কলকাতা: কৃষকের আয় বছরে ২লক্ষ ৯০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অথচ রাজ্যের স্কুলছুট সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের বিরাট অংশ কৃষিজীবী পরিবারের৷ কেন্দ্রীয় সরকারের সমীক্ষা রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।

রাজ্যে প্রায় এক কোটি কাজ, চাকরি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এই দাবিও করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভ কাউণ্সিলের ওই সমীক্ষা রিপোর্ট জানিয়েছে, পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে যে পরিবারগুলির সন্তান, তাঁদের সিংহভাগ গ্রামীণ শ্রমজীবী, দিনমজুর। না হয় খেতমজুর। এবিষয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা বিধানসভায় বললেন, ‘‘লক্ষ্মী ভাই, আমি কিছু জানি না। আমি রিপোর্টটি দেখিওনি।’’

স্কুল ছুটের কারণ চিহ্নিত করতে গিয়ে ‘স্টাডি টু ফাইন্ড আউট দ্য রিজনস ফর হাই ড্রপ আউট রেটস অ্যামঙ অল মাইনরিটি কমিউনিটি’ নামের এই সমীক্ষায় ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দারিদ্র তো বটেই, কাজের খোঁজে অন্যত্র যাওয়ার প্রবণতা বাড়াও গরিব সংখ্যালঘু পরিবারগুলির শিশু কিশোরদের স্কুল ছেড়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ওই কমিটির ৯দফা পর্যবেক্ষণে লেখা হয়েছে৷ কাজের খোঁজে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসছে অনেক পরিবার। তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েরা হারাচ্ছে স্কুলের আঙিনা। কৃষি সংকট, কাজের অভাবে বিধ্বস্ত হচ্ছে আগামী প্রজন্ম। তাদের একটি বড় অংশ সংখ্যালঘু।

রিপোর্ট বলছে, ২০১৬-র থেকে ২০১৭-তে মালদহে প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র কমেছে ৮শতাংশ। ছাত্রী কমেছে ৪ শতাংশ। ওই জেলায় উচ্চ প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র এবং ছাত্রী কমার হার যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ৬ এবং সাড়ে ৪ শতাংশ। মুর্শিদাবাদে ওই দুই বছরের তুলনামূলক ছবি বলছে ছাত্র কমেছে ১১ শতাংশ এবং সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি। উত্তর দিনাজপুরে প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র কমেছে ওই সময়ে প্রায় ৭ শতাংশ। ছাত্রী কমেছে ৮শতাংশের বেশি। ওই জেলায় উচ্চ প্রাথমিকে ছাত্রী এক বছরে কমেছে প্রায় ৩শতাংশ। সামগ্রিকভাবে উত্তর দিনাজপুরে সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্কুলছুটের হার ১৬শতাংশ পর্যন্ত আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here