কলকাতা: অশান্ত বাংলা৷ তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ পরিবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আগামী ২৪ ঘণ্টার পর বাংলার ৯ কেন্দ্রে ভোট প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি জাতীয় নির্বাচন কমিশন৷ আগামী বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর কোনও রাজনৈতিক দল দমদম, বারাসত, বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় ভোটের প্রচার করতে পারে না বলে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ আগামী ১৯ মে শেষ দফার ভোট৷ তার আগে এই নির্দেশে বেশ বিপাকে শাসক-বিরোধী শিরির৷ ১৭ তারিখ ছিল শেষ প্রচার৷ কিন্তু, বাংলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ভোটের প্রচার একদিন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিশনের৷

অন্যদিকে, মমতা ‘ঘনিষ্ঠা’ স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরাল নির্বাচন কমিশন৷ অপসারিত এডিজি সিআইডি রাজীব কুমার৷ আপাতত তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে৷ শেষ দফার ভোটের আগে স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে সরানোর নির্দেশ কমিশনের৷ স্বরাষ্ট্রসচিবের কাজ দেখবেন মুখ্যসচিব৷ রাজীব কুমারকেও নিজের পদ থেকে সরিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্ট করাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে কমিশনের তরফে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য মুখ্য নির্বাচন অফিসারের কাজে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তিনি চিঠি লিখে মুখ্য নির্বাচন অফিসারকে কিছু ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। তাঁর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিব পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রসচিব নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে আবেদন করেছিলেন, কুইক রেসপন্স টিমে যেন রাজ্য পুলিশকে রাখা হয়৷ তারপরই আজ স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন৷

স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যের পাশাপাশি অপসারিত হয়েছেন রাজীব কুমার৷ বুধবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে দিল্লিতে সকাল ১০টার সময় রিপোর্ট করতে হবে। তাঁকে যুক্ত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। ফলে বাংলা থেকে সোজা দিল্লি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজীব কুমারকে৷

অমিত শাহের রোড-শোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের পর আজ জরুরি বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন৷ মঙ্গলবার রাতের ঘটনা বিস্তারিত জানতে ও সংঘর্ষ পরবর্তী পরিস্থিতি পদক্ষেপ নিতেই এই বৈঠক করে কমিশন সূত্রে খবর৷ তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনার পর রাজ্যের সিও দপ্তরের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন৷ সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আজ সিও দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে কমিশন৷ তারপরই এই সিদ্ধান্ত৷

Loading...
Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here