ssc-chairman-soumitra-sarkar

কলকাতা: ফের শিক্ষক নিয়ে মেধা তালিকায় র‌্যাঙ্ক বিভ্রাট৷  রাতারাতি বদলে গেল র‌্যাঙ্ক৷ ভোটের বাজারে র‌্যাঙ্ক বিভ্রাট ঘটেছে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া৷ কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ৷ কাঠড়ায় নবম ও দশম শ্রেণির ইতিহাসের শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের মে‌ধা তালিকায়৷

অভিযোগ, সম্প্রতি এসএসসির ওয়েবসাইটে মেধা তালিকায় প্রকাশ করা হয়৷ তখন যে র‌্যাঙ্ক দেখানো হয়েছি, গত ৩০ এপ্রিলের পর রারাতারাতি হঠাৎ সেই র‌্যাঙ্ক পরিবর্ত হয়ে যায়! আর তাতেই বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী তিন চারটি ধাপ পিছিয়ে পড়েন৷ তিনেক প্রার্থীর নাম চলে এসেছে তালিকার উপরের৷ রাতারাতি র‌্যাঙ্কে পড়ে যাওয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগে সরব হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ৷ হঠাৎ কী বদলে গেল র‌্যাঙ্ক?

নদিয়ার রানাঘাটের এক প্রার্থী জানান, মেধা-তালিকায় তাঁর র‌্যাঙ্ক ছিল ১১০। তিনি ৩০ এপ্রিল এসএসসি-র ওয়েবসাইট খুলে দেখেন, তাঁর র‌্যাঙ্ক তিন ধাপ পিছিয়ে গিয়ে হয়েছে ১১৩। একই অভিযোগ আরও এক চাকরিপ্রার্থীর৷ মেধা-তালিকায় তাঁর র‌্যাঙ্ক ছিল ১০৩। সেটা নেমে গিয়েছে ১০৬-এ৷ প্রার্থীরা জানান, ২০১৬ সালে তাঁরা পরীক্ষা দিয়েছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার পরে দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে তাঁরা এখন চতুর্থ কাউন্সেলিং পর্যন্ত পৌঁছেছেন। চতুর্থ দফার কাউন্সেলিং হওয়ার কথা লোকসভা ভোটের পরেই। তার আগে এই ভাবে র‌্যাঙ্ক পাল্টে যাওয়ায় কমিশনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চারকিপ্রার্থীদের একাংশ৷

তালিকায় বিভ্রাটের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে কমিশন৷ জানানো হয়েছে, যে-ক’জন প্রার্থীর নাম মেধা-তালিকায় উপরে আনা হয়েছে, তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টে তাঁদের র‌্যাঙ্ক রিভিউয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন৷ রিভিউয়ে দেখা যায়, ওই প্রার্থীদের র‌্যাঙ্ক উপরের দিকে উঠে এসেছে৷ ফলে, এই ঘটনা বলেও সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন এসএসসি চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার৷

এবিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘এই পরীক্ষার জন্য ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন যে গেজেট প্রকাশ করেছিল তাতে পরিষ্কার লেখা আছে, এই পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোনও রিভিউ হবে না। কিন্তু কোন চাকরি প্রার্থী যদি তার ব়্যাঙ্ক যদি সন্তুষ্ট না হন কোর্টে যান এবং সেখানে তার ব়্যাঙ্ক এগিয়ে আসে তাহলে কমিশনের উচিত তাঁকে বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের ব্যবস্থা করা। কিন্তু আদালতের নির্দেশ মানতে গিয়ে কমিশন যেভাবে রাতারাতি মূল ওয়েটিং লিস্ট পরিবর্তন করল তা এক প্রকার স্ববিরোধী। এভাবে বারবার ব়্যাঙ্ক বিভ্রাটের ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার স্কুল সার্ভিস কমিশনের উপরে আস্থা হারাচ্ছে৷’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here