আজ বিকেল: এবার এনআরএস হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়াল শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রতিকারের দাবি উঠল।

এই প্রসঙ্গে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন,  “এই আন্দোলনে আমরা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন জানাই। ঘটনার পরে এন আর এস হাসপাতালের ডাক্তারদের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতা জ্ঞাপন না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে ভাবে হুমকি প্রদর্শন করলেন তা অত্যন্ত ধিক্কারজনক। আমরা মনে করি মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এই আন্দোলনকে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। ঘটনার পর ডাক্তারদের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতার বার্তা না দিয়ে তিনি যেভাবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদর্শন করলেন আমরা ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে তীব্র ধিক্কার জানাই। আমরা মনে করি বিভিন্ন জায়গায় রোগী বনাম ডাক্তার এবং নার্সের দ্বন্দ্বের মূল কারণ হলো অপর্যাপ্ত সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা টিকে রয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর নির্ভর করে। পূর্ণ সময়ের ডাক্তারদের অভাব সর্বত্র। প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য ডাক্তার এবং নার্স দিয়ে চলছে জেলা এবং শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল। স্বাভাবিকভাবেই অমানুষিক চাপ বাড়ছে ডাক্তার এবং নার্সদের উপর। সমস্ত হাসপাতালে নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি বা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। ফলে হাতে গোনা কয়েকটি বড় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়। এদিকে প্রত্যেক রোগীর পরিবার চায় তার প্রিয়জন যেন সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা পায়। অপ্রতুল পরিকাঠামোর জেরে যা কোনও মতেই সম্ভব নয়। ফলে আজ ডাক্তার, নার্স বনাম রোগীদের যে দ্বন্দ্ব তা সামগ্রিক সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈনদশার কারণেই।

উল্লেখ্য, ব্যক্তিগতভাবে কোনও ডাক্তারবাবু বা কোনও নার্সের অন্যায় আচরণকে শিক্ষানুরাগী মঞ্চ সমর্থন করে না। কেউ কেউ ডাক্তারদের এই আন্দোলনকে রোগী বনাম ডাক্তারদের লড়াই হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন।  সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যার সমাধান লুকিয়ে রয়েছে। এই আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষকে শামিল করতে হবে। আমরা যতটুকু জানি প্রতিটি হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা চালু রয়েছে। যেহেতু সামগ্রিকভাবে জনসাধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিষয়টি তাই আমাদের একান্ত অনুরোধ কোনভাবেই যাতে জরুরি পরিষেবা বন্ধ না হয় সেদিকে সহানুভূতির সহিত নজর রাখা দরকার। কোনোভাবেই যেন বিনা চিকিৎসায় একজন রোগীও মারা না যান সে বিষয়টিও মানবিকতার দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তবেই বৃহত্তর স্বার্থে এই আন্দোলনে সমস্ত স্তরের মানুষ প্রকৃতই শামিল হবে। মনে রাখতে হবে কয়েক দিনের জন্য নয়, এই দাবি আদায় করতে গেলে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুচিন্তিত এবং সুশৃংখল ভাবে এই আন্দোলনকে পরিচালনা করতে হবে। ভুল স্বীকার করে ডাক্তারদের পাশে থেকে সমস্যার সমাধান করুন মুখ্যমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here