তাঁরা বরফ গলাতে যাবেন না নবান্নে৷

এদিন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন৷ আমি এখানে এই কথা বলতে এসেছিলাম৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি চার জনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান৷ আমি সেই কথা তাঁদের জানিয়েছি৷ এখনও পরবর্তী সিদ্ধান্ত ওই নেবেন৷’’

যদিও, আন্দোলনকারীদের তরফে আগেই তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে৷ চিকিৎসকদের উপর থেকে মামলা তুলে নেওয়া, এনআরএসে এসে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা প্রর্থনা ও ডাক্তারদের নিরাত্তার দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি চলবে৷ এদিন নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব উড়িয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বহিরাগত বলেছেন৷ এত কম সময়ের মধ্যে কেন তাঁরা নবান্নে গিয়ে বৈঠক করবেন?

অন্যদিকে, এনআরএস কাণ্ডে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী৷ রাজভবন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সচিবকে দিয়ে সেই পাঠানো হয়েছে৷ রাজ্যজুড়ে চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতেই মুখ্যমন্ত্রীকে রাজভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর৷ অন্যদিকে, আজই রোগীর পরিবারের সদস্যদের হাতে বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত হন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যপাল৷ সেখানে গিয়ে রাজ্যপাল ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি৷ ফোন করেছিলাম৷ তবে যোগাযোগ হয়নি৷ উনি যোগাযোগ করলে কথা বলব৷’’

ইতিমধ্যেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল৷ করেছেন ৪দলীয় বৈঠক৷ বাংলায় শান্তি ফেরাতে রাজ্যের শাসকদলকে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন৷ আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কাজে ফিরতেও আনুরোধ করেছিলেন তিনি৷ কিন্তু, তাতেও কোনও কাজ না হওয়ায় এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে ডেকে পাঠালেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী৷ খবর রাজভবন সূত্রে৷ তবে, এই তলব প্রসঙ্গে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে এখনও কিছু জানা যায়নি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here