নয়াদিল্লি: কখনও ভাজা, কখনও ভাপা, কখনও বা স্রেফ কালোজিরে দিয়ে ট্যালট্যালে ঝোল। মেছো বাঙালির বর্ষা-ভোজে ভাতের পাতে রুপোলি-সঙ্গ মাস্ট। পকেট বুঝে বড়-মেজো-খোকা, যা মেলে, আদর করে তা-ই ঘরে তোলে শহর কলকাতা। আটপৌরে পদগুলো তো রয়েছেই। পাল্লা দিয়ে চলছে ইলিশ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষাও। তারই জেরে সরষে বাটা আর কাঁচা লঙ্কার বাইরে ক্রমেই হাত-পা ছড়াচ্ছে বাঙালির ইলিশ-সংস্কৃতি। কিন্তু চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত জোগান কই? যতটুকু মেলে আকাশছোঁয়া দামে হাত পোড়ে ক্রেতাদের। এবার সেই চাহিদা পূরণে কোমর বেঁধে নেমেছে সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউ (সিআইএফআরআই)।

কোলাঘাট, ডায়মন্ডহারবার, দিঘা, রায়দিঘির পর এবার ফরাক্কা। ইলিশের সঙ্গে সমার্থক হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের এই নতুন এলাকা। বছর তিনেক আগের কথা। ২০১৬ সালের জুন মাস। মায়ানমার থেকে সাঁতরে আসা ৪ কেজি ওজনের ইলিশ হাওড়ায় বিক্রি হয়েছিল ২২ হাজার টাকায়। গঙ্গায় সাধারণত এত বড় ইলিশ এখন আর ধরা পড়ে না। মায়ানমার থেকে ভেসে আসা সেই ইলিশ জালে বেধে যাওয়ায় তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন মৎস্যজীবীরা। অথচ, সত্তরের দশকে ফারাক্কা বাঁধ তৈরির আগে বাংলাদেশ থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত অবাধ বিচরণ ছিল ইলিশের। ভরা মরশুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ঢুকত মাঝ গঙ্গায়ও। ফারাক্কা বাঁধ তৈরির পর থেকে ইলিশের সেই চলাচলের পথ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউ (সিআইএফআরআই)।

গবেষণার রিপোর্ট বলছে, সমুদ্র থেকে ভাগীরথীতে ঢুকে ফারাক্কা ব্যারেজ টপকে গঙ্গার উজানে ইলিশ আর ঢুকতে পারে না। যেটুকু বিক্ষিপ্ত ভাবে পাওয়া যায়, তা পদ্মার ইলিশ। অথচ, ফারাক্কা ব্যারেজ চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত এলাহাবাদের কাছে এক মরশুমে গঙ্গায় ৪৮ টন পর্যন্ত ইলিশ ধরা পড়েছিল। ২০০৮ সালে সেটাই দাঁড়ায় ০.৪ টনে। এখন তো আরও কম। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে গবেষকরা তৈরি করে ফেলেছেন বিশেষ ইলিশ করিডর। প্রজনন মরশুমে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত রাখতে ফারাক্কা বাঁধের নেভিগেশন লকটির নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মৎস গবেষকরা যে বিশেষ ইলিশ করিডর তৈরি করেছে, তা আগামী জুন মাস নাগাদ চালু হওয়ার কথা। আর তা চালু হলে প্রায় ৪০ বছর পর আসন্ন বর্ষার মরশুমে ফের এলাহাবাদের গঙ্গায় দেখা মিলতে পারে ইলিশ মাছের।

Loading...
Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here