কলকাতা: বিশেষ বিধি কাজে লাগিয়ে কলেজ সার্ভিস কমিশনকে প্রকারান্তরে এড়িয়ে রাজ্যের কলেজগুলিতে গ্রুপ-সি ও ডি কর্মী নিয়োগ হচ্ছে। এমনই অভিযোগ উঠল কলকাতা হাইকোর্টে। অভিযোগের গুরুত্ব গুরুতর হওয়ায় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি প্রতীকপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই প্রসঙ্গে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন সেই ব্যাখ্যা পেশ হবে।
সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কলেজে শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় ২০১৭ সালের ডব্লু বি ইউনিভার্সিটিস অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যাক্ট অনুযায়ী। ওই আইন অনুযায়ী রাজ্যে হায়ার এডুকেশন, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি দপ্তর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট একটি নির্দেশিকা জারি করে। যা আদালতে পেশ করে মামলাকারী শম্ভুনাথ পায়রা’র আইনজীবী সৌমেন দত্ত দাবি করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করেনি। এই বছরের ২০ মার্চ একটি বাংলা এবং ২১ মার্চ এক ইংরেজি সংবাদপত্রে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। কিন্তু, ২৪ মে ফের একই কারণে বিজ্ঞাপন দেয় কলেজের পরিচালন কমিটি। পাঁচটি গ্রুপ-ডি শূন্যপদের জন্য এমন বিজ্ঞাপন দেওয়ায় প্রায় ৮০০ আবেদনপত্র চলে আসে। প্রথম শুনানির দিন নির্বাচন প্রক্রিয়ার নথি পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল বেঞ্চ। যে নথি আদালতে এলেও পরিচালন কমিটি কেন দ্বিতীয় বার বিজ্ঞাপন দিল, সেই সিদ্ধান্তের নথি পেশ হয়নি। সেই কারণে, ১৬ জুলাই বেঞ্চ নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর যে স্থগিতাদেশ জারি করেছিল, তা বহাল থেকে যায়। ৩০ আগস্ট রাজ্যের তরফে আদালতে ডিপিআই-এর সিদ্ধান্ত পেশ হয়। দেখা যায়, ওই সরকারি আমলা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিভিন্ন শিক্ষাকর্মী পদে নিয়োগের জন্য কালনা কলেজ যে প্যানেল বানিয়েছিল, তা অনুমোদনযোগ্য নয়। বেঞ্চ তার রায়ে জানায়, কলেজের দ্বিতীয় বিজ্ঞাপনের গ্রহণযোগ্যতা ডিপিআই পরীক্ষা আদৌ করেছেন কি না, তার ব্যাখ্যা নেই। সেই বক্তব্য পরবর্তী শুনানির দিন পেশ করতে হবে।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here