কলকাতা : ‘ভারতী ঘোষ আমার ঘনিষ্ঠ ছিলেন না ৷ ভারতী ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন’, বলে আজ শুক্রবার দাবি করেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়’ ৷ তিনি বলেন, ‘আমি রাজ্যে সবথেকে বেশি পুলিশ করেছি ৷ সব থেকে বেশি কথা হয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের সঙ্গে ৷ বেশি কথা বলেছি রাজ্যের ডিজিপি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থের সঙ্গে ৷ তাই বলে কি তাঁরা আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ’?

তার মতে, এই সরকার প্রতিহিংসা পরায়ণ ৷ কাজ ফুরোলেই ছুড়ে ফেলে দেয় ৷ বিমল গুরুঙের ক্ষেত্রেও তাই করেছে ৷ যাঁকে, তাঁকে গ্রেফতার, মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে ৷ এটা দুর্ভাগ্যজনক ৷ ২০১১ থেকে ২০১৭ টানা ৬ বছর পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব সামলেছেন ভারতীদেবী ৷ অতিরিক্তি দায়িত্ব হিসেবে ঝাড়গ্রামও সামলেছেন তিনি ৷ তাঁর নেতৃত্বেই ঝাড়গ্রামের জামবনির বুড়িশোলের জঙ্গলে মাওবাদী নেতা মাল্লেজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজিকে এনকাউন্টারে নিকেশ করেছিল রাজ্য পুলিশ ৷ অচিরেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট ৷ খোদ সরকারি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ‘মা’ বলে সম্বোধন করতেন তিনি । এক সময় পশ্চিম মেদিনীপুরের শাসকদলের মাথাও হয়ে উঠেছিলেন ভারতী ঘোষ ৷ সেই সময় তিনি মুকুল রায়েরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেই অভিযোগ ছিল ৷

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই ঘনিষ্ট সম্পর্কের তাল কাটে মুকুল রায়ের বিজেপি যোগদান, ও সবংয়ের উপ নির্বাচলের সময় ৷ সেসময় পূর্ব মেদিনীপুরের এক দাপুটে তৃণমূল নেতা ভারতীদেবীর বিরুদ্ধে সবং নির্বাচনে মুকুল রায়ের জন্যই বিজেপিকে সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ৷ গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে আচমকাই ব্যারাকপুরে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের তৃতীয় ব্যাটেলিয়নের কম্যান্ডিং অফিসারের পদে বদলি করা হয় ভারতীকে । প্রশাসনিক এই সিদ্ধান্তের পর ‘অপমানিত’ ভারতী নিজেই ডিজির কাছে ইস্তফা পত্র পাঠিয়ে দেন । এসম্পর্কে অবশ্য প্রকাশ্যে কখনই মুখ খোলেননি তিনি । রাজ্য সরকার সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণও করে নেয় । নবান্ন শুধু সেখানেই থেমে থাকেনি । প্রাক্তন পুলিশ সুপারের ঘনিষ্ঠ বেশির ভাগ পুলিশ কর্তা বা কর্মীকেই বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে দেওয়া হয় ।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here